সেতুর অভাবে দুর্ভোগে ১৫ গ্রামের মানুষ

   ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

দুর্ভোগ লাঘবে এলাকাবাসীর চাঁদার টাকায় একটি বাঁশের সাঁকো নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু বছরখানেক সময় যেতেই সাঁকোটি নাজুক হয়ে পড়ে। সংস্কার করতে না পারায় পাটাতন ও খুঁটির বাঁশ ভেঙে নদীতে পড়ছে। শুরু হয়েছে এলাকাবাসীর নতুন শঙ্কা। গৌরীপুরের টেঙ্গাপাড়া গ্রামে ডয়হা নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় গৌরীপুর ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ১৫ গ্রামের অর্ধলক্ষ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নতুন করে সাঁকো নির্মিত না হওয়ায় প্রতিদিন দুই উপজেলার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পার হচ্ছে।

উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ডয়হা নদী গৌরীপুর ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সীমানা ভাগ করেছে। নদীর পূর্ব পাড়ে গৌরীপুরের সহনাটি ইউনিয়নের টেঙ্গাপাড়া গ্রাম। পশ্চিম পাড়ে ঈশ্বরগঞ্জের সোহাগী ইউনিয়নের মাইজহাটি গ্রাম। নদীতে সেতু না থাকায় স্বাধীনতার পর থেকেই দুই উপজেলার টেঙ্গাপাড়া, পল্টিপাড়া, সানিয়াপাড়া, শাহবাজপুর, ধোপাজাঙ্গালিয়া, বড়ইবাড়ি, মাসকান্দা, মাইজহাটি, জিগাতলা, সোহাগী, মমরুজপুরসহ ১৫ গ্রামের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় নদী পার হতো। ২০১৭ সালে সহনাটি ইউনিয়নবাসী চাঁদা তুলে নদীর ওপর ২২০ হাত লম্বা বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে। এর পর সহনাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান সাঁকোটি চলাচলের উপযোগী করার জন্য টেঙ্গাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে নদীর পাড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তা মাটি কেটে সংযোগ সড়ক করে দেন। কিন্তু চলতি বছরের শুরুতেই বাঁশের সাঁকোটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে নদীতে। রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে ডয়হা নদীর ওপর নির্মিত সাঁকোর কাঠামো দুর্বল হয়ে গেছে। ভেঙে পড়ছে সাঁকোর খুঁটি ও পাঠাতনের বাঁশ। ফলে গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থীরা কাদাপানি মাড়িয়ে ডিঙি নৌকায় নদী পার হচ্ছে।

টেঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এখলাস উদ্দিন বলেন, বর্ষাকালে নদীতে নৌকা চলাচল বন্ধ থাকে। তখন গ্রামবাসীকে বিকল্প পথে ১২ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে নদীর ওপারে যেতে হয়। আমরা নদীতে বাঁশের সাঁকো চাই না। সরকারের কাছে একটি পাকা সেতু চাই।

ঈশ্বরগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী কায়েস আহমেদ জানান, সহনাটি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন ডিঙি নৌকায় নদী পার হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ কলেজ, সোহাগী উচ্চবিদ্যালয় ও স্বপ্নসিঁড়ি গার্ল স্কুলে এসে পড়াশোনা করে। কিন্তু নদীতে সেতু না থাকা ও বর্ষাকালে নৌকা চলাচল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

সহনাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় দুই উপজেলার ১৫ গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় ডয়হা নদী পার হচ্ছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে সরেজমিন এনে সেতু না থাকার দুর্ভোগের বিষয়টি দেখিয়েছি। এখন পর্যন্ত কেউ উদ্যোগ নেয়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আবু সালেহ মো. ওয়াহিদুল হক জানান, নদীর ওপর সেতু না থাকার বিষয়টি তিনি অবগত নন। ইউপি চেয়ারম্যান সেতু নির্মাণের সার্বিক বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সেতু নির্মাণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।


মন্তব্য