অতিথি পাখির কলতানে মুখর জলাশয়

পাবনা

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯

অতিথি পাখির কলতানে মুখর জলাশয়

পাবনা শহরের জলাশয়গুলোতে প্রথম বারের মতো আগমন ঘটেছে অতিথি পাখির-সমকাল

   এবিএম ফজলুর রহমান, পাবনা

কুয়াশা মোড়ানো শীতের সকাল। পূর্বাকাশ আলো করে উঠছে রক্তিম সূর্য। ইট-পাথরের শহরে তখনও শুরু হয়নি যান্ত্রিক কোলাহল। হঠাৎ পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখর হয়ে উঠল জলাশয়ের চারপাশ। ওড়াউড়ি, ছোটাছুটি, খুনসুটি আর মনের সুখে সাঁতার কাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়ল একঝাঁক পাখি। পাবনা শহরের নতুন অতিথি এরা। পৌর শহরের চকছাতিয়ানী, ছাতিয়ানী, পৌলানপুরসহ ১২ নম্বর ওয়ার্ডের আশপাশের জলাশয়গুলোতে এবার দেখা মিলছে পাতিসরালি নামের হাঁস প্রজাতির এই পাখিগুলোর।

স্থানীয়রা জানান, পাবনার শহর এলাকায় এবারই প্রথম এগুলোর বিচরণ দেখলেন তারা। পাখি শিকারি বা বাইরের কারও দ্বারা পাখিগুলোর যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে এলাকাবাসীর মাঝে সচেতনতা তৈরি হয়েছে ইতিমধ্যেই।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান এ এইচ এম মঞ্জুরুল মামুন বলেন, শীতকালে বাংলাদেশে যেসব অতিথি পাখি দেখা যায়, তার মধ্যে পাতিসরালি অন্যতম। এটি ছোট সরালি বা গেছো হাঁস নামেও পরিচিত। দেশি পাখি হলেও শীতকালে ভারত, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে উড়ে এসে এদেশে আবাস গড়ে তোলে এই পাখি। তিনি বলেন, আগে পাবনা জেলা পরিবেষ্টিত চলনবিল, ডিকশির বিল, বরবিল, গাজনার বিল, পাতিবিল, ঘুঘুদহের বিল, গাংভাঙার বিল, আড়িয়াডাঙ্গি বিল, খলিসাদহ বিলসহ জেলার ২০-২২টি বিলে অতিথি পাখি আসত। তবে এখন আর অতিথি পাখির জন্য এসব বিল নিরাপদ নয়। তা ছাড়া এসব বিলে পানি শুকিয়ে যাওয়ায় পাখির আবাসস্থল নষ্ট হয়ে গেছে। পাখির খাবার শামুক, শ্যাওলা নেই। তা ছাড়া শহরের চেয়ে গ্রামে শিকারিরা নিরাপদে পাখি শিকার করতে পারে। তাই এসব পাখি এখন গ্রাম ছেড়ে শহরে আসছে।

পাখি বিশেষজ্ঞরা জানান, পাতিসরালি নিশাচর স্বভাবের আবাসিক পাখি। দিনে জলমগ্ন ধানক্ষেত ও বড় জলাশয়ের আশপাশে দলবদ্ধভাবে জলকেলিতে ব্যস্ত থাকলেও রাতে খাবারের সন্ধানে চরে বেড়ায়। এই পাখির প্রধান খাবার পানিতে থাকা গুল্ম, জলজ উদ্ভিদ, নতুন কুঁড়ি, শস্যদানা, ছোট মাছ, ব্যাঙ, শামুক, কেঁচো ইত্যাদি। প্রজনন মৌসুমসহ অন্য সময় এরা জুটি বেঁধে পৃথকভাবে দুর্গম বিল ও হাওরে বাস করে। তাই শীত ছাড়া এগুলোকে একত্রে বেশি সংখ্যায় দেখা যায় না।

সামাজিক বন বিভাগ পাবনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, শীতের এই সময়ে পাবনার বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর অতিথি পাখিসহ দেশি পাখির আগমন ঘটে।

পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম পিপিএম বলেন, 'অতিথি পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে আমাদের রয়েছে কঠোর অবস্থান। অতিথি পাখি যাতে নির্বিঘ্নে থাকতে পারে স্থানীয় জলাশয়গুলোতে, সেজন্য প্রয়োজনে সিভিল পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে।'


মন্তব্য