কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের মনতলা পাবুরিয়াচালা এলাকা থেকে গত কয়েক দিনে এক কৃষকের জমি থেকে জোরপূর্বক কাঁঠালগাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাঁচিঘাটা বিটের বন কর্মকর্তা আব্দুল আওয়াল, বন প্রহরী রফিকুল ইসলাম, আবদুল জলিল, ক্যাশিয়ার ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে জমির সীমানা নির্ধারণ ও টেন্ডার ছাড়া প্রায় ৮০-৯০ বছর আগের আম, কাঁঠালসহ শতাধিক বিভিন্ন ধরনের গাছ কেটে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার কাঁচিঘাটা রেঞ্জ অফিসের আওতায় কাঁচিঘাটা বিট অফিস রয়েছে। ওই বিট অফিসের অধীনে মনতলা মৌজায় পাবুরিয়াচালা এলাকায় মৃত আতাউর রহমান মুনসীর ছেলে আব্দুল খালেক সিকদার প্রায় পাঁচ একর জমিতে ঘরবাড়ি ও গাছপালা রোপণ করে ভোগদখল করে আসছেন। দক্ষিণ মনতলা, উত্তর মনতলা ও পাবুরিয়াচালা গ্রাম নিয়ে মনতলা মৌজায় ৩৯৩ খতিয়ানে ৩৫ দাগে ৫২ খাদা জমি রয়েছে। প্রায় ৯০-৯৫ বছর আগে খালেক সিকদারের বাবা মহেরা জমিদারদের কাছ থেকে জমি ক্রয় করেন। ওই জমির মধ্যে বনের জমি, খাস ও অর্পিত এবং ক্রয়কৃত জমি থাকলেও ওই জমির ওপর খালেকের লাগানো বড় বড় বিভিন্ন ধরনের গাছ রয়েছে। জমির মালিককে কিছু না বলে গাছ কেটে নেন তারা। কোনো টেন্ডার বা অনুমতি এবং গাছের মালিককে কিছু না বলে দেদার গাছগুলো কাটা হচ্ছে। বিট কর্মকর্তা আব্দুল আওয়াল ও বন প্রহরী রফিকুল ইসলাম কারও নিষেধ মানছেন না। কাঁচিঘাটা বিটের বন প্রহরী রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে গাছগুলো কেটে ফেলার ফলে পরিবেশ ভারসাম্য হারাচ্ছে। প্রায় শতবছর ভোগদখল করার পর হঠাৎ অন্য কাউকে ওই জমি প্লট দেওয়ার ব্যাপারে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কিছু জানেন না বলে জানা গেছে। বিট কর্মকর্তা তার নিজের ইচ্ছায় ওই জমির বড় বড় ফলবান গাছ কেটে জমি অন্যকে দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন।

ভুক্তভোগী আব্দুল খালেক সিকদার বলেন, আমার বাপ-দাদারা শতবছর ধরে ওই জমি ভোগদখল করছেন। মহেরা জমিদার থেকে জমি ক্রয় করেছি ১৯৬৮ সালে। বিট কর্মকর্তা আমাদের কাগজপত্র না দেখে জমি থেকে আমার লাগানো বড় বড় গাছ কেটে নিচ্ছে। বন, খাস ও অর্পিত এবং ক্রয়কৃত জমি রয়েছে। ডিমারগেশন ছাড়া জমির গাছ কাটা

ঠিক হয়নি। বিট কর্মকর্তা আমাদের কোনো কথা

শুনতে চান না।

কাঁচিঘাটা বিট কর্মকর্তা আব্দুল আওয়াল জানান, মনতলা মৌজায় বন বিভাগের জমি ভোগদখল করে গাছ লাগিয়েছেন খালেক সিকদার। বনের জমি উদ্ধার করে অন্যের নামে প্লট দেওয়ার জন্য গাছ কাটা হচ্ছে। তবে যেসব গাছে ফল ধরেছে, তা কাটতে নিষেধ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কাঁচিঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মহসিন বলেন, কাঁচিঘাটা বিটের অধীনে মনতলা মৌজায় পাবুরিয়াচালা এলাকায় কৃষকের জমি থেকে গাছ কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই। ওই জমি বনেরও রয়েছে। সীমানা নির্ধারণ করা হলে জমির মালিকানা বুঝে কাজ করা যাবে।


মন্তব্য