মাটি ভরাটের জন্য স্লুইসগেট বন্ধ

মাতারবাড়ীতে সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি ৫০০ পরিবার

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৮

মাতারবাড়ীতে সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি ৫০০ পরিবার

   মোহাম্মদ শাহাব উদ্দীন, মহেশখালী থেকে

মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের ৫ শতাধিক বেশি পরিবারের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি রয়েছেন। মাতারবাড়ীতে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে মাটি ভরাটের কারণে সব স্লুইসগেট ও চিংড়ি ঘেরের পলবোট ছিল বন্ধ করে দেওয়ায় এই সমস্যা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। পানি নিস্কাশনের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পুরো মাতারবাড়ীতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ৫ শতাধিক পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন।

কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে উচ্ছেদ হওয়া ৪৫ পরিবারের সমন্বয়ক মোহাম্মদ আলী বলেন, 'মাতারবাড়ীতে বড় বড় দুটি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ২ হাজার ৬০০ একর জায়গা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন এলাকাবাসী। তাতে প্রধানমন্ত্রীও খুশি হয়েছেন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ীর মানুষকে সব ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুযোগ দিলেও এক শ্রেণির দালাল সাধারণ জনগণকে অধিকার বঞ্চিত করে নিজেদের পকেট ভারী করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত ঈদে প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ীর জন্য সাড়ে তিন হাজার পরিবারের জন্য ৩ হাজার টাকা করে শুভেচ্ছা উপহার পাঠালেও ক্ষতিগ্রস্ত ও উচ্ছেদকৃত ৪৫ পরিবারের সদস্যরা তা পায়নি।'

মাতারবাড়ী সাইরার ডেইল এলাকার ইউপি সদস্য ও মানবাধিকার সুরক্ষা কর্মী হামেদ হোসাইন বলেন, 'মাতারবাড়ীর মানুষের কষ্ট দেখার কেউ নেই। পানিবন্দি হয়ে পড়ায় টয়লেট ব্যবহার ও নলকূপের পানি পান করতে পারছেন না তারা। ফলে ডায়রিয়াসহ নানা রোগ দেখা যাচ্ছে।' তিনি আরও বলেন, গত গ্রীষ্ফ্ম মৌসুমে সাগরের পানি লবণ মাঠে দিতে না পারায় শত শত একর লবণ মাঠ চাষ করতে পারেননি স্থানীয়রা। চলতি বর্ষায় বৃষ্টির পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এখন মাতারবাড়ীতে বন্যায় ২০ হাজার নারী-পুরুষ এক মাস ধরে পানিবন্দি হয়ে দিন কাটাচ্ছেন।'

মাতারবাড়ী সাইরাডেইল এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত হাবিব উলল্গাহ বলেন, তাদের দ্রুত পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলে উচ্ছেদ করা হলেও প্রশাসন বা প্রকল্পের লোকজন এক টাকার সাহায্যও করেনি। এখন পানিবন্দি হয়ে পড়ায়বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। তিনি বলেন, 'কোল-পাওয়ার কর্তৃপক্ষ পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না করে মাটি ভরাট করায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।'

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মাতারবাড়ী দক্ষিণ রাজঘাট, সাইরার ডেইল ও ফুলজান মোরা এলাকার মানুষের কষ্ট আর স্কুল মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। এমনকি রান্নাবান্না করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। রাঙ্গাখালী বাঁধের ওপর কোল-পাওয়ার কর্তৃক স্লুইসগেট নির্মাণের বরাদ্দ হলেও বর্ষার পানি বেড়ে যাওয়ায় তা আর নির্মাণ করা যাচ্ছে না বলে জানান স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উলল্গাহ। তবে আপাতত পানি নিস্কাশনের জন্য শিগগিরই পলবোটের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম মাতারবাড়ীতে পানিবন্দি মানুষের কষ্ট দূর করতে কাজ শুরু করা হবে বলে জানান।

মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সংসদ সদস্য আশেক উলল্গাহ রফিক বলেন, 'মাতারবাড়ীর মানুষের জন্য সরকার আন্তরিক। তাদের ক্ষতিপূরণসহ সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। পানি নিস্কাশনের জন্য মাতারবাড়ীর জমির মালিকদের সাথে কথা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে নতুনভাবে খাল খনন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য