আলিবাবা থেকে জ্যাক মার বিদায়

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আলিবাবা থেকে জ্যাক মার বিদায়

   সমকাল ডেস্ক

ই-কমার্স সাম্রাজ্য আলিবাবার প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন জ্যাক মা। ঘোষণাটি তিনি কয়েক বছর আগেই দিয়েছিলেন। অবশেষে গত ১০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার তার ৫৫তম জন্মদিনে নিজ জন্মস্থান হ্যাংঝৌয়ের একটি স্টেডিয়ামে আবেগঘন পরিবেশে চোখের জলে প্রিয় প্রতিষ্ঠানকে বিদায় জানালেন তিনি। নতুন দায়িত্ব তুলে দেন সহকর্মী ডানিয়েল ঝ্যাংকে। ৮০ হাজার মানুষের ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামটি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছাড়া তার শুভাকাঙ্ক্ষী, ভক্ত অনেকেই এসেছিলেন জ্যাক মাকে বিদায় দিতে। জ্যাক মাও স্বভাবসুলভ রকস্টার ভঙ্গিতে গিটার নিয়ে গানও শুনিয়ে দেন সবাইকে। চীনের এই অন্যতম বিত্তশালী শিক্ষাক্ষেত্রে জনহিতকর কাজে মনোনিবেশ করবেন বলে জানান। খবর বিসিসি ও এনডিটিভির।

বিদায়ী অনুষ্ঠানে জ্যাক মা বলেন, 'আজ রাতের পর আমি নতুন জীবন শুরু করছি। আমি বিশ্বাস করি, পৃথিবী চমৎকার। এখানে সুযোগের সদ্ব্যবহারের প্রচুর উপাদান রয়েছে। আমি নতুন নতুন বিষয়ে প্রদীপ্ত হতে ভালোবাসি। আমার তাড়াতাড়ি অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে হয়তো কারণ এটাই।'

বিদায়ী অভিভাষণ শেষে জ্যাক মা, আলিবাবার সহপ্রতিষ্ঠাতা লুসি পেং, প্রতিষ্ঠানটির টেকনোলজি কমিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ওয়াং জিয়ান- এ তিনজনই রকস্টারদের মতো লেদার জ্যাকেট ও মাথায় পরচুলা পরে চীনা পপ গান পরিবেশন করেন। এ সময় আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা জো সাই মেরিলিন মনরোর মতো পোশাক পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন।

কে এই জ্যাক মা :চীনের পূর্বাংশে হাংঝৌ শহরে দরিদ্র পরিবারে ১৯৬৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জন্ম জ্যাক মার। গরিব পরিবারে জন্ম নেওয়া জ্যাক মার শিক্ষা গ্রহণই ছিল তার সামনে এগোনোর একমাত্র উপায়। হাই স্কুল শেষ করে কলেজে ভর্তির জন্য তিনি পর পর দু'বার পরীক্ষা দিয়েও পাস করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছিলেন হাংঝৌ টিচার্স ইনস্টিটিউটে। সেখান থেকে ১৯৮৮ সালে স্নাতক হন। পাস করার পর ৩০টি প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করে তিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। যে প্রতিষ্ঠানগুলো তাকে চাকরি দেয়নি, তার মধ্যে কেএফসিও রয়েছে। অবশেষে স্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে চাকরি পান।

৩৩ বছর বয়সে জ্যাক মা প্রথম কম্পিউটার ব্যবহার করেন। তিনি অনলাইনে প্রথম যে শব্দটি লিখে সার্চ দিয়েছিলেন, তা ছিল 'বিয়ার'। কিন্তু সেই সার্চের ফলাফলে চীনা কোনো বিয়ারের নাম ছিল না। সেটি তাকে বিস্মিত করে। তখন তিনি চীনের জন্য ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেন। অথচ এর আগে কম্পিউটার সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না।

জ্যাক মা বর্তমানে তার দেশ চীনে ধনীদের তালিকায় তৃতীয় স্থান দখল করে রেখেছেন। ফোর্বস বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে তার অবস্থান ২০তম। তিনি ৪০ বিলিয়ন ডলারের ব্যক্তিগত সম্পদের অধিকারী। তার জ্যাক মা ফাউন্ডেশন এখন চীনের গ্রামপর্যায়ে শিক্ষার জন্য কাজ করছে। শিক্ষা ছাড়াও তিনি ভিন্ন ভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চান।






মন্তব্য