'নিখোঁজ' শিক্ষিকা মনিকা সাতক্ষীরা থেকে উদ্ধার

সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত থেকে উদ্ধার হওয়া মনিকা বড়ূয়া - সমকাল

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগামের লালখানবাজার এলাকা থেকে সাত মাসে আগে 'হঠাৎ নিখোঁজ' গানের শিক্ষক মনিকা বড়ুয়া রাধাকে অবশেষে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত থেকে মঙ্গলবার মনিকাকে 'উদ্ধার' করার পর বুধবার রাতে চট্টগ্রামে নিয়ে আসে। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম বলেন, মনিকা স্বেচ্ছায় ভারতে গিয়েছিলেন। শুরুতে আমরা মনে করেছিলাম তাকে অপহরণ বা পাচার করা হয়েছে। পরে জানতে পারি তিনি নিজ ইচ্ছায় গেছেন। যারা তার সন্ধান চেয়ে মানববন্ধন করেছেন, তারাও জানতেন মনিকা ভারতে আছেন। এটা পুলিশের জানা থাকলে আরও আগেই তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হতো। উদ্ধারের পর মনিকা জানান, কমলেশ কুমার মল্লিক নামে ভারতের এক নাগরিকের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে চলে যান তিনি। এর পর মনিকা ও কমলেশ সেখানে বিয়ে করেন বলে জানানো হয় পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. কামরুজ্জামান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মনিকা বড়ুয়া নিখোঁজ হওয়ার পর তার সন্ধান দাবিতে তার বোন ও পরিবারের সদস্যরা চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে ও ঢাকায় কয়েক দফা মানববন্ধন করেন। তারা সে সময় অভিযোগ করেন, মনিকাকে উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা 'সন্তোষজনক' নয়। তাই ঘটনার পর থেকে পুলিশ সর্বোচ্চ সক্রিয় থেকে এ রহস্য উন্মোচন করে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আমেনা বেগম।

গানের টিউশনিতে যাওয়ার কথা বলে গত ১২ এপ্রিল নগরীর লালখান বাজারের হাই লেভেল রোডের বাসা থেকে বের হয়ে ৪৫ বছর বয়সী মনিকা আর ফেরেননি। মনিকার স্বামী দেবাশীষ বড়ুয়া ১৩ এপ্রিল এ নিয়ে নগরীর খুলশী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ২৮ এপ্রিল সেটি 'অপহরণ' মামলায় রূপান্তর করা হয়। দুই মেয়ের জননী মনিকা নগরীর কাতালগঞ্জের লিটল জুয়েলস স্কুলে গান শেখাতেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তা আমেনা বেগম জানান, গত ৪ নভেম্বর ঢাকার ধানমি র ৩২ নম্বর সড়ক থেকে কমলেশ কুমার মল্লিককে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে কমলেশ জানান, তিনি নিজেই ১২ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে বাসে করে মনিকাকে বেনাপোলে নিয়ে যান। পরে পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই তাকে নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। কলকাতায় মনিকার নতুন নাম দেওয়া হয় অনামিকা মল্লিক। স্বামী হিসেবে কমলেশ মল্লিকের নাম উল্লেখ করে সেখানে মনিকার জন্য পরিচয়পত্র ও অন্যান্য কার্ডও তৈরি করা হয়। মন্দিরে গিয়ে ধর্মীয় রীতিতে তারা বিয়ে করলেও তা রেজিস্ট্রি করা হয়নি। মনিকা কলকাতার একটি অ্যাপার্টমেন্টে আছেন জানতে পেরে 'কৌশলে' তাকে মঙ্গলবার ভোমরা সীমান্তে আনার ব্যবস্থা করা হয়।






মন্তব্য যোগ করুণ