ঝালকাঠি

জনবল সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে বিদ্যুৎ বিভাগ

মেয়াদ শেষেও নির্মাণ হয়নি সাবস্টেশন, নির্মাণাধীন সাবস্টেশনের শ্রমিক দিয়ে বরিশালে কাজ করানোর অভিযোগ

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৯

জনবল সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে বিদ্যুৎ বিভাগ

   জিয়াউল হাসান পলাশ, ঝালকাঠি

ঝালকাঠিতে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৩৩ কেভি সাবস্টেশনের কাজ ধীরগতিতে চলায় এর কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। আরও আগেই কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। জানা গেছে, বরিশালেও একই সময় সাবস্টেশনের কাজ শুরু হওয়ায় এখানকার শ্রমিক নিয়ে সেখানে কাজ করানো হচ্ছে। ফলে ঝালকাঠির সাবস্টেশনের কাজ নিয়ে দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। অপরদিকে ওজোপাডিকো ঝালকাঠি বিদ্যুৎ বিভাগে জনবল সংকট প্রকট আকার ধারণ করায় গ্রাহকসেবা দিতে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

ওজোপাডিকো সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠি বিদ্যুৎ বিভাগে মোট কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ ৬৭টি। এর মধ্যে ৩৫টি পদই শূন্য। ঝালকাঠির মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা ১৭ হাজার ৫শ'। এই বিশাল গ্রাহকের মিটার রিডারের দায়িত্বে আছেন মাত্র তিন জন। যদিও দৈনিক মজুরি প্রদান হিসাবে আরও দু'জনকে নিয়ে গ্রাহকের বিল কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে জোড়াতালি দিয়ে। একজন মিটার রিডারের দায়িত্বে ১৮শ' মিটার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে ৩ হাজার ৫শ' মিটার রয়েছে। কারিগরি জনবলেও সংকট থাকায় গ্রাহকের তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানে বিলম্ব হচ্ছে। গ্রাহক ও সেবার মান বাড়লেও ঝালকাঠি বিদ্যুৎ বিভাগে জনবল বাড়ানো হয়নি। এ ছাড়া স্টোরকিপারের পদ শূন্য দুই বছর। ঝালকাঠির পাঁচটি ফিডারে পাঁচজন ফিডার ইনচার্জ থাকার কথা থাকলেও আছেন তিন জন। তিন বছর ধরে সহকারী প্রকৌশলীর দুই পদের মধ্যে একটি পদ শূন্য। এসডিই ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করছেন। পাঁচটি কম্পিউটার অপারেটর পদের মধ্যে তিনটি পদ খালি অনেক বছর ধরে। হিসাবরক্ষক পদ খালি দীর্ঘদিন। এ বিষয়ে ঝালকাঠির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, লোকবলের সমস্যা আছে। নিরসনের চেষ্টা চলছে। এ জন্য চাহিদা চেয়ে পাঠানো হয়েছে কর্তৃপক্ষের কাছে।

অপরদিকে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সাবস্টেশনের কাজ বন্ধ হওয়ার উপক্রম। নামমাত্র শ্রমিক দিয়ে ধীরগতিতে কাজ চালাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। খরচ বাঁচাতে ঝালকাঠির শ্রমিক নিয়ে বরিশালের সাবস্টেশনের কাজ করানো হচ্ছে। ফলে এ ভবনের কাজের রড মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে ট্রান্সমিটার ভবনের স্থানে মাটি কেটে ফেলে রাখায় বর্ষার পানি জমে আছে। ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনঅ্যান্ডটি এ কাজ করাচ্ছে বলে জানা যায়। কিন্তু তারা এখানে না এসে সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়ায় এ কাজ সঠিকভাবে করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণাধীন ভবনের কাজের স্থানে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক বর্ষার জন্য বসে আছে। এ সময় কাজের সাইড কন্ট্রাক্টর পরিচয় দেওয়া উপস্থিত মো. জাকারিয়া নামের এক ব্যক্তির কাছে জানতে চাওয়া হয় কাজে দীর্ঘসূত্রতার কারণ কী ও কাজ বন্ধ কেন। তিনি বলেন, আমি নতুন এসেছি। এসব বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। জানা গেছে, এ কাজ শুরুর পর ছয় মাস কাজের মেয়াদ ছিল। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাস পরও কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। সাবস্টেশন নির্মাণ হলে ফিডার বিভাজনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন হবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। এ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরিশাল আপগ্রেডেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন জানান, ঝালকাঠির কাজে ধীরগতি থাকার কারণ মাঝে আর্থিক সমস্যা ছিল। পাশাপাশি একই ঠিকাদার বরিশালেও সাবস্টেশন নির্মাণ করায় ঝালকাঠির শ্রমিককে ওখানে কাজ করাচ্ছে। তিনি জানান, সেপ্টেম্বর নাগাদ এ কাজ শেষ হতে পারে। কিন্তু ঝালকাঠির শ্রমিক দিয়ে বরিশালের কাজ করানোর নির্দেশনা আছে কি-না জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী কথা না বলে ফোনের লাইন কেটে দেন।


মন্তব্য