গ্রহাণুর আঘাতে ডাইনোসর বিলুপ্ত

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

গ্রহাণুর আঘাতে ডাইনোসর বিলুপ্ত

   সমকাল ডেস্ক

পৃথিবীর বুকে এক সময় বিচরণ করত অতিকায় ডাইনোসর। আজ কেবল তাদের হাড়গোড় পাওয়া যায়। আর পাওয়া যায় শিল্পীর তুলিতে আঁকা কল্পিত চেহারা। কারণ, এখন থেকে ছয় কোটি ৬০ লাখ বছর আগে ভয়ঙ্কর ঘটনায় প্রাণিকুলটির সবাই মারা গেছে। তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল বিশাল গ্রহাণুর আঘাতের পরিণামে। একদল বিজ্ঞানী সে ঘটনার বিশদ বিবরণ তৈরি করেছেন সেকেন্ড-মিনিট-ঘণ্টা ধরে ধরে। গবেষকরা মনে করেন, পৃথিবীতে বিরাট আকারের গ্রহাণুর আঘাতে যে বিস্ম্ফোরণ ও পরিবেশগত পরিবর্তন হয়েছিল, তাতেই ডাইনোসররা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ডাইনোসর বিলুপ্তির পর পৃথিবীতে শুরু হয় স্তন্যপায়ী প্রাণীর যুগ।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সেই গ্রহাণুটি ছিল ১২ কিলোমিটার চওড়া। সেটা পড়েছিল মেক্সিকো উপসাগর তীরবর্তী ইউকাটান উপদ্বীপ এলাকায়। ওই এলাকায় তৈরি হওয়া বিশাল জ্বালামুখের ভূপ্রকৃতি ও শিলার গঠন পরীক্ষা করে দেখেছেন টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। সেই বিশাল গ্রহাণুর আঘাতের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছেন তারা।

গবেষকরা বলছেন, এত জোরে গ্রহাণুটি পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়েছিল, তাতে ২০০ কিলোমিটার চওড়া ও কয়েক কিলোমিটার গভীর গর্ত বা জ্বালামুখ তৈরি হয়েছিল। গর্তের কিনারগুলো তার পর ভেতর দিকে ধসে পড়ে। ফলে সাগরে সৃষ্টি হয়েছিল ভয়াবহ সুনামি। এ গর্তটির বড় অংশই এখন সমুদ্রের তলদেশে- তার ওপর জমেছে ৬০০ মিটার পুরু পলির আস্তরণ। সমুদ্রের তলদেশের ওই জায়গাটির এক-তৃতীয়াংশই জিপসামের তৈরি, যার অন্যতম উপাদান সালফার।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওই সালফার হয়তো গ্রহাণুর আঘাতজনিত বিস্ম্ফোরণে সাগরের পানির সঙ্গে মিশে গিয়েছিল এবং তা আকাশে ছড়িয়ে পড়েছিল। তার ফলে নাটকীয়ভাবে আবহাওয়া অত্যন্ত ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং কোনো প্রাণী বা গাছপালার তখন বেঁচে থাকা দুরূহ হয়ে ওঠে।

বিজ্ঞানীদের অন্যতম টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শন গুলিক বলছেন, ১০ হাজার কোটি টন (একশ' গিগা টন) সালফার বায়ুমণ্ডলে মিশে যাওয়ার ফলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত ২৫ ডিগ্রি নিচে নেমে যায়। তার মানে পৃথিবীর বেশিরভাগ এলাকার তাপমাত্রা তখন নেমে গিয়েছিল শূন্য ডিগ্রির নিচে। এত ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় ডাইনোসররা বাঁচতে পারেনি। সূত্র : বিবিসি বাংলা।


মন্তব্য