পাইপলাইনে ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে

গ্যাস সংকটে দুর্ভোগ এখনও কাটেনি

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮

   সমকাল প্রতিবেদক

রেশনিংয়ের মাধ্যমে দেশের গ্যাস সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে তা শিল্প ও আবাসিক খাতে দেওয়া হচ্ছে। গত শনিবার রাত থেকে কারিগরি ত্রুটির কারণে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। ফলে দেশে গ্যাস সংকট ব্যাপক আকার ধারণ করে। বিকল্প হিসেবে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানা বন্ধ করে সেখান থেকে প্রায় ২৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস অন্য খাতে দেওয়া হচ্ছে। এতে শিল্প ও বাসাবাড়িতে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করছে জ্বালানি বিভাগ। তবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে শিল্প ও আবাসিক খাতে এখনও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

কক্সবাজারের মহেশখালীর সমুদ্রে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এই সমস্যা

দেখা দেয়। সাগরের নিচে পাইপলাইনের একটি ইমারজেন্সি ভাল্‌ভে ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে গ্যাস লিকেজ হচ্ছিল। গত শনিবার রাতে এই সমস্যা

ধরা পড়ে। এরপর গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়। এটি মেরামতের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন এলএনএনজি খাতের তত্ত্বাবধানকারী রূপান্তরিত গ্যাস কোম্পানির (আরপিজিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী কামারুজ্জামান। তিনি বলেন, একটি সাহায্যকারী জাহাজ ডুবুরি, প্রয়োজনীয় লোকবলসহ ঘটনাস্থলে গেছে। তারা এর ত্রুটি মেরামতের চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ভাল্‌ভটি পানির ৪০ মিটার নিচে। জোয়ার-ভাটার দিকে খেয়াল রেখে ডুবুরিরা ৬ ঘণ্টা পরপর এক ঘণ্টা কাজের সময় পান। তাই ছিদ্র মেরামতে সময় লাগবে।

জ্বালানি সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, রাতারাতি গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব নয়। তারা রেশনিং করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিদ্যুৎ ও সার কারখানায় সরবরাহ কমিয়ে সেই গ্যাস শিল্প ও আবাসিকে দেওয়া হচ্ছে। দ্বৈত জ্বালানির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তেলে চলছে। তিনটি বড় সার কারখানা ছাড়া বাকিগুলো বন্ধ রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া সিলেট গ্যাসক্ষেত্রের একটি পুরনো কূপ ওয়ার্ক ওভার করে প্রায় দেড় কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। তিনি খোঁজ নিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

সিএনজি ফিলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, গত কয়েক দিনের চেয়ে বৃহস্পতিবার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনের চেয়ে বৃহস্পতিবার থেকে দিনে কিছু সময় গ্যাস কমবেশি পাওয়া গেছে। কচুক্ষেত ইব্রাহীমপুরের গৃহিণী আকিমুন নাহার জেসমিন জানান, গত রোববার থেকে গ্যাস আসত রাত ১২টার পরে। ফলে রাত জেগে দিনের রান্না করতে হচ্ছিল। তবে বৃহস্পতিবার সকালেও গ্যাস ছিল। কিন্তু দুপুরের দিকে আবার চলে যায়। দুর্ভোগ এখনও চলছে।

দেশে গ্যাসের চাহিদা বর্তমানে ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে পাওয়া যাচ্ছে ২৭৩ কোটি ঘনফুট। গত ১৮ আগস্ট থেকে আমদানি করা এলএনজি থেকে প্রাপ্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। এলএনজি টার্মিনাল থেকে সর্বশেষ ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো।

দেশের সাতটি সার কারখানায় গ্যাসের চাহিদা ৩১.৬ কোটি ঘনফুট। চলমান গ্যাস সংকট শুরুর আগে দেওয়া হতো ২২ কোটি ঘনফুট গ্যাস। এখন তা কমিয়ে ১১ থেকে ১২ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঘোড়াশালের ইউরিয়া ও পলাশ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়।

বিদ্যুতে গত সপ্তাহের চেয়ে গ্যাসের সরবরাহ ২০ কোটি ঘনফুট কমেছে। গতকাল এ খাতে ৯১ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হয়। এতে বিদ্যুতের উৎপাদন কমেছে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, চাহিদা কম থাকায় গ্যাস সরবরাহ কমায় তাদের খুব বেশি সমস্যা হচ্ছে না। শুধু চট্টগ্রাম অঞ্চলে একটু সমস্যা হওয়ায় সেখানে ২২৫ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র জ্বালানি তেলে চালানো হচ্ছে।


মন্তব্য যোগ করুণ