রেলক্রসিংয়ে গেটম্যান সংকট, বাড়ছে দুর্ঘটনা

   মোস্তাফিজুর রহমান, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)

'আমার আছে জল' উপন্যাসে জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ সোহাগী স্টেশনটির কথা অনেক সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। এলাকাটির নামকরণ হওয়া নিয়েও রয়েছে লোমহর্ষক কাহিনী। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের সেই সোহাগী স্টেশনটি এখন অকার্যকর। ঈশ্বরগঞ্জ এলাকার এ স্টেশনটি জনবল না থাকায় বন্ধ রয়েছে। স্টেশনের কাছেই ক্রসিংয়ে গেটম্যান না থাকায় অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সোহাগী রেলস্টেশনের কাছেই আঠারবাড়ি-ঈশ্বরগঞ্জ সড়কে রেলক্রসিংয়ে ঘটে দুর্ঘটনা। ময়মনসিংহগামী ঈশাখাঁ ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় ঈশ্বরগঞ্জগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির। কেন্দুয়া থেকে যাত্রীবাহী অটোরিকশাটি রেলক্রসিং এলাকায় লাইনের ওপর এসে আটকে যায়। ওই সময় কিশোরগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহগামী ট্রেনটি অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দিয়ে পাশের খাদে ফেলে দেয়। এতে একজন বিজিবি সদস্যসহ চারজন আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ হাসপাতালে ভর্তি করায়। রাতের বেলায় রেলক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান না থাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জনবল সংকটের কারণে বেশ কিছুদিন আগে সোহাগী রেলস্টেশনটি বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে স্টেশনটিতে নিয়মিত ট্রেন থামা, যাত্রী ওঠানামা ও মালপত্র ওঠানামা করা হয়। সোহাগী স্টেশনটির দেখভাল করেন আঠারবাড়ি স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. কামরুল ইসলাম। তিনি মাঝেমধ্যে স্টেশনটিতে আসেন। স্টেশনের পাশেই আঠারবাড়ি-ঈশ্বরগঞ্জ সড়কে রয়েছে একটি রেলক্রসিং। ব্যস্ততম এ সড়কটি ধরে আঠারবাড়ি ও কেন্দুয়াগামী যাত্রী ও মালবাহী যান চলাচল করে। কিন্তু স্টেশনটিতে মাত্র একজন গেটম্যান রয়েছেন। মাস্টার রোলের ভিত্তিতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধার ছেলে কামরুল ইসলাম প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে গেটম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন শেষে তিনি চলে যাওয়ার পর অরক্ষিত হয়ে পরে ক্রসিং এলাকাটি। ওই অবস্থায় দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয় যানবাহনকে। গত বুধবার এলাকাটিতে গিয়ে দেখা গেছে, রেলস্টেশনের কাছে রেলওয়ের জলাশয়ে মাটি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করেছে স্থানীয় একটি চক্র। কিন্তু এটি বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেই রেলওয়ের।

রেলক্রসিংটির গেটম্যান কামরুল ইসলাম বলেন, তিনি স্টেশনে মালপত্রের বুকিং দিয়ে গেট ওঠানামার কাজও করেন। ১২ ঘণ্টা দায়িত্ব শেষে বাড়ি যান। ওই সময়টিতে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তার একার পক্ষে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয়। লোকবল দেওয়া হলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।

সোহাগী স্টেশনের দায়িত্বে থাকা স্টেশন মাস্টার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, গেটম্যান সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া রেলওয়ের জমি দখল হওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি খোঁজ নিয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।


মন্তব্য যোগ করুণ