বন্যায় ভেসে গেছে কালভার্ট

চন্দনাইশের সড়কে ক্ষত

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৮

চন্দনাইশের সড়কে ক্ষত

   শহীদ উদ্দীন চৌধুরী, দক্ষিণ চট্টগ্রাম

টানা বর্ষণ ও পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলে চন্দনাইশ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময়ে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের সড়কের কালভার্ট পানির তোড়ে ভেঙে ভেসে গেছে। এতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বেশ কয়েকটি গ্রাম।

গত ২ ও ৩ জুলাইয়ের অবিরাম বর্ষণে উপজেলার সাতবাড়িয়া, হাশিমপুর, বৈলতলী, বরমা, দুর্গম পাহাড়ি জনপথ ধোপাছড়ি ইউনিয়ন, চন্দনাইশ পৌরসভা ও দোহাজারী পৌরসভার প্রায় প্রত্যেকটি গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি সড়কগুলোর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বেশিরভাগ সড়কের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে সড়কের কালভার্টও ভেঙে ভেসে গেছে। কয়েকটি গ্রাম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় এসব এলাকার জনগণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ধোপাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ধোপাছড়ি ইউনিয়নের ধোপাছড়ি বাজার থেকে শান্তির বাজার পর্যন্ত সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সড়কের একটি কালভার্ট পানির তোড়ে ভেঙে গেছে। এ ছাড়া শান্তিরবাজার থেকে ত্রিপুরাপাড়া সড়কের অধিকাংশ ব্রিকসলিন সড়ক ভেঙে গেছে এবং একটি বক্স কালভার্ট ধসে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পুরো ইউনিয়নের বেশিরভাগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উলেল্গখ করে ইউপি সদস্য জয়নাল বলেন, বর্তমানে সমগ্র ইউনিয়ন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। একইসঙ্গে ইউনিয়নের অধিকাংশ মাছের খামার ও ফসলের ক্ষেত পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে গেছে।

সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ আহমদুর রহমান জানান, দেওয়ানহাট-সাতবাড়িয়া-বৈলতলী সড়কের মহুরীহাট এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে বৃষ্টি ও ঢলের পানি প্রবাহিত হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন স্থান ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে। নাজিরহাট বৌদ্ধবিহার থেকে চন্দনাইশ পৌরসভা পর্যন্ত ইন্দ্রকুমারী সড়কটির বেশি ক্ষতি হয়েছে। গত দু'দিন সড়কটি পানির নিচে ডুবে ছিল বলে জানান তিনি।

সাবেক দোহাজারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুলল্গাহ আল নোমান বেগ জানান, দোহাজারী পৌরসভার দোহাজারী-চৌকিদার ফাঁড়ি সড়ক, দোহাজারী-জামিজুরী সড়ক, দোহাজারী-চাগাচর সড়ক, বারুদখানা সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় সড়কগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হাশিমপুর ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীরুল ইসলাম চৌধুরী।

চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, শুকনো মৌসুমে একটি প্রভাবশালী মহল নির্বিচারে পাহাড় কেটে মাটি নিয়ে যাওয়ায় প্রবল বর্ষণে পানির স্রোতের তোড়ে নেমে এসে মরাছড়া নামের খালটি ভরাট হয়ে গেছে। অপরিকল্পিতভাবে গাছবাড়িয়া খানহাট এলাকায় প্রভাবশালীরা মার্কেট গড়ে তোলায় খানহাট এলাকার শত শত দোকানপাট, স্থাপনা ও ঘরবাড়ি সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায়।

চন্দনাইশ উপজেলা প্রকৌশলী বিলল্গাল হোসেন অব্যাহত বর্ষণের কারণে উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে কমবেশি গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, 'ইতিমধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা বেশিরভাগ ইউনিয়নে পরিদর্শন করে ক্ষতি নিরূপণের বিষয়টি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। একইভাবে ধোপাছড়ির ভেসে যাওয়া কালভার্টগুলোসহ ভেঙে যাওয়া সড়ক দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য