শীতজনিত রোগের প্রকোপ

নোয়াখালীতে ৩৫ দিনে অর্ধশত শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯

শীতজনিত রোগের প্রকোপ

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা -সমকাল

   আনোয়ারুল হায়দার, নোয়াখালী

নোয়াখালীতে শীতজনিত রোগ ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। উত্তরের ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে জেঁকে বসেছে শীত। এ শীতে নোয়াখালীর ৯টি উপজেলায় প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে শিশু ও বৃদ্ধরা ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে গত ৩৫ দিনে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অর্ধশত শিশু মারা গেছে। তাদের বেশির ভাগের বয়স শূন্য থেকে ২৮ দিন। গড়ে প্রতিদিন ৫ শতাধিক শিশু ও বৃদ্ধ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অপরদিকে হাসপাতালের চিকিৎসকদের কর্তব্যে অবহেলা রয়েছে বলে রোগীদের অভিযোগ। এদিকে হাসপাতালে ওষুধের তীব্র সংকট থাকায় গরিব ও নিম্ন আয়ের দিনমজুর শ্রেণির লোকজন তাদের সন্তানদের চিকিৎসা করাতে হিমশিম খাচ্ছে। গত মঙ্গলবার রাতে সরেজমিন নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায় নোয়াখালী জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে উপকূলীয় উপজেলা হাতিয়া, সুবর্ণচর, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ। এসব উপজেলার সিংহভাগ অধিবাসী দিনমজুর ও জেলে সম্প্রদায়ের। শীতের শুরুতে অধিকাংশ এলাকায় দেখা দিয়েছে ঠান্ডাজনিত রোগ। গত ১০-১৫ দিন ধরে নোয়াখালীতে বইছে কনকনে ঠান্ডা বাতাস ও মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ। ঠান্ডা বাতাসের কারণে উপকূলীয় এলাকায় দেখা দিয়েছে সর্দি-কাশি, কোল্ড ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস, সিওপিডি রোগ। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের শিশুবিশেষজ্ঞরা নিয়মিত হাসপাতালের শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগী না দেখার কারণে গত ৩৫ দিনে ৫০ শিশু মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ হাসপাতালে দীর্ঘদিন শিশুবিশেষজ্ঞরা অনিয়মিত হওয়ায় ইন্টার্ন চিকিৎসক ও সেবিকাদের ওপর নির্ভর করছে চিকিৎসাসেবা।

হাসপাতালের রেজিস্টার খাতা থেকে জানা যায়, ১ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে ৫ জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে ৫০ শিশু মারা গেছে। মৃতরা হচ্ছে- পশ্চিম বালুয়াচর গ্রামের সুফিয়ানের ছেলে রিয়াদ, সদর উপজেলার শুল্লকিয়া গ্রামের সুমনের ছেলে মাহমুদ, মঞ্জুর আলমের মেয়ে জান্নাত, আবদুল মালেকের ছেলে আরিফুল ইসলাম, বেগমগঞ্জের বাংলাবাজার এলাকার ফয়েজ আহমদের মেয়ে ফারজানা, হাতিয়া বিরবিরি এলাকার মনিরুজ্জামানের মেয়ে রিয়া, ফতুল্যাপুর গ্রামের আক্তার হোসেনের ২ দিনের শিশুকন্যা, কৃষ্ণরামপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের ২ দিনের শিশুকন্যা, শাহাদাত হোসেনের ছেলে, চন্দ্রগঞ্জের মাসুদ আলমের শিশুকন্যা, নন্দনপুর গ্রামের হারুনের শিশুকন্যা, চর মহিউদ্দিন এলাকার আজিমের শিশুকন্যা, পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের সোহাগের ছেলে, জামালনগরের আনোয়ারের ছেলে আজিম, সুবর্ণচরের চর আমানউল্যা এলাকার সুমনের ছেলে, টুমচর এলাকার রাজু আহম্মদের ছেলে, হাতিয়ার উসখালী নাছির উদ্দিনের ছেলে মোবারক, খলিলের ছেলে আবুল হোসেন, কালাদরাফ গ্রামের মাহমুদুল হাসানের ছেলে ইয়ামুল হোসেন, কোম্পানীগঞ্জের চর কাঁকড়া এলাকার সুমনের মেয়েসহ ৫০ জন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. খলিল উল্যা বলেন, শীতে রোগীদের মধ্যে জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস প্রভৃতি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। এখানে প্রতিদিন শীতজনিত ও শিশু ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। তিনি বলেন, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১৬টি বেড এবং শিশু বিভাগের ২টি ওয়ার্ডে ৩৩টি বেড থাকলেও এ ওয়ার্ডগুলোতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩ শতাধিক। অতিরিক্ত রোগীদের ভিড় সামালতে ও তাদের চিকিৎসাসেবা দিতে ডাক্তার, নার্স ও স্টাফদের হিমশিম খেতে হয়। চিকিৎসকদের অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওষুধ সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। তবে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। খুব শিগগির এ সংকট দূর হবে।


মন্তব্য