বিশেষজ্ঞ কলাম

ভারতকে শুরু থেকেই চেপে ধরতে হবে

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৯

ভারতকে শুরু থেকেই চেপে ধরতে হবে

  ড্যানিয়েল ভেট্টোরি

টানা তিন ম্যাচ হেরে অনেকটা আন্ডারডগ হিসেবেই সেমিফাইনালে খেলতে নামছে নিউজিল্যান্ড। তবে এজন্য তাদের বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়াটা ভুল হবে। কোনো দলের সময় যখন খারাপ যায়, তখন তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের  ওপর ভরসা করতে হয়। কোনো একজন ফর্ম পেয়ে গেলে সেটা দ্রুতই পুরো দলের মধ্যে ছড়িয়ে যাবে। প্রথম দশ ওভারে যদি দারুণ একটা শুরু করা যায়, তাহলে তিন ম্যাচ হারের ধাক্কা মিলিয়ে যেতে  সময় লাগবে না।

অস্ট্রেলিয়া আর দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের দিকে তাকালেই এটা বোঝা যায়। বিশ্বকাপের শুরুতে দল হিসেবে প্রোটিয়ারা খুবই বাজে সময় কাটিয়েছে। তবে এই ম্যাচে ভালো শুরু করায় তাদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় বহুগুণ। আর এটাই তাদের জিততে সাহায্য করেছে। এ কারণেই ভারতের সঙ্গে সেমিফাইনালে ব্যাট বা বলে ভালো শুরুটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে ব্যাটিংয়ের দিকে নজর দেওয়া যাক। মার্টিন গাপটিল খুব ভালো না করতে পারলেও তার প্রতি সবার সমর্থন আছে। শুধু সতীর্থরাই নয়, নিউজিল্যান্ডের জনগণও তার পাশে আছে। এ রকম অবস্থা থেকে সে আগেও রান করেছে। আর তাকে যতটুকু চিনি, তাতে আমি নিশ্চিত, সে খুব দ্রুতই ফর্মে ফিরবে। আর তখন সবকিছুই পাল্টে যাবে। এ আসরে শ্রীলংকার বিপক্ষে অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরি করে ভালো শুরুই করেছিল সে। তাই অনুপ্রেরণা খুঁজতে খুব বেশিদূর যেতে হবে না তাকে। আর এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের খেলা দেখলেই ভারতের বিপক্ষে কীভাবে বড় স্কোর গড়তে হয়, সে সম্পর্কে ধারণা পাবে নিউজিল্যান্ড।

জাসপ্রিত বুমরাহকে খেলা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও সে অনেক কম রান দিয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইংল্যান্ড বড় রান করতে পেরেছে, কারণ তারা অন্য বোলারদের টার্গেট করে খেলেছে। স্পিনারদের বিপক্ষে তারা খুবই আগ্রাসী ছিল। হার্দিক পান্ডিয়া আর মোহাম্মদ শামিকেও ছাড় দেয়নি তারা।

শামি যে সেমিতে দলে ফিরবে, এ ব্যাপারে আমি মোটামুটি নিশ্চিত। বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সে দারুণ খেলেছিল। তবে নিউজিল্যান্ড বড় স্কোর গড়ার সামর্থ্য রাখে। যদিও তারা এখনও এটা করতে পারেনি। তবে কেন উইলিয়ামসন রান করছে। রস টেলরও রানের মধ্যে আছে। এ ছাড়া ব্যাটে-বলে বিভিন্ন সময়ে নিউজিল্যান্ডের দুই অলরাউন্ডার জিমি নিশাম আর কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম খুব ভালো করেছে। আর শেষ ম্যাচে টম লাথামও রান পেয়েছে। তাই আশাবাদী হওয়াই যায়।

দক্ষিণ আফ্রিকা আর অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ দেখে মনে হচ্ছে, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের পিচ ব্যাটিং সহায়কই হবে। ব্ল্যাক ক্যাপসদের সব পরিকল্পনা করাই আছে, শুধু ঠিক সময়ে কাজে লাগাতে পারলেই হলো। ভারতের বিপক্ষে বল হাতেও আক্রমণাত্মক হতে হবে। শুরুতেই উইকেট তুলে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। শুরুতে উইকেট নিয়ে মিডল অর্ডারকে চাপে ফেলতে পারলে নিউজিল্যান্ডের সুযোগ থাকবে। তবে এসব বলা খুব সহজ, মাঠে করে দেখানোই মূল বিষয়।

ভারতের ধীরে শুরু দেখে অনেকেই হয়তো তাদের সমালোচনা করেছিল, তবে সত্যি বলতে, ভারত কন্ডিশন খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছে। আর সেজন্যই পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাট করেছে। ধীরে শুরু করলেও শেষদিকে দ্রুত রান তুলে সেটা পুষিয়ে দিয়েছে ভারত। তাই শুরুতে রোহিত শর্মা আর বিরাট কোহলিকে আউট করতে না পারলে সমস্যায় পড়তে হবে। তারা জানে, কখন আক্রমণ করতে হবে আর কাকে লক্ষ্য বানাতে হবে। এটাই দলে হিসেবে তাদের ভয়ঙ্কর করে তুলেছে। কারণ অন্য অনেক দল পরিস্থিতি না বুঝে শুরু থেকেই ঝড়ো গতিতে খেলতে থাকে। কিন্তু ভারত পরিস্থিতি বিচার করে সে অনুযায়ী স্কোর গড়ে।

নিউজিল্যান্ডের মূল বোলার ট্রেন্ট বোল্ট। আইপিএলে খেলার সুবাদে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ভালো করেই চেনে সে। তাই কেনের সঙ্গে মিলে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের থামানোর একটা পরিকল্পনা তারা নিশ্চয়ই করবে। এ জন্য শুরু থেকেই আগ্রাসী মানসিকতায় উইকেট বরাবর বল করে যেতে হবে। এক্ষেত্রে ট্রেন্ট বোল্টকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তবে নিউজিল্যান্ডের জন্য সমস্যা হলো, ভারতেরও একজন বুমরাহ আছে। এ দু'জনের লড়াইয়ের ফলই ঠিক করে দেবে এ বিশ্বকাপের ফাইনালে কে যাচ্ছে।

লেখক :নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক


মন্তব্য