পড়ার বিষয়

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট

   তারিক হাসান

বর্তমানে দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা প্রায় ১০০টি। রাজধানীসহ সারাদেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা শহরে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি রয়েছে। আরও রয়েছে প্রায় ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক। আবার নতুন নতুন চিকিৎসাসেবার প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এখানে রোগীর বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন পড়ছে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের নানাভাবে সহযোগিতা করার জন্য সহকারীর প্রয়োজন হচ্ছে। এরাই বর্তমানে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নামে পরিচিত। প্রতিনিয়তই বাড়ছে এসব টেকনোলজিস্টের চাহিদা। চাহিদার কথা মাথায় রেখে আপনিও এই পেশায় গড়তে পারেন নিজের ক্যারিয়ার। এ পেশায় আসতে হলে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ওপর চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স করতে হবে। এখন বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত কমবেশি ২৩৮টি মেডিকেল টেকনোলজি প্রতিষ্ঠান আছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ভালোভাবে খোঁজখবর নিয়ে ভর্তি হতে পারেন। ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজির ওপর এসব কোর্স করতে চার বছরে এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা খরচ হবে। প্রতিষ্ঠানভেদে এসব কোর্স করতে খরচটা আলাদা হয়ে থাকে। আর ডিপ্লোমা কোর্স করার পর মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা, যেমন- বিএসসি ইন মেডিকেল টেকনোলজি, বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি, বিএসসি ইন রেডিওলজি ইত্যাদি কোর্স করা যায়।

এ ক্ষেত্রেও সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে পড়ার সুযোগ আছে। মেডিকেল টেকনোলজির শিক্ষা দেয় এমন প্রতিষ্ঠানগুলোতে কয়েকটি বিষয়ে ডিপ্লোমা করা যায়। ল্যাবরেটরি মেডিসিন বা প্যাথলজি, ডেন্টাল, ফার্মাসি, ফিজিওথেরাপি, নার্সিং, রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং, প্যারামেডিকেল, অপটিক্যালরিফ্রেকশন ইত্যাদি। আর এর জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা যে কোনো বিভাগ থেকে জিপিএ ২.৫সহ এসএসসি পাস। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের মেডিকেল উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স (বিমস) চেয়ারম্যান ডা. এমএ বাসেদ বলেন, আমাদের দেশে যে হারে হাসপাতাল বা ক্লিনিক বাড়ছে, সে তুলনায় দক্ষ টেকনোলজিস্ট কম। মেডিকেল টেকনোলজির যে কোনো একটি বিষয়ে চার বছরের ডিপ্লোমা করার পর কাউকে বেকার থাকতে হয় না। ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালের সিনিয়র টেকনোলজিস্ট (ল্যাব.) মো. ইউসুফ মিয়া বলেন, 'আমাদের দেশে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের চাহিদাও বাড়ছে। ২০০৯ সালে বিমস থেকে ডিপ্লোমা ইন ল্যাবরেটরি মেডিসিন পাস করেন শিরিন আক্তার। তিনি এখন ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে টেকনোলজিস্ট হিসেবে কর্মরত। তিনি বলেন, একজন ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্টকে রোগীর ডায়াবেটিস, রক্ত, প্রস্রাব, মল ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করার কাজগুলো করতে হয়। রেডিওলজিস্ট ও প্যাথলজিস্টদের অবশ্যই তার কাজে পরিপূর্ণ দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হবে। কারণ, এখানে কোনো রকমের ভুল হলে একজন রোগীর পুরো চিকিৎসাতেই ভুল থেকে যাবে। চিকিৎসকরা তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই রোগীদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এ ছাড়া চিকিৎসকের নানা কাজেও এদের সহযোগিতা করতে হয়। একজন টেকনোলজিস্ট যে কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে কাজ করে শুরুতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতন পেয়ে থাকেন। পরে কাজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বেতনও বাড়তে থাকে।


মন্তব্য