কূটনীতিকদের ব্রিফিং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিথ্যাচারে মিয়ানমার

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিথ্যাচারে মিয়ানমার

  কূটনৈতিক প্রতিবেদক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বারবার আশ্বাস দিয়েও কথা রাখছে না মিয়ানমার। বরং মিয়ানমার এ ব্যাপারে ডাহা মিথ্যাচার করছে। গতকাল বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার বন্ধু প্রতিবেশী রাষ্ট্র। বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলছে, তাদের বিরুদ্ধেও বলতে চায় না; কিন্তু তাদের ডাহা মিথ্যাচার কতক্ষণ সহ্য করা যায়?

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারের মিথ্যাচারের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সম্প্রতি মিয়ানমারের মন্ত্রী জাপানে ফিউচার অব এশিয়া ইভেন্টে বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা যাচ্ছে না, এর জন্য বাংলাদেশ দায়ী, তারা চাচ্ছে না বলেই রোহিঙ্গারা ফেরত আসছে না। এটা মিয়ানমারের মন্ত্রীর ডাঁহা মিথ্যা কথা। বরং সত্যি হচ্ছে, বাংলাদেশ একপায়ে খাড়া কখন রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত যাবে সে জন্য। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার জন্য রাখাইনে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার সেখানে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করেনি। অথচ মিয়ানমার রাখাইনের ৮০০ রোহিঙ্গা গ্রামের মধ্যে মাত্র দুটি গ্রামকে দেখিয়ে আসিয়ানের মাধ্যমে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে বলেছে, রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে তারা খুব ভালো ব্যবস্থা করেছে। দুটি গ্রামকে প্রদর্শনীর জন্য সাজিয়ে-গুছিয়ে একটি মিথ্যা রিপোর্ট দিয়ে মিয়ানমার বিশ্ববাসীর সামনে অপপ্রচার করছে। তারা বলছে, বাংলাদেশে নাকি পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা এসেছে। অথচ বাংলাদেশ বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে যাচাইয়ের মাধ্যমে যথাযথভাবে হিসাব দিয়েছে ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা এসেছে। এর আগে আরও বিভিন্ন সময়ে সাড়ে তিন লাখ রোহিঙ্গা এসেছে। অর্থাৎ এখন ১১ লাখ রোহিঙ্গা রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। অথচ এই সংখ্যা নিয়েও মিয়ানমার মিথ্যাচার করছে।

এ কে মোমেন বলেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে একজনও ফেরত যায়নি। মিয়ানমার আশ্বাস দিয়েছিল, ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে প্রত্যাবাসন শুরু করা হবে। কিন্তু তারা কথা রাখেনি। এরপর তারা নভেম্বর মাসে প্রত্যাবাসন শুরুর কথা বলল, তখনও তারা কথা রাখেনি। সম্প্রতি চতুর্থ বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক হলো। বাংলাদেশ খুব আশাবাদী ছিল, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া

শুরুর ব্যাপারে ইতিবাচক কোনো পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু মিয়ানমার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ছয় মাস পর পর বৈঠক হয়। প্রতিবারই দেখা যায়, ছয় মাস আগে পরিস্থিতি যা ছিল তাই আছে, কোনো অগ্রগতি হয়নি। মিয়ানমার বারবার আশ্বাস দিয়ে কথা রাখেনি। এটা স্পষ্ট যে, মিয়ানমার চাচ্ছে না বলেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন রেখে আরও বলেন, মিয়ানমার বন্ধু রাষ্ট্র, প্রতিবেশী রাষ্ট্র। বাংলাদেশ তাদের বিরুদ্ধে বলতে চায় না। কিন্তু তাদের মিথ্যাচার কতক্ষণ সহ্য করা যায়?

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কূটনীতিকদের ব্রিফিংকালে তিনি রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন। মিয়ানমারের মিথ্যাচার সম্পর্কেও অবহিত করেছেন। কূটনীতিকদের রাখাইন সফর করে সেখানকার পরিস্থিতি সরেজমিন দেখার উদ্যোগ নেওয়ার জন্যও অনুরোধ জানিয়েছেন। কূটনীতিকরা রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে আছেন বলে জানিয়েছেন। মিয়ানমারের দেওয়া তথ্যও তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, আগামী মাসের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফরে যাবেন। চীন সরকারের কাছে রোহিঙ্গা সংকটের আসন্ন বিপদ সম্পর্কে জানানো হবে। তাদের সামনে সত্য তুলে ধরে বলা হবে।




মন্তব্য