নোয়াখালী প্রতিনিধি

একটি এনজিওতে চাকরি করতে বাধা ও ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করায় শুক্রবার দুপুরে এক কলেজছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ওই শিক্ষার্থীর নাম লিমা দাস (২১)। তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচর সৈকত ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি স্থানীয় চর আমানুল্লাহ গ্রামের লিটন দাসের মেয়ে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় ও তার সহপাঠীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। খবর পেয়ে চরজব্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

স্থানীয় এলাকাবাসী, তার সহপাঠী ও তার কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, লিমা দাস সুবর্ণচর সৈকত ডিগ্রি কলেজে বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি নোয়াখালীর একটি উন্নয়ন সংস্থা এনআরডিএস (এনজিও)-এর মাইক্রো ক্রেডিট প্রোগ্রামে হাতিয়া বাজার এলাকায় কর্মরত ছিলেন। লিমা একটি ছেলের সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তার পরিবার ওই সম্পর্ক মেনে নিতে রাজি না হয়ে তাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। এ নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা ও মনোমানিল্য চলছিল। ওই ঘটনার জেরে গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার সময় পরিবারের লোকজনের অজান্তে লিমা তার নিজ ঘরে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবার মুখ খুলছে না।

চরজব্বার থানা পরিদর্শক (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


মন্তব্য