জেএসসির প্রস্তুতি

বাংলা প্রথম পত্র

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯

বাংলা প্রথম পত্র

  মো. সুজাউদ দৌলা, সহকারী অধ্যাপক, (বাংলা) রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ তোমাদের বাংলা প্রথম পত্র বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করা হলো।


গদ্য : বাংলা ভাষার জন্মকথা (প্রবন্ধ)


প্রশ্ন ১. সংস্কৃতকে কেন উঁচু শ্রেণির ভাষা বলা হয়েছে? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর : সনাতন ধর্মের চারটি শ্রেণির মধ্যে প্রথম শ্রেণি অর্থাৎ ব্রাহ্মণরাই কেবল সংস্কৃত ভাষা ব্যবহার করতে পারতেন। তাই সংস্কৃতকে উঁচু শ্রেণির ভাষা বলা হয়েছে। সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়েছে নানা ধর্মগ্রন্থ। তাই বলা হয়েছে, এ ভাষা অত্যন্ত পবিত্র। সে কারণে এ ভাষার মৌখিক রূপ ছিল না। আবার ব্রাহ্মণরা সমাজের উঁচু শ্রেণি ছিল বলে কেবল তাদেরই অধিকার ছিল এ ভাষায় লেখার। তাই সংস্কৃতকে উঁচু শ্রেণির ভাষা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন ২. 'মানুষের মুখে মুখে বদলে যায় ভাষার ধ্বনি।' বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর : উচ্চারণগত পার্থক্যের জন্যই মানুষের মুখে মুখে ভাষার ধ্বনি বদলে যায়। অঞ্চলভিত্তিক ভাষায় ধ্বনিগত পার্থক্য লক্ষ করা যায়। একেক অঞ্চলে একটি শব্দকে একেকভাবে উচ্চারণ করা হয়। এর কারণ, মানুষের উচ্চারণগত পার্থক্য। এ পার্থক্যের জন্যই মানুষের মুখে মুখে বদলে যায় ভাষার ধ্বনি।

প্রশ্ন ৩. সংস্কৃত ভাষা বলতে কী বুঝ?

উত্তর: যিশু খ্রিষ্টের জন্মের ৪০০ বছর আগে উঁচু শ্রেণির মানুষ লেখার জন্য যে বিধিবদ্ধ, পরিশীলিত ভাষা ব্যবহার করতেন তাকেই বলা হয় সংস্কৃত ভাষা। ভারতীয় আর্যভাষার প্রাচীন রূপ পাওয়া যায় ঋজ্ঞ্বেদের মন্ত্রগুলোতে। বেদের শ্নোকগুলো পবিত্র মনে করে মানুষ সেগুলো মুখস্থ করে রাখত। এভাবে শতাব্দীর পর শতাব্দী মানুষের ভাষা বদলে যেতে থাকে। এক সময় বেদের ভাষা মানুষের কাছে দুর্বোধ্য হয়ে উঠতে থাকে। তখন ব্যাকরণবিদ পাণিনি নানা নিয়ম প্রণয়ন ও সংস্কার করে তৈরি করেন একটি মানসম্পন্ন ভাষা। এই ভাষাই হলো সংস্কৃত ভাষা।

প্রশ্ন ৪. প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা সম্পর্কে লেখ।

উত্তর: ভারতীয় আর্যভাষার দুটি স্তরকে একত্রে বলা হয় প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা। ভারতীয় আর্যভাষার প্রথম স্তর হলো বৈদিক বা বৈদিক সংস্কৃত। খ্রিষ্টপূর্ব ১২০০ অব্দ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০ অব্দ পর্যন্ত এ ভাষার কাল। তারপরের স্তরটি হলো সংস্কৃত। খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০ অব্দের দিকে এটি সম্ভবত বিধিবদ্ধ হতে থাকে এবং খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০ অব্দের দিকে ব্যাকরণবিদ পাণিনির হাতেই এটি চূড়ান্তভাবে বিধিবদ্ধ হয়। আর এই বৈদিক ও সংস্কৃত মিলেই প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার পরিচিতি।

প্রশ্ন ৫. অনেকে সংস্কৃতকে বাংলা ভাষার জননী বলেছেন কেন?

উত্তর :সংস্কৃত ভাষার অনেক শব্দ বাংলা ভাষায় ব্যবহূত হয় বলে অনেকে সংস্কৃতকে বাংলা ভাষার জননী বলেছেন। এক সময় মনে করা হতো, সংস্কৃত ভাষা থেকে জন্মলাভ করেছে বাংলা ভাষা। কারণ ভারতবর্ষে এক সময় ব্যবহূত হতো সংস্কৃত ভাষা। যার ফলে সংস্কৃত ভাষার অনেক শব্দ বাংলা ভাষায় ঢুকে যায়। এ কারণে অনেকে সংস্কৃতকে বাংলা ভাষার জননী বলেছেন। ইউরোপ ও এশিয়ার কিছু ভাষার ধ্বনিতে, শব্দে গভীর মিল লক্ষ্য করা যায়। ধারণা করা হয়, এ ভাষাগুলোর মূল বংশ ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা বংশ। পশ্চিম ইউরোপ এবং ভারত ও বাংলাদেশের বেশ কিছু ভাষায় লক্ষ্য করা যায় গভীর মিল। এদের ধ্বনিতে, শব্দে অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। তাই ভাষাতাত্ত্বিকরা মনে করেন, এ ভাষাগুলো একই উৎস থেকে জন্ম লাভ করেছে। তারা এ উৎস তথা বংশের নাম দিয়েছেন ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা বংশ, ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা বংশের অনেক শাখা রয়েছে। এদের মধ্যে একটি হলো প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা।


মন্তব্য