রাজেন্দ্র কলেজের শতবর্ষ পূর্তিতে ঢাকায় মিলন মেলা

রাজেন্দ্র কলেজের শতবর্ষ পূর্তিতে শুক্রবার বাংলা একাডেমিতে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মিলন মেলা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদ - সমকাল

  সমকাল প্রতিবেদক

ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে অন্যরকম এক মিলন মেলা বসেছিল রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। গতকাল শুক্রবার দিনব্যাপী এ মিলন মেলায় পরিবার-পরিজনসহ মিলিত হয়েছিলেন ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন পর একে অপরের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের এই ক্ষণে আড্ডায় স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন তারা।

বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে 'রাজেন্দ্রিয়ান মিলন মেলা, ঢাকা-২০১৮' শিরোনামের এই মিলন মেলার আয়োজক ভার্চুয়াল গ্রুপ 'শতবর্ষী রাজেন্দ্র কলেজ :আমার ভালোবাসা'।

দক্ষিণবঙ্গের খ্যাতনামা এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শতবর্ষ পূর্তি হয় গত বছরের ১ জুন। মূলত এটিকে উপলক্ষ করেই চলে এ মিলন মেলা।

সকালে জাতীয় পতাকা ও বেলুন উড়িয়ে শুরু হয় মিলন মেলার আনুষ্ঠানিকতা। দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল কলেজকে ঘিরে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ, কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপহার বিতরণ এবং গান, নাচ, আবৃত্তিসহ নানা অনুষ্ঠান। সন্ধ্যায় র‌্যাফেল ড্রর মাধ্যমে শেষ হয় এ কার্যক্রম। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে দিনভর পিঠা-পুলি, গরম জিলাপি, ফুচকা, চিড়াভাজা, চানাচুর মুড়িসহ নানা রকমের খাবারের আয়োজন এ অনুষ্ঠানকে দেয় ভিন্নমাত্রা।

স্মৃতিচারণ পর্বে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বক্তব্যে উঠে আসে রাজেন্দ্র কলেজের অতীত ও বর্তমান সময়ের শিক্ষা কার্যক্রমসহ নানা প্রসঙ্গ। আলোচনায় অংশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়া বলেন, রাজেন্দ্র কলেজের কথা উঠলেই তিনি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। এই কলেজে শিক্ষাজীবন শেষ করার ৩২ বছর পর গত বছর কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। এ ধরনের আয়োজন বারবার হলে তার মতো প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আসার সুযোগ হবে।

সমকালের প্রকাশক ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদ ১৯৭৬-৭৭ শিক্ষাবর্ষে এই কলেজে অধ্যয়ন করেন। শিক্ষাজীবনের অনেক স্মৃতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষের মৃত্যু আছে। কিন্তু যারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তারা কখনও মৃত্যুবরণ করেন না, তারা মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকেন। রাজেন্দ্র কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অম্বিকাচরণ



মজুমদারসহ আরও অনেকেই এর উদাহরণ। এ ধরনের মিলন মেলার পাশাপাশি এই কলেজ-সংশ্নিষ্টদের একত্র হওয়ার একটি স্থায়ী জায়গা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এ. কে. আজাদ এ সময় রাজেন্দ্র কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক ও বর্তমানে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত অধ্যাপক শাহ মোহাম্মদ ফরহাদের নামে একটি শিক্ষাবৃত্তি চালু এবং প্রাথমিকভাবে এ বাবদ ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে রাজেন্দ্র কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি স্থায়ী কাঠামো গড়ে তোলাসহ স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের জন্য আরও ৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে মানেন না, তারা বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার অধিকার রাখেন না। মিলন মেলা আয়োজনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে তিনি তার শৈশব-কৈশোরে ফিরে যেতে পারছেন।

আয়োজনের প্রধান উদ্যোক্তা ও রাজেন্দ্র কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক অধ্যাপক ড. গোলাম সোবহানী চৌধুরী রানা বলেন, এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাজেন্দ্র কলেজ পরিবারের প্রাক্তন ও বর্তমান অর্থাৎ নবীন-প্রবীণের মধ্যে মেলবন্ধন রচিত হলো। এটি সৌভ্রাতৃত্ব ও সুসম্পর্ক গড়ে ওঠার অনন্যসাধারণ প্ল্যাটফর্ম।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. রেজাউল ইসলাম, পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি কাইমুজ্জামান খান, বাংলাদেশ আনসারের আঞ্চলিক পরিচালক নুরুল হাসান ফরিদী, পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন খান টিটু, ফরিদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, বাংলা একাডেমির উপ-পরিচালক ড. তপন বাগচী, রাজেন্দ্র কলেজের সাবেক ভিপি খোন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুক, করিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াহিদ মিয়া, মিলন মেলা প্রস্তুতি পরিষদের আহ্বায়ক জিয়াউল হাসান মিঠু, সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান সোহেল, মিজান রহমান, আবুল বাতিন, খন্দকার সাইদুর রহিম বিটুল, কাজী কাউসার সুইট, আল মাহমুদ প্রমুখ। বিভিন্ন পর্ব সঞ্চালনায় ছিলেন ফরিদা বেগম, মুন্সী রফিকুল ইসলাম সাচ্চু, তারেক সাঈদ, এনায়েত হোসেন, শাকিল বিপ্লব, বদরুন নেসা শিমুল প্রমুখ।






মন্তব্য