সিসার বিষাক্ত ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

  ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ত্রিশালের কাজির সিমলায় একটি কারখানায় অবৈধভাবে ব্যাটারি পুড়িয়ে চলছে সিসা উৎপাদনের কাজ। আর ওই কারখানা থেকে নির্গত হচ্ছে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া। এতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয়রা। গবাদিপশু, গাছের ফল, ফসলও আক্রান্ত হচ্ছে। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও মিলছে না প্রতিকার।

কাজির সিমলা মোড় থেকে আনুমানিক একশ' গজ দূরে জঙ্গলের ভেতরে অনেকটা জায়গাজুড়ে টিন দিয়ে উঁচু করে চারপাশে বেড়া দেওয়া। তার সামনে কোনো সাইনবোর্ড না থাকলেও কাছে গেলেই বোঝা যায় ভেতরে একটি কারখানা রয়েছে। মজবুত টিনের গেটের ওপর লাগানো আছে সিসি ক্যামেরা। বাইরে তালা ঝোলানো, ভেতরে কোনো লোকজন নেই। ওই কারখানার আশপাশেই অনেক বসতবাড়ি ও ফলমূলের গাছ।

সিসা কারখানাটি সারাদিন বন্ধ থাকে। সন্ধ্যার পরপরই গাড়িতে করে মালপত্র এনে কাজ শুরু হয়। আবার ভোর হওয়ার আগেই কাজ শেষ করে চলে যান শ্রমিক-কর্মচারীরা। পোড়ানো ব্যাটারির নির্গত পদার্থের বিষক্রিয়া বাতাসের সঙ্গে মিশে ছড়িয়ে পড়ছে প্রকৃতিতে। পোড়া ব্যাটারির বিষাক্ত ধোঁয়া ঘাসের সঙ্গে মেশে আর সেই ঘাস খেয়ে গৃহপালিত পশু আক্রান্ত হচ্ছে।

কাজির সিমলা নজরুল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন, নাঈম, সিয়াম, নিপা আক্তার, মারিয়াসহ কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমেনা আক্তার জুঁই বলেন, সন্ধ্যার পর পড়ার টেবিলে বসে বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারে না। চোখ জ্বালাপোড়া করে আর নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

সিসা কারখানার মালিক সেলিম লস্কর জানান, তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবে ছাড়পত্রের নির্দেশনা পালনে তার কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। সময়-সুযোগ বুঝে এখান থেকে কারখানা স্থানান্তর করবেন।

ইউএনও আব্দুল্লাহ আল জাকির জানান, অভিযোগ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তারা দিনের বেলা কাজ করে না বলে সেখানে কাউকে পাইনি। ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি করায় আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য তা ঝুঁকিপূর্ণ এবং পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে।


মন্তব্য