নির্বাচনে উন্নয়নের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হবে

  অসীম কুমার উকিল

প্রধান নির্বাচন কমিশনার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন। বাংলাদেশ এখন নির্বাচনের পথে। দেশজুড়ে নির্বাচনী হাওয়া। সংবাদপত্র, টেলিভিশন, বেতার ও অনলাইনে নির্বাচন নিয়ে সমানে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি এটাও লক্ষণীয়, রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাজ করছে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনগণ সন্তুষ্ট। এ পরিবেশ কেউ যেন বিঘ্নিত করতে না পারে, তার প্রতি নির্বাচন কমিশনের নজর থাকবে, এটা কাঙ্ক্ষিত। তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার কেবল রুটিন কাজ করবে। এ সরকার বিপুল জনসমর্থনপুষ্ট। কিন্তু হাত-পা বাঁধা। তবে এ দিনটির জন্যই তো আমাদের প্রায় পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। সব দলের অংশগ্রহণে আমরা নির্বাচন চেয়েছি। বিএনপি ও তার মিত্ররা ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করেছিল। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে তারা মাঠে নামলেও মূল লক্ষ্য ছিল সরকারের পতন ঘটানো। ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাস ফের তারা সে চেষ্টাই করেছিল- সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো। দু'বারই তারা ব্যর্থ হয়। এর পরের সময়টিতে দেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে স্থিতিশীলতা ছিল। ফলে সরকার উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতি আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারে। এবার এই উন্নয়ন এজেন্ডা নিয়েই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গী করে নির্বাচনে যাচ্ছে।

আজ থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শুরু করবেন। পাশাপাশি জোটভুক্ত দলগুলোর জন্যও আসন ছাড়তে হবে। এসব নিয়ে কয়েকদিন আলোচনা চলবে। কিছু ক্ষেত্রে জট-জটিলতাও যে হবে না, তা নয়। কিন্তু এ নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারি যে, ঐক্যবদ্ধভাবেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়বেন।

কে মনোনয়ন পাবেন, এ সিদ্ধান্ত পার্লামেন্টারি বোর্ডের- যার নেতৃত্বে রয়েছেন দলের সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। এটা এখন জানা যে, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ বিষয়টি সঠিকভাবে অবগত হওয়ার জন্য যেমন দলীয় সূত্রকে ব্যবহার করা হয়েছে, তেমনি কাজে লাগানো হয়েছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পেশাদার সংস্থাকে। আওয়ামী লীগ যেহেতু টানা দশ বছর ক্ষমতায় রয়েছে, সঙ্গত কারণেই প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং অন্যান্য সংস্থা সূত্রেও খবর মিলেছে। তিনশ' আসনের প্রতিটিতেই রয়েছে আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী। এর বাইরে রয়েছেন শরিক দলগুলোর প্রার্থী। সঙ্গত কারণেই মনোনয়ন ঘোষণার পর সম্ভাব্য প্রার্থীদের সবাই সন্তুষ্ট হবেন না। আমাদের ধারণা, এ নিয়ে ক্ষোভ-উত্তেজনা বেশি দূর গড়াবে না। আওয়ামী লীগের মূল শক্তি তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। দলনেত্রী সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন, তার পক্ষে সর্বশক্তি দিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়বেন- সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারি। তবে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তারও চেষ্টা থাকতে হবে কর্মী-সমর্থক এবং বিশেষভাবে জনগণের সমর্থন আদায়ের জন্য।

নির্বাচনের মাঠে অনেকেই থাকবে। তবে বিএনপি ও তার মিত্ররাই যে প্রধান প্রতিপক্ষ, এটা সবার জানা। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুটিই বড় দল। দুটি দলের প্রধান দুই নেতার ওপর কর্মী-সমর্থকদের বিপুল আস্থা। দুই দলের পপুলার ভোটও কাছাকাছি। গণমাধ্যমে এ দুটি দলের প্রার্থীদের প্রায় সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ বাস্তবতায় দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা।

নির্বাচন সামনে রেখে ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের প্রচার-কৌশল চূড়ান্ত হয়েছে। সব ধরনের গণমাধ্যম আমরা এ জন্য কাজে লাগাব। বিশেষভাবে নজর দেওয়া হবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি। ডিজিটাল বাংলাদেশ- এ তো আওয়ামী লীগেরই অনন্য অবদান। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের প্রাক্কালে ঘোষিত কর্মসূচি দশ বছরে এখন গোটা দেশের। এ সুফল বাংলাদেশের নারী-পুরুষ এমনকি শিশুরা ভোগ করছে। গোটা বিশ্ব আমাদের অগ্রগতিতে প্রশংসামুখর। আমাদের তরুণ সমাজ এ সুবিধা কাজে লাগাচ্ছে নিজের জন্য, দেশের জন্য। নির্বাচনে তাদের পক্ষে টানার প্রতিও আমরা বিশেষভাবে মনোযোগী থাকব।

এটা ঠিক যে, সহিংস পন্থায় সরকার উৎখাতে বারবার ব্যর্থতা এবং দলের দুই প্রধান নেতা দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হওয়ার কারণে বিএনপি আগের শক্তিতে নেই। তবে ড. কামাল হোসেনকে সামনে রেখে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা যথেষ্ট চাঙ্গা হয়েছে। তারা শক্তি সংহত করে মাঠে নামার চেষ্টা করবে, এটা আমরা ধরে নিতে পারি। এ দলের কর্মীরা জানে যে, সামনে যত বড় মাপের নেতাই থাকুক না কেন, মিছিল-সমাবেশে তারা তেমন ভূমিকা রাখতে পারবে না। আওয়ামী লীগ এ বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত। ভোটব্যাংক যা আছে, সেটা বিএনপির। তবে সহিংস রাজনীতি করতে গিয়ে বিএনপি অনেকটা জনবিচ্ছিন্ন। তারা মানুষের পাশে নেই। সরকারের ভুল-ত্রুটি ঘটেছে যেখানে, সেটা নিয়ে তারা জনগণের কাছে যায়নি। কেবল মিডিয়ায় থেকেছে। তরুণ সমাজের কাছেও তারা যায়নি। যখন ছাত্ররা কোটা ও নিরাপদ সড়কের ইস্যুতে সরব হয়েছে, তখন বিএনপি ও তার মিত্ররা তার সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চেয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফলভোগী নতুন প্রজন্ম বুঝতে পারছে। আমাদের অবশ্যই নজর রয়েছে ফার্স্টটাইম ভোটারদের প্রতি। তাদের পাশে পেতে দলীয় নেতৃত্ব বিভিন্ন কৌশল উদ্ভাবন করছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে তারাই যে মূল শক্তি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের কারণে ২০ দলীয় জোটের অনেকের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছে, তাদের উপেক্ষা করা হচ্ছে। নির্বাচনের ময়দানে এ বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় থাকবে।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। গত এক দশকে অভাবনীয় উন্নয়ন ঘটেছে তার নেতৃত্বে। দেশ-বিদেশের যেসব 'বিশেষজ্ঞ' মনে করতেন, বাংলাদেশ চিরকাল হতদরিদ্র থাকবে, তিনি তাদের ভুল ভেঙে দিয়েছেন। তিনি কেবল বাংলাদেশের নন, বিশ্বের সর্বত্র সমাদৃত এক নেতা। সদ্য সমাপ্ত রাজনৈতিক সংলাপের পর তার ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়েছে। তিনি সব দলের নেতাদের গণভবনে স্বাগত জানিয়েছেন। সবার কথা শুনেছেন। যারা তার সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র করেছে, এমনকি তাদেরও সুযোগ দিয়েছেন। আমরা জানি, চিকিৎসক যদি আন্তরিকতা ও দরদি মনোভাব নিয়ে কথা বলেন, তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে রোগীর ওপর। শেখ হাসিনার সঙ্গে যারা আলোচনায় বসেছেন, তারা সবাই সন্তুষ্ট হয়েছেন। এমনকি বিরোধীদের কেউ কেউ তাকে দোয়া-আশীর্বাদ করেছেন। সংলাপের মধ্য দিয়ে দেশ-বিদেশে তার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। দেশবাসী তার কাজে সন্তুষ্ট। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার প্রতি বাংলাদেশের জনগণ অকুণ্ঠ সমর্থন জানাবে; আরও উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য ম্যান্ডেট দেবে, উন্নয়নের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হবে- এ প্রত্যাশা করতেই পারি।

সাংস্কৃতিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ


মন্তব্য যোগ করুণ

মুক্তমঞ্চ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ