সীমানা পেরিয়ে

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সীমানা পেরিয়ে

   রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ

''সিনেমা ছাড়া এখন অন্য কিছু নিয়ে একদম ভাবছি না।' এটা শুনে একজন প্রশ্ন করেছিলেন, সিনেমা এখন আমার ধ্যান-জ্ঞান হয়ে উঠেছে কি-না? তার উত্তরে বলেছি, 'ধ্যান-জ্ঞানের বিষয় তো একটি দুটি নয়, অনেক আছে। তবে হ্যাঁ, পেশার জায়গা থেকে সিনেমার প্রতি আকর্ষণ অনেক বেড়ে গেছে। সেজন্য আমার নতুন ছবি 'রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত'র প্রচারণায় এত ছোটাছুটি করছি''। রোববার ঢাকা ছাড়ার আগে এ কথাই বলেছিলেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। এই ক'দিন আগেই কলকাতা থেকে তিনি দেশে ফিরেছেন। আবার ছুটলেন সীমানা পেরিয়ে কলকাতায়। তাই ঢাকা ছাড়ার আগে জ্যোতির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য্যের 'রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত' ছবিটি তাকে অনেক আশাবাদী করে তুলেছে কি-না? এর জবাবে জ্যোতির উত্তর, 'রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত'র ট্রেলার, টিজার এবং 'আমার ভুল হয়ে গেছে', 'কি বা তোমার অঙ্গে রাখি', 'আমার একটু শুধু চাওয়া' গানগুলো যেভাবে সাড়া ফেলছে, তা দেখে প্রত্যাশা কিছুটা হলেও বেড়ে গেছে। এর চেয়ে বড় কথা, আমার অভিনয় ক্যারিয়ারের ভিন্নধর্মী ছবি এটি। কলকাতায় অভিনয়ের প্রথম ছবিও রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত। নির্মাতা, সহশিল্পী এবং ছবির সব কলাকুশলী চেষ্টা করেছেন পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার। কিছু কালজয়ী চরিত্র এবং পরিচিত ঘটনাও এতে নতুনভাবে উঠে এসেছে।' জ্যোতিকা জ্যোতির মুখে এ কথা শুনে বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট হলো যে, অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের কাহিনীর সঙ্গে প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য্যের দ্বিতীয় ছবি রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্তর কোনো মিল নেই। ছবির টিজার, ট্রেলার ও গান প্রকাশের পর অনেকের মনে খটকা লেগেছিল, ছবিটি আদৌ শরৎচন্দ্রের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে কি-না? অবশ্য যাদের সবকিছু খুঁটিয়ে দেখার অভ্যাস, তাদের চোখ ফাঁকি দিতে পারেনি ছবির পোস্টারের লেখা একটি লাইন। যেখানে নির্মাতা সরাসরি উল্লেখ করেছেন- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব) উপন্যাসের অনুপ্রেরণায় রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত। জ্যোতির কথায় সে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হলো। শুধু পোস্টার নয়, ট্রেলার, টিজার ও গানের দিকেও মনোযোগ দিতে বলেছেন এ অভিনেত্রী। তাহলেই ছবি নির্মাণ, গল্প বলার ভঙ্গি এবং পাত্রপাত্রীদের অভিনয় সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা পাওয়া যাবে। এও জানা যাবে, নির্মাতা দর্শককে আগেই বলে দিয়েছেন, '১৯১৭ সালে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব) উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। ২০১৮ সালে শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব) উপন্যাসটির কিছু ঘটনা ও চরিত্র নিয়ে নিজেদের মতো করে দেখা ও বোঝার চেষ্টা করলাম।' নির্মাতার এ কথায় বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, পরিচিত কিছু ঘটনা ও চরিত্রকে শতবছর পর নতুন করে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত ছবিতে। সেক্ষেত্রে গল্প, চরিত্র ও নির্মাণ নিয়ে যথেষ্ট নিরীক্ষা হয়েছে বুঝতে কারও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। জ্যোতির এ ছবিটি যে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নির্মিত তার প্রমাণও মিলেছে। তাই ২০ সেপ্টেম্বর সীমানার ওপারে মুক্তি পেতে যাওয়া এই ছবি নিয়ে জ্যোতি আশাবাদী হয়ে উঠবেন- এটাই স্বাভাবিক। তবু একটা কথা থেকেই যায়। কলকাতার এ ছবি ছাড়াও 'আয়না', 'নন্দিত নরকে', 'জীবনঢুলী', 'অনিল বাগচীর একদিন'-এর মতো ভিন্নধর্মী ছবিগুলোয় অভিনয় করে দর্শক প্রশংসা কুড়িয়েছেন জ্যোতি। তারপরও তাকে নাটক, টেলিছবির অভিনয়ে দেখা গেছে। টিভির বিশেষ দিনের আয়োজনে উপস্থাপনাও করেছেন। লাক্স ফটোসুন্দরীর শীর্ষ দশে থাকা এই তারকা শুরুর দিকে মঞ্চেও কাজ করেছেন। কিন্তু এত কিছুর পরও এই সময়ে চলচ্চিত্রকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাহলে কি রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত ছবির কাজের অভিজ্ঞতায় বদলে গেছে জ্যোতির অভিনয়ের চিন্তাধারা? সে প্রশ্ন করতে জ্যোতিকা জ্যোতি বলেন, না, এই ছবিতে অভিনয় করেই আমার অভিনয় নিয়ে চিন্তা-ভাবনা বদলে গেছে, তা নয়। নাটকে অনেকদিন অভিনয় করছি না। কারণ, ভালো গল্প পাইনি। মাঝে চ্যানেল আইয়ের 'গ্রামের নাম সুবর্ণপুর' নাটকের অভিনয় করেছি। এর গল্প ভালো লেগেছে বলেই অভিনয় করেছি। গল্পের চেয়ে যে বিষয়টি আমাকে কাজের বিষয়ে আগ্রহী করেছে, তা হলো নাটক নির্মাণের উদ্দেশ্য। মাতৃত্বকালীন সেবা, মা ও শিশুর পরিচর্যা বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তুলতেই এ নাটকটি নির্মাণ করা হয়েছিল। বিনোদন ছাড়াও দর্শক সচেতনতা গড়ে তুলতেও আমাদের কাজ করা উঠিত- এ কথা ভেবেই এ নাটকে অভিনয় করেছিলাম। কিন্তু অন্য যেসব নাটকে কাজ করার প্রস্তাব পেয়েছি, সেগুলোর গল্প গৎবাঁধা মনে হয়েছে। মনের সঙ্গে জোর খাটিয়ে নাটকে কাজ করতে চাই না। যা ভালো লাগবে তা করতে চাই না। মঞ্চেও মনে হয় না আর কখনও কাজ করা হয়ে উঠবে। বিশেষ দিবসের কিছু টিভি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছি এটা ঠিক। তাই আমাকে উপস্থাপক বলে পরিচয় করিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। অভিনেত্রী হতে চেয়েছি সবসময়। আর অভিনয়ের আত্মতৃপ্তি খুঁজে নিয়ে সিনেমায় নিয়মিত কাজ করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। হোক সংখ্যায় কম, তবু সেই কাজটি করব, যা শিল্পীসত্তাকে খুশি করবে। া


মন্তব্য