দুর্নীতি করব না, করতেও দেব না :প্রধানমন্ত্রী

সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা - পিআইডি

  সমকাল প্রতিবেদক

দুর্নীতির প্রতি সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্নীতি করব না, কাউকে করতেও দেব না। দুর্নীতি ও অপরাধ যে করবে এবং যে প্রশ্রয় দেবে- তারা সবাই অপরাধী। অপরাধী যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও অপরাধ করে ছাড় পাচ্ছেন না। তবে শুধু আইন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে দুর্নীতি ও অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। এ জন্য সামাজিক সচেতনতাও সৃষ্টি করতে হবে।

গতকাল বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির জন্য তিনি প্রত্যেক এলাকায় সব শ্রেণিপেশার মানুষ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনেরও আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদেরও জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। গতকালের অধিবেশনে অংশ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের একাধিক সদস্যের প্রশ্নের জবাব দেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির রওশন আরা মান্নানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের কল্যাণ এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। এ জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) শক্তিশালী করা, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্নীতির পরিধি ক্রমান্বয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। দুদককে শক্তিশালী করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা সংসদকে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন দপ্তরে প্রতিনিয়ত তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করছে। এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির প্রবণতা কমে আসছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে দুর্নীতির মাত্রাও ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক অগ্রগতি হয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ইতিহাস বিকৃতি রোধ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে; এই ধারা যেন অব্যাহত থাকে। সে জন্য সমাজ থেকে সব অন্যায় ও অবিচার দূর করতে হবে। দুর্নীতি করব না, কাউকে করতেও দেব না। ঘুষ নেওয়া যেমন অপরাধ, দেওয়াটাও সমান অপরাধ। দুর্নীতি ও অপরাধ যে করবে এবং যে প্রশ্রয় দেবে- তারা সবাই অপরাধী। দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতামূলক কাজ করতে সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকারসহ সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সবাই মিলে কাজ করলে সমাজ থেকে অপরাধ ও দুর্নীতি দূর করতে পারব। অপরাধ করে কোনো দলের লোক ছাড় পাবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে ঘর থেকে শাসন করাই ভালো। তিনি সেটা শুরু করেছেন বলেও জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সব ধরনের অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, ছোটখাটো ব্যক্তি অপরাধ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, অর্থ ও সম্পদশালীরা অপরাধ করলে হাত দেওয়া যাবে না- তা ঠিক নয়। তাদের অপরাধ অপরাধ নয়; এমনটা মনে করার কারণ নেই।

রওশন আরা মান্নানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেকে তিনি সবসময় জনগণের একজন সেবক মনে করেন। প্রধানমন্ত্রিত্ব হচ্ছে জনসেবার সেই সুযোগ। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জনগণের কল্যাণ-উন্নয়ন এবং অন্যায় ও অবিচারের হাত থেকে মানুষকে রক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সরকারি দলের মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাই তো ধোয়া তুলসী পাতা নয়। এ গ্যারান্টিও কেউ দিতে পারবে না। কেউ ১০০ ভাগ সৎ হতে পারবে না। তবে দুর্নীতি দমনে নিয়োজিত সংস্থার সবাইকে সৎ হওয়ার বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। আর কিছু বিষয় আছে সেখানে হাত দিলে মনে হয় যেন হাত পুড়ে যাচ্ছে। যারা ধরতে যায়, তারাই যেন অপরাধী হয়ে যায়। কিছু পত্র-পত্রিকাও লেখালেখি শুরু করে। তবে কোন পত্রিকা কী লিখল, সেটাকে বিবেচনায় না নিয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। অথচ এই দেশকে এক সময় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে দেওয়া হয়নি। চুয়াত্তর সালে পরিকল্পিতভাবে দেশে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করা হয়। এই ঘটনার মূল হোতা যিনি, যিনি এই ষড়যন্ত্র করেছিলেন, সংবিধান লঙ্ঘন করে ও অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর জিয়াউর রহমান সেই লোকটাকেই খাদ্যমন্ত্রী করেছিলেন। পাকিস্তান আমলের এই আমলা দেশে দুর্ভিক্ষের ষড়যন্ত্র করার পরও মন্ত্রী হয়েছিলেন। এমনকি তার ছেলেও এখন বিএনপির বড় নেতা। এটাই বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্যের।

সরকারদলীয় গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকারের লিখিত প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, কৃষকদের ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার চলতি মৌসুমে দেড় লাখ টন ধান কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে ক্রয় করছে।


মন্তব্য