বাড়ি ভাড়ায় অসহায় ভাড়াটিয়া

প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বাড়ি ভাড়ায় অসহায় ভাড়াটিয়া

  মাহমুদুল হক আনসারী

বাড়ি ভাড়ায় অসহায় ভাড়াটিয়া। প্রতিবছর জানুয়ারি মাস শুরু হলেই জমিদার শ্রেণির মানুষ নতুন করে ভাড়ার অঙ্ক কষে। ক্ষেত্রবিশেষ ৫০০ টাকা থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধির অঙ্কের কথা শোনা যায়। ঢাকাসহ সারাদেশের শহরকেন্দ্রিক সব শহর-উপশহরে এ প্রবণতা লক্ষণীয়। গ্রামগঞ্জ থেকে কাজের সন্ধানে আসা লাখ লাখ কর্মমুখী মানুষ কর্মের কারণে বাসাবাড়িতে থাকতে হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মূল্যও কখনও কখনও লাগামহীন হয়ে যায়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা, তাদের বেতন ভাতা, বোনাসসহ আরও কত আয় হয়। বছর বছর তাদের বেতন ভাতা বোনাস বৃদ্ধি হয়। বেসরকারি চাকরিজীবীদের ওই ধরনের সুযোগ-সুবিধা নেই বললেই চলে। তবুও তাদেরও জীবিকার তাগিদে বাসাবাড়িতে থাকতে হয় জীবন-জীবিকার জন্য। এ সমস্যা সমাধানের কোনো উদ্যোগ রাষ্ট্রের পক্ষে দেখা যায়নি। গত ২৫ বছর রাজধানীতে বাড়ি ভাড়া বেড়েছে প্রায় ৪০০ শতাংশ। অথচ বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণে একটি আইন থাকলেও তার কোনো কার্যকারিতা নেই। এ আইন কিছুটা হলেও কার্যকর থাকলে ভাড়াটিয়া জনগণ উপকৃত হতো। বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯১ কার্যকর করতে ২০১০ সালে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিল। ওই রিটের ওপর ২০১৩ সালের মে মাসে চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়। ২০১৫ সালের ১ জুলাই হাইকোর্ট রায় দেন। বিশেষজ্ঞজনের পরামর্শ হলো, এলাকাভিত্তিক প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সুশীল সমাজসহ কমিটি গঠন করে প্রতিটি এলাকায় বাড়ির মালিকদের নজরদারি করতে হবে। তাদের ঘরের কী পরিমাণ মাসিক, বার্ষিক আয়-ব্যয় নির্ণয় করে ভাড়াটিয়াদের ভাড়া নির্ধারণ হলে এ ক্ষেত্রে নৈরাজ্য কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি অতীব জরুরি হিসেবে রাষ্ট্রকে দেখা উচিত। কর্মমুখী মানুষের সচল ও শক্তি সঞ্চালনের স্বার্থে তাদের অর্থনৈতিক জীবন-জীবিকার স্বার্থ অবশ্যই রাষ্ট্রকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। যেভাবে শহর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন নিজেদের স্বার্থে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ওপর রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগ করে, একই নিয়মে জমিদারদের ভাড়ার বিধান নিয়ন্ত্রণ করলে এ ক্ষেত্রে বিশাল কর্মজীবী শ্রেণি অনেকটা জমিদারি শোষণ থেকে মুক্তি পেতে পারে। ভাড়াটিয়ারা সবসময় শোষিত আর নির্যাতিত। বাড়ির মালিকরা কথায় কথায় ইচ্ছামতো ব্যবহার করে থাকেন ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে। এ ক্ষেত্রে ভাড়াটিয়া ও বাড়ির মালিকদের দ্বিপক্ষীয় শৃঙ্খলাপূর্ণ শর্ত রেখে আইন করতে হবে। তবেই বাড়ির মালিকদের ভাড়া বৃি্‌দ্ধর নৈরাজ্য থেকে কিছুটা হলেও ভাড়াটিয়ারা সুবিধা পেতে পারেন।

চট্টগ্রাম


মন্তব্য

মুক্তমঞ্চ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ