অগ্নিঝরা মার্চ

সর্বাত্মক অসহযোগ শুরু

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০১৯

সর্বাত্মক অসহযোগ শুরু

  তোফায়েল আহমেদ

১৯৭১-এর ১০ মার্চ ছিল বুধবার। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে ৭ মার্চে সূচিত পূর্বঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায়ের তৃতীয় দিবস। দেশব্যাপী সর্বাত্মক অসহযোগে কার্যত পুরো দেশ অচল হয়ে পড়েছিল। এদিন রাজধানী ঢাকায় সব সরকারি-আধা সরকারি বিভাগের কর্মচারীরা অফিসে যোগদানে বিরত থাকে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ অনুযায়ী বেসরকারি অফিস, ব্যবসা কেন্দ্র খোলা থাকে। স্টেট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, সরকারি ট্রেজারিসহ বিভিন্ন ব্যাংক বঙ্গবন্ধু ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী খোলা থাকে। স্বাধিকার আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে ঢাকা নগরীর সব বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস, বাসভবন এমনকি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বাসভবন ও রাজারবাগ এলাকায় অবস্থিত পুলিশ বিভাগের অফিসগুলোর শীর্ষে কালো পতাকা উত্তোলিত হয়। নগরীর বিভিন্ন সড়কে সব রকম যানবাহনের সম্মুখে শোকের স্মারক কালো পতাকা ছিল। পুরো ঢাকা নগরী যেন কালো পতাকার শহরে পরিণত হয়েছিল। এদিন নারায়ণগঞ্জের সাব-জেলের ২২৩ জন কয়েদি পলায়নকালে পুলিশের গুলিতে ২ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়। বিগত ৩ ও ৪ মার্চে চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণে যারা আহত হয়েছিল, আজ তাদের মধ্যে এক কিশোর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহীদের মৃত্যুবরণ করে।

এদিন সারাদেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে দেশবাসীকে ওয়াকিবহাল করার অভিপ্রায়ে বঙ্গবন্ধু এক বিবৃতি প্রদান করেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'বাংলাদেশে জনগণের ইচ্ছা-অনিচ্ছাই আজ শেষ কথা। বাংলাদেশের জনগণের নামে আমরা যে নির্দেশ দিয়েছি- সেক্রেটারিয়েটসহ সরকারি ও আধা সরকারি অফিস-আদালত, রেলওয়ে, স্থল এবং নৌ-বন্দরসমূহে তা পালিত হচ্ছে। যারা মনে করেছিল, শক্তির দাপটে আমাদের ওপর তাদের মত চাপিয়ে দেবে, বিশ্বের কাছে আজ তাদের চেহারা নগ্নভাবে ধরা পড়েছে। বিশ্বজনমতের কাছে তারা বাংলার নিরীহ-নিরস্ত্র মানুষের ওপর শক্তির নগ্ন প্রয়োগের যৌক্তিকতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। এতদসত্ত্বেও বিবেকবর্জিত গণবিরোধী শক্তি তাদের সশস্ত্র পথই অনুসরণ করে চলছে। তাদের সমরসজ্জা সমানে অব্যাহত। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সামরিক বাহিনীর লোকজন ও অস্ত্রশস্ত্র আসছে। রাজশাহী ও রংপুরে সান্ধ্য আইন জারি করা হয়েছে। বিনাশী শক্তির এই সমাবেশ ঘটিয়েও মনোবাঞ্ছা তাদের পূরণ হয়নি। তাই ক্ষমতাসীন চক্র এখন বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর মারণ আঘাত হানার চক্রান্তে মেতে উঠেছে। দীর্ঘ ২৩ বছরের ঔপনিবেশিক শোষণের ফলে বিপর্যস্ত অর্থনীতির দেশে জনগণের অর্থনৈতিক দুর্দশার আরও অবনতি ঘটানোর জন্য প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোবৃত্তি নিয়ে আজ তারা এ চক্রান্তে লিপ্ত। সর্বত্র এক ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করে বিদেশি বিশেষজ্ঞগণকেও তারা ভীতসন্ত্রস্ত করে বাংলাদেশ ত্যাগে বাধ্য করছে। সামরিক সজ্জা অব্যাহত রেখে বাংলার বুকে তারা এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়। যাবতীয় কাজকর্ম আজ বন্ধ। এমনকি বন্যাদুর্গত এলাকার রিলিফ ও পুনর্বাসনের কাজকর্মও স্থগিত রয়েছে। ত্রাণ-পীড়িতদের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে যে উদারহস্তের প্রচুর সাহায্য এসেছে বারংবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও আজতক তার হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। জাতিসংঘের মহাসচিব উ থান্ট বাংলাদেশ থেকে জাতিসংঘের কর্মচারীদের অপসারণের অনুমতি দিয়েছেন। সামরিক বাহিনীর লোকেরা বাংলাদেশে বসবাসরত বিদেশিদের জীবন ও ধনসম্পত্তি কতটা বিপন্ন করে তুলেছেন- মহাসচিবের এমন উদ্যোগে তারই স্বীকৃতি মেলে। জাতিসংঘের সদস্যদের বোঝা উচিত যে, কেবল জাতিসংঘের সদস্যদের অপসারণের ব্যবস্থা করলেই তার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। কেননা, যে হুমকি আজ উদ্যত হয়েছে, সে হুমকি গণহত্যার হুমকি। সে হুমকি বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের জন্য। আর তাদের জন্য কোনো ব্যবস্থা না করে তাদেরকে গণহত্যার হুমকির মুখে ফেলে রাখা জাতিসংঘ ঘোষিত মৌলিক মানবাধিকার সনদ লঙ্ঘনের শামিল। মুক্তির লক্ষ্যে পৌঁছে স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে বসবাসের অধিকার অর্জনের জন্য বাংলাদেশের আপামর মানুষ সর্বস্ব পণ করে শেষমুহূর্ত পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যেতে সংকল্পবদ্ধ। তাদের এই উচ্চ মনোবল স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষমাত্রেরই অনুপ্রেরণার উৎস। বাংলাদেশের মানুষ জানে, ইতিহাসের রায় তাদেরই অনুকূলে। ধ্বংসকারী যত অস্ত্রেই সজ্জিত থাকুক না কেন, কোনো শক্তিই আর তাদেরকে চূড়ান্ত বিজয় হতে বঞ্চিত করতে পারবে না।'

উল্লেখ্য, আগের দিন অর্থাৎ ৯ মার্চ জাতিসংঘ মহাসচিব মি. উ থান্ট এক দাপ্তরিক আদেশে ঢাকাস্থ উপ-আবাসিক প্রধান হের কার্লফিৎজ উলফের কাছে প্রেরিত তারবার্তায় বলেন, প্রয়োজন মনে করলে পূর্ব পাকিস্তান থেকে জাতিসংঘের স্টাফ ও তাদের পরিবারের সদস্যবর্গকে অন্যত্র স্থানান্তরের ক্ষমতা প্রদান করেন। অপরদিকে জাপান সরকার ঢাকায় অবস্থিত তাদের ১৫০ জন নাগরিককে স্বদেশে ফেরত নেওয়া এবং জার্মান সরকার তাদের নাগরিকদের ব্যাংককে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এদিন বঙ্গবন্ধু বিদেশি সাংবাদিকদের প্রতি প্রকৃত ঘটনা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে ধানমণ্ডিস্থ বাসভবনে লন্ডন টাইমস পত্রিকার সাংবাদিককে বলেন, 'সাত কোটি বাঙালি আজ তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন এবং যে কোনো মূল্যে এ অধিকার আদায়ে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ পর্যন্ত বাঙালিরা বহু রক্ত দিয়েছে। এবার বাঙালিরা এ রক্ত দেওয়ার পালা শেষ করতে চায়।'

বর্তমান গণবিক্ষোভের কারণ ব্যাখ্যা করে বঙ্গবন্ধু বলেন, '৭ কোটি বাঙালি আজ তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি চায়। এ ব্যাপারে তারা কোনো আপস করতে রাজি নয়। বিগত ২৩ বৎসর যাবৎ এদেশকে শাসক ও শোষক শ্রেণি কলোনি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। বাঙালিরা আজ শাসন ও শোষণের অবসান চায়। খাদ্য সমস্যা সমাধানসহ দেশ ও জনগণের স্বার্থে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও প্রণয়ন করার ক্ষমতা বাঙালিদের নাই। দেশের জনসাধারণ আজ অমানুষিক ও দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। বাংলার মানুষের এসব বিষয় বিশ্ববাসীর নিকট তুলে ধরুন।'

এদিকে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান ও তাহরিখ-ই-ইশতিকলাল পার্টির প্রধান এয়ার মার্শাল (অব.) আসগর খান এদিন করাচীর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। এদিন তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তিনবার দেখা করেন এবং উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একান্তে আলোচনা করেন। ঢাকা ত্যাগের প্রাক্কালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'শেখ মুজিবের ওপর কোনোরূপ দোষ দেবার আমি কোনো কারণ দেখি না। তিনি সঠিক এবং ন্যায্য ভূমিকা গ্রহণ করেছেন। বর্তমান রাজনৈতিক পটভূমিতে এ ছাড়া তার পক্ষে অন্য কোনো ভূমিকা গ্রহণ করা সম্ভব নয়। আমি তার এ অবস্থানকে সমর্থন করি।'

বঙ্গবন্ধুর কর্মসূচির প্রতি আসগর খানের সমর্থনসূচক উক্তিতে পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যান্য নেতাও তাদের মনোভাব প্রকাশ করতে শুরু করেন। এর পর ন্যাপপ্রধান ওয়ালী খান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আগামী ১৩ মার্চ ঢাকা আসার ঘোষণা দেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি বলেন, 'যদি আমরা পরিষদে না যাই, তবে বুঝতে হবে যে, আমরা পরোক্ষভাবে ওইসব শক্তিকেই সমর্থন করছি, যারা নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায় না।' এ সময় তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন, 'ক্ষমতা যাতে হস্তান্তর করা যায়, সে জন্য প্রথমেই আমাদের শাসনতন্ত্র প্রণয়নের চেষ্টা করতে হবে।' অপরদিকে একই দলের নেতা মীর গাউশ বখস বেজেঞ্জো জাতীয় পরিষদ অধিবেশনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ৪টি শর্ত মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি তার বিবৃতিতে বলেছিলেন, 'শেখ মুজিবের প্রস্তাবগুলোয় শুধু পূর্ব পাকিস্তানেই নয় বরং সিন্ধু, সীমান্ত প্রদেশ, বেলুচিস্তান এবং পাঞ্জাবের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষারও প্রতিফলন ঘটেছে। কোনোভাবেই কল্পনা বিলাসের দ্বারা শেখ মুজিবের প্রস্তাবগুলোকে জাতীয় অখণ্ডতা বা সংহতির জন্য ক্ষতিকর বলা যাবে না।' অপরদিকে কাউন্সিল মুসলিম লীগ সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ খান দৌলতানা এক প্রেস বিবৃতিতে বলেন, 'একতরফা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে, প্রেসিডেন্টকে তা শেখ মুজিবের সঙ্গে আলোচনা করে দূর করতে হবে। তাছাড়া সামরিক আইন প্রত্যাহার এবং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দ্রুত ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে হবে।' এ ছাড়াও কাউন্সিল মুসলিম লীগের আরেক বিশিষ্ট নেতা জেডএইচ লারি এক বিবৃতিতে বলেন, 'শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার যে দাবি উত্থাপন করেছেন, তা অবিলম্বে মেনে নেওয়া উচিত।' পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এদিন ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ৪টি শর্ত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। অপরদিকে ঢাকায় ন্যাপ (ভাসানী), ন্যাপ (মোজাফফর)সহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবীদের সংগঠন অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে মিছিল করে ৩২ নং ধানমণ্ডিস্থ বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে এসে মিলিত হতে থাকে। যেন এটাই বাঙালির ঠিকানা।

এদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা হচ্ছে- পূর্ব রাতে ঘোষিত প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সিদ্ধান্তক্রমে 'বেলুচিস্তানের কসাই'খ্যাত জেনারেল টিক্কা খানকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয়। নবনিযুক্ত গভর্নর জেনারেল টিক্কা খানের শপথ গ্রহণের জন্য সরকার কড়া নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাদি অবলম্বন করে। বিকেল ৪টায় গভর্নর হাউসে (বর্তমানে বঙ্গভবন) টিক্কা খানের শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জনাব বদরুদ্দীন আহমদ সিদ্দিকীকে আনতে লোক পাঠানো হয়। কিন্তু বিচারপতি বিএ সিদ্দিকী জেনারেল টিক্কাকে শপথ পাঠ করাতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন এবং টিক্কা খানের শপথ অনুষ্ঠান ভেস্তে যায়। এদিনে দেশবাসীর জন্য এটি ছিল একটি বিজয়ের বার্তা। জনসাধারণ এ ঘটনায় ব্যাপকভাবে উল্লসিত হয়েছিল। এদিন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বঙ্গবন্ধু ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনের প্রতিটি কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এবং তারা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতার সিদ্ধান্তেই অফিস-আদালত চালানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

পরিস্থিতি ক্রমেই এমন উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল যে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী যাতে বাজার থেকে কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করতে না পারে, সে জন্যও জনতা সতর্ক প্রহরা বসিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু ঘোষিত প্রতিদিনের নির্দেশ সংগ্রামী জনতা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে। খুব কাছ থেকে দেখেছি, এ সময়ে বঙ্গবন্ধু ধীরস্থিরভাবে সবার সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিটি নির্দেশ প্রদান করতেন। তিনি যুবসমাজকে সংগঠিত করার জন্য আমাদের ৪ জন শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান, আবদু রাজ্জাক এবং আমাকে দায়িত্ব দেন। ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করার দায়িত্ব দেন স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নূরে আলম সিদ্দিকী, আ স ম আব্দুর রব, শাজাহান সিরাজ এবং আবদুল কুদ্দুস মাখন এই ৪ নেতাকে। আর জাতীয় রাজনৈতিক বিষয়, অসহযোগ আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনা করতেন জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামান সাহেবের সঙ্গে। আইনগত ও সাংবিধানিক বিষয়ে আলোচনা করতেন ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম প্রমুখের সঙ্গে। প্রশাসনিক বিষয়ে আলোচনা করতেন আগরতলা মামলার যারা আসামি সিএসপি আহমেদ ফজলুর রহমান, শামসুর রহমান খান, রুহুল কুদ্দুস, এবিএম মূসা, একেএম আহসানসহ অনেকের সঙ্গে। এ ছাড়া জাতীয় অর্থনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করতেন রেহমান সোবহান, আনিসুর রহমানসহ অন্যদের সঙ্গে। আমার সবাই নিজেদের বিলিয়ে, উজাড় করে দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ পালন করতাম। এভাবেই একটি পরিপূর্ণ টিমওয়ার্কের মধ্য দিয়ে ১৯৭১-এর অসহযোগ আন্দোলনের সংকটকালকে আমরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সফলভাবে অতিক্রম করেছিলাম। বঙ্গবন্ধু সর্বদাই ছিলেন নীতির প্রশ্নে অটল-অবিচল এবং নীতি বা কৌশল প্রণয়নে সবার সঙ্গে আলোচনা করে তবেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন।


মন্তব্য