খানাখন্দে বেহাল সড়কে চলা দায়

শৈলকূপা গাড়াগঞ্জ

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯

খানাখন্দে বেহাল সড়কে চলা দায়

শৈলকূপা-গাড়াগঞ্জ সড়কের পিচ উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে-সমকাল

   তাজনুর রহমান, শৈলকূপা (ঝিনাইদহ)

ঝিনাইদহের শৈলকূপা-গাড়াগঞ্জ সড়কটির কারণে ৪৭ বছর ধরে শৈলকূপাবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। হাজারো খানাখন্দ থাকলেও শৈলকূপার প্রধান এ সড়কটি সংস্কার করা হচ্ছে না। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ৬ দশমিক ২ কিলোমিটারের এ সড়কটিই ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়ক থেকে শৈলকূপায় প্রবেশের প্রধান সড়ক। প্রতিদিন যাত্রী ও পণ্য নিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় হাজারো পরিবহনের যাতায়াত এ সড়কটি দিয়ে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জনগুরুত্বপূর্ণ হলেও সম্পূর্ণ সড়কটির বড় ধরনের সংস্কার প্রস্তাবনা অনুমোদন না হওয়ায় এটির এখন বেহালদশা।

শৈলকূপার ট্রাকচালক আব্দুল গাফফারের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, শৈলকূপা-গাড়াগঞ্জ সড়কটি তাদের দুঃখ। সড়কটি গাড়ি চলাচলের জন্য একেবারেই অনুপযোগী। একটু পরপর খানাখন্দ। প্রতিদিন চার শতাধিক ভারী যানবাহন পণ্য ও যাত্রী নিয়ে চলাচল করে এ পথ ধরে। শুধু শৈলকূপা নয়, পার্শ্ববর্তী মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলাতে পণ্য যায় এ সড়কটি দিয়ে। বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ভারী যান চলাচলের উপযোগী করে এ সড়কটির দ্রুত মেরামতের দাবি জানান এ পরিবহন শ্রমিক।

শৈলকূপার বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইকবাল হোসেন বলেন, শৈলকূপা-গাড়াগঞ্জ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দুই শতাধিক মাহেন্দ্র ও বাস যাত্রী নিয়ে চলাচল করে। অথচ এ সড়কটিতে একটু পরপরই গর্ত। প্রতিদিন যাতায়াতের সময় ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই আছে। তাছাড়া যেখানে শৈলকূপা থেকে গাড়াগঞ্জ যেতে তাদের ৪০ টাকার জ্বালানি খরচ হওয়ার কথা সেখানে রাস্তা খারাপ হওয়ায় জ্বালানি খরচ বেশি হচ্ছে বলে জানান তিনি। এছাড়া মাঝে মধ্যেই গাড়ি নিতে হচ্ছে গ্যারেজে। তিনি হতাশার সঙ্গে বলেন, কী কারণে যে শৈলকূপার এ সড়কটি মেরামতের কাজ হয় না তা তার বোধগম্য নয়।

শৈলকূপা থেকে ঢাকাগামী নিউ এসবি পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার জামাল উদ্দিন বলেন, বেহাল শৈলকূপা-গাড়াগঞ্জ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন এসবি, শ্যামলী ও অন্যান্য পরিবহনের ২৬টি গাড়ি যাতায়াত করে।

নিয়মিত যাতায়াতকারী মাহেন্দ্র  পরিবহনের যাত্রী নাসির হোসেন বলেন, শৈলকূপা-গাড়াগঞ্জ সড়কের যে দশা গাড়ি থেকে নেমেই ওষুধ খেতে হয় তাদের।

এ সড়কটি নিয়ে ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ বলেন, ৬ দশমিক ২ কিলোমিটারের শৈলকূপা-গাড়াগঞ্জ সড়কটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। কতদিন আগে এ সড়কটি মেরামত করা হয়েছিল তা তার সঠিকভাবে জানা নেই। তিনি স্বীকার করেন, সড়কটির বেহালদশার কথা। তিনি জানান, সম্পূর্ণ সড়কটি মেরামতের প্রস্তাবনা অনুমোদন না হলে সংস্কার সম্ভব না। গত বছর ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মাঝে মাঝে খানাখন্দ সংস্কার করা হলেও ভারী যানবাহন চলাচল করায় তা আবার আগের অবস্থা।


মন্তব্য