ফুলজোড় নদীর পাড়ের ছেলে

জন্মদিন

প্রকাশ : ০২ আগষ্ট ২০১৯

ফুলজোড় নদীর পাড়ের ছেলে

মহাদেব সাহা [জন্ম :৫ আগস্ট, ১৯৪৪] ছবি ::মেহেদী হাসান হৃদয়

  আহমাদ শামীম

"সিরাজগঞ্জ জেলার ধানঘড়া গ্রাম। সেই গ্রামেরই একটা নদী, নদীটির নাম খুব সুন্দর 'ফুলজোড়'; সেই নদীর ধার থেকে উঠে আসা এক বালক আমি। যার ভালো লাগতো আকাশ, ফুল, পাখি, মেঘ, জলরাশি, বন, মাঝিমাল্লাদের গান। সেই জীবন থেকে ছিটকে গিয়ে আমি কোথায় চলে আসলাম। এভাবে আসতে আসতে কত জায়গায় থেমেছি; এখান থেকে সেখানে, এদেশ থেকে সেদেশ। স্বপ্নতাড়িত মানুষের মতো ছুটলাম শুধু।"

একটা জীবন বাংলার কবিতার প্রান্তর সুজলা-সুফলা করে তুলেছেন যিনি মুক্তোদানার মতো কবিতার অক্ষর বুনে, তিনি আর কেউ নন- কবি মহাদেব সাহা। ফুলজোড় নদীর কিনার থেকে বাংলা কবিতার পথে যিনি হেঁটে চলছেন অবিরাম, ওপরের কথাগুলো যেন তার কবি জীবনের অনন্য প্রতিধ্বনি।

প্রায় দুই বছরের বিদেশ জীবন শেষে এ বছরের শুরুতে তিনি দেশ ও তার কবিতার পাঠকদের কাছে ফিরে এসেছেন। আসছে ৫ আগস্ট, কবির ৭৬তম জন্মদিন। জন্মদিন উপলক্ষে কথা হয় তার সঙ্গে। প্রথমেই বলেন, 'কোনো ইন্টারভিউ দিতে চাই না আমি। বরং তোমার সঙ্গে আলাপ করি।' এই লেখা কবি মহাদেব সাহার সঙ্গে দীর্ঘ আলাপের সারাংশ।

কথার ফাঁকে জানতে চাইলাম, আপনার তো জন্মদিন ক'দিন পর। দিনটি নিয়ে বিশেষ কোনো ভাবনা কি আছে? কিছুটা বিরক্তি আর খেদ নিয়ে বললেন- 'প্রতিবছরই আমার একটা জন্মদিন আসে আর তোমরা এসব শুনতে চাও। জন্মদিন হচ্ছে রবীন্দ্রনাথের। জন্মদিন হচ্ছে শেকসপিয়রের। এই মানুষের মতো মানুষদেরই জন্মদিন হয়। আমার আবার জন্মদিন কিসের! আচ্ছা, বেদব্যাসের জন্মদিন কী আমরা জানতে পারি, কবে তার জন্মদিন। তাকে সর্বশ্রেষ্ঠ কবি বলা যায়। মহাভারতে যত নাম তিনি সৃষ্টি করেছেন, আমি তো অবাক হয়ে যাই, এত নাম তিনি পেলেন কীভাবে। আজ থেকে চার-পাঁচ হাজার বছর আগে তিনি জন্মেছিলেন। তার জন্ম কোথায় আমরা জানি না, তার জন্মদিন কবে তা কি আমরা জানি, জানি না। এসব জানি না ঠিকই কিন্তু তার সৃষ্টি তো থেকে গিয়েছে। জন্মদিন নিয়ে আমার আলাদা কোনো ভাবনা নেই। জীবনের ভাবনাই আমার জন্মদিনের ভাবনা।'

জন্মদিনের প্রসঙ্গ থেকে সরে এসে জীবনের প্রশ্নে যখন উঠল কবি বললেন- "আমি এখন আত্মজীবনী লিখছি নাম দিয়েছি 'কবিতার জীবন'। এটার নাম দেওয়া যেতে পারে 'ভুলসমগ্র'। এক জীবনে অনেক কথাই বলেছি। অনেক দৌড়-ঝাঁপ করেছি। অনেক পথ হেঁটেছি। অনেক সুখ-দুঃখের সৃষ্টি করেছি। এসব কিছুই হয় নাই। জীবন নিয়ে অনেক ছেলেখেলা করেছি। আমার মতো এমন আর একটাও দৃষ্টান্ত পাওয়া যাবে না। যাদের জীবন সম্পর্কে তোমরা জানো, যাদের তোমরা চেনো তারাও জীবন নিয়ে আমার মতো ছেলেখেলা করেনি, আমার মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে জীবন কাটায়নি। এসব নিয়ে আজ কোনো আক্ষেপ নেই, আক্ষেপ করেও-বা কী হবে। কোনো টাইমমেশিন কি আছে, সময়কে ঘুরিয়ে দেয়া যাবে? যাবে না। তাই অভিযোগ, আক্ষেপ বা অনুযোগের কোনো সুযোগ নেই। "ভালোমন্দ যাহাই আসুক সত্যরে লও সহজে।'' জীবন সম্পর্কে বঙ্কিমচন্দ্রের একটি উক্তি অসাধারণ, তিনি বলেছেন - 'এই জীবন লইয়া আমি কি করিবো?' আমার অবস্থাও হয়েছে তাই।''

আমাদের আলাপ এই পর্যায়ে মোড় নিলো বর্তমান সময়ে তার জীবনবোধ প্রসঙ্গে। মোহাবিষ্টের মতো বলতে থাকেন কবি- 'একটা জীবন স্বপ্নতাড়িত মানুষের মতো আচ্ছন্ন হয়ে ছুটলাম শুধু। আর এভাবে মিথ্যা নাম আর খ্যাতির পেছনে ছুটে নিজেকে ধ্বংস করলাম। আমার সঙ্গে যারা ছিল তারা সব সময় কষ্ট পেয়েছে। আমার স্ত্রী-পুত্র পরিবার, কারও কথা ভাবি নাই। জীবনে আমি কিছুই করি নাই। আমি শূন্যের ওপর দাঁড়ানো একজন মানুষ। নিজেকে শুধু ক্ষয় করেছি আর নষ্ট করেছি। কিন্তু নিজেকে কখনও গড়ার কথা ভাবিনি। জীবনের এই পর্যায়ে এসে যখন বলছি কথাগুলো, মনে হতে পারে- এটা আমার দুঃখবোধ, কিন্তু এসব আমার দুঃখবোধের স্বীকারোক্তি নয়। আমি কথাগুলো বলছি যেন, এই ভুলগুলো আর কেউ না করে। রবীন্দ্রনাথের জীবনের কথা বলি তোমাকে, তাহলেই বুঝতে পারবে। তিনি জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে একটা চিঠি লিখেছিলেন পুত্র রথীন্দ্রনাথের কাছে। সেই চিঠির সব অংশ জানা যায় না। রথীন্দ্রনাথ সেই চিঠি পুরোটা প্রকাশ করেননি। তবে কিছু অংশ জানা যায়। রবীন্দ্রনাথের মতো ঋষিতুল্য মানুষ লিখছেন- আমার এখন মরতে ইচ্ছে করে আর বাঁচতে ইচ্ছে করে না, জীবন আমার কাছে দুঃসহ মনে হয়। এটা রবীন্দ্রনাথের উক্তি। তিনি লিখেছেন, আমার এই যে লম্বা চুল দাড়ি এগুলো রাখতে আমার কষ্ট হয়। রবীন্দ্রনাথের মতো একজন জীবনঘনিষ্ঠ মানুষ বলছেন তারও মরতে ইচ্ছে করে।'

কথা প্রসঙ্গে বললাম জীবনকে নষ্ট করেছেন বলছেন, সেটা কি তবে কবিতা লেখার কারণেই? মহাদেব সাহার উত্তর- 'কে বলল নষ্ট করেছি, জীবনের কিছুই নষ্ট হয় না। কারণ- 'জীবনের ধন কিছুই যায় না ফেলা/ ধরার ধূলায় তার যত হোক অবহেলা।' আমার মতো নির্বোধ মানুষ খুব কম আছে। একেবারে নির্বোধ বলতে পার। আমি সব কাজ নির্বোধের মতো করেছি। কোনো বুদ্ধিমান মানুষের মতো আমার কাজ নয়। কিন্তু এখানে একটা বড় কথা আছে। এটা আমার উপলব্ধি, আর সেটা হলো- এই নির্বোধ না হলে আমি কবিতা লিখতে পারতাম না। আর এ জন্যই ঈশ্বর বা নিয়তি আমাকে নির্বোধ করেছে। নির্বোধ বানিয়ে আমাকে দিয়ে কবিতা লিখিয়ে নিয়েছেন। আমি যদি তথাকথিত সচেতন বুদ্ধিমান মানুষ হতাম, তাহলে হয়তো আমি কবি হতাম না। আমি উপচেপড়া কবিতার যে স্বপ্ন দেখি, তা আমি করতে পারতাম না। হয়তো আমার নির্বুদ্ধিতাই আমাকে কবি করেছে। এগুলো আমার দুঃখের কথা নয়। এগুলো আমার জীবনের অভিজ্ঞতার উপলব্ধি। আমি চাই অন্যরা যেন এসব থেকে শিক্ষা লাভ করে। তবে কবি হওয়ার জন্য এসব করতে হয় না। ভুল চিন্তা আমাদের জীবনে ছিল। কবিগিরি আর কবিত্ব তো এক নয়। কবি হওয়ার জন্য নিজের মধ্যে নিজেকে তৈরি করতে হয়। কবি হওয়ার জন্য জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে হয় না। কবিতার সঙ্গে যারা আছে, তাদের প্রতি এ কথাই আমি বলতে চাই।'

মহাদেব সাহা একটা জীবন কাটিয়েছেন কবিতার ভুবনে শব্দ, চিত্রকল্প আর আনন্দ জাগিয়ে দিয়ে। কবির কাছে প্রশ্ন ছিল- কবিতা আসলে কী, কবিতাকে কীভাবে দেখেন। তিনি বললেন- 'কবিতা হলো গভীরতম আত্মোপলব্ধি। আত্মোপলব্ধি আর ধ্যান থেকে পাওয়া সত্য হলো কবিতা। এ ছাড়া কবিতাকে বলতে পার, প্রাঞ্জল মিথ্যা কথা। কিন্তু কবিতা তো একটা সময় মন্ত্র হয়ে যায়। পৃথিবীর দুই শ্রেষ্ঠ কবি রবীন্দ্রনাথ ও শেকসপিয়র। তবে তাদের দু'জনের কবিতাও শেষ পর্যন্ত থাকবে না। শেষ পর্যন্ত থাকবে মন্ত্র। ছয় হাজার বছর আগে ভারতীয় ঋষীদের মুখে যে উক্তি বা মন্ত্র উচ্চারিত হয়েছে, সেগুলো এখনও আছে। লেখা হয় নাই সেসব কিছুই কিন্তু এখনও আছে, কী করে আছে এগুলো? কবিতাও ধীরে ধীরে মন্ত্র হয়ে যায়, এভাবেই থেকে যাবে কবিতা।'

কবিতার মৌলিক প্রসঙ্গ থেকে সরে এসে আমাদের আলাপ তার কবিতা প্রসঙ্গে চলে আসে। প্রশ্ন করার আগেই থামিয়ে দেন মহাদেব সাহা। বলেন- "আমি সব কথা বলেছি কবিতার মাধ্যমে। 'কেন ভালোবাসি' নামে আমার একটি বই আছে। তার প্রথম লেখাটির নাম হচ্ছে 'কেন ভালোবাসি'। আমি কবিতার মাধ্যমে ভালোবাসার শক্তি আবিস্কারের চেষ্টা করেছি। তোমরা অনেকেই বলো, আমি প্রেমের কবিতা লিখেছি। আমি প্রেমের কবিতা লিখিনি। ভালোবাসার কথাই লিখতে চেয়েছি কবিতায়। ভালোবাসার কী অসিম শক্তি, আমি ভালোবাসার শক্তি আবিস্কারের চেষ্টা করেছি এতটা কাল। ভালোবাসাই হচ্ছে মানুষের মূল শক্তি। আমি প্রকৃতির মধ্যে, জলধারার মধ্যে, জীবনের স্বতঃস্ম্ফূর্ত রূপ সেটা খুঁজতে চেয়েছি। আমি কবিতা কী সেটা আবিস্কার করার চেষ্টা করেছি। কবিতা কী পুরুষ না নারী, কবিতা কী ব্যক্তি নাকি বিমূর্ত কোনো কিছু। আর এভাবেই আমি লিখেছি কবিতাকে ভালোবাসার সরলরেখা দিয়ে। কারও কাছে সেভাবে হয়তো আমার কবিতা পৌঁছেনি বা কেউ মন দিয়ে বোঝার চেষ্টা করেনি। এসব নিয়ে বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নাই।"

প্রায় দুই বছর কানাডায় থেকে প্রিয় দেশ, প্রিয় মাতৃভূমিতে আবার ফিরে এসেছেন প্রেম-প্রকৃতি ও মানবতার এই কবি। কথায় কথায় জানতে চাইলাম তার বর্তমান সময় নিয়ে। কবি বললেন- 'সবার কাছ থেকে দূরে নিঃসঙ্গ, বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি। মাঝে মাঝে মনে হয় আমি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলব। কোনো অনুষ্ঠানে যাই না, কারও সঙ্গে দেখা করি না।' এটা কেন, প্রশ্ন করলাম তাকে। বললেন- 'এটা কেন, এই প্রশ্নের উত্তর আমি জানি না। এটা নিজেকে আড়াল করে রাখা নয়, আমার মন চায়, তাই। আমার ইনারভিশন বা অন্তরাত্মা যা বলে আমি সেটাই করি। আমার মস্তিস্ক যা বলে আমি সেটা করি না। আমার অন্তরাত্মার ভাষা থেকে আমি আলো দেখতে পাই। সেই আলোয় আমি পথ চলতে চাই। আমি পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান। ভাই-বোন কেউ নেই। জন্ম থেকেই আমি একা।'

একটা ঘোরের মধ্যে গিয়ে মহাদেব সাহা বলতে থাকেন... '৬০/৬৫ বছরের বেশি হলো আমি কবিতা লিখি। ভালো-মন্দ মিলিয়ে 'এই গৃহ এই সন্যাস' থেকে 'কোথা পাই দিব্যজ্ঞান' পর্যন্ত আমার আশিখানা কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থগুলোর স্বতন্ত্র নাম তো করতে হয়েছে। আর কিছুই করতে পারিনি। এ জন্য তো তোমাদের কাছে এক ফোঁটা চোখের জল আশা করতে পারি। ছয় খণ্ড কাব্যসমগ্র আমার, তিন খণ্ড গদ্যসমগ্র, কিশোর কবিতার একটা সমগ্র, একটা প্রবচনসমগ্র, একটা সাক্ষাৎকারসমগ্র, ৫০০ শতাধিক গান লিখেছি, ছবি এঁকেছি, স্কেচ করেছি, বিদেশি গদ্য-পদ্যের অনুবাদ করেছি। একটা জীবন আচ্ছন্নতা আর ঘোরের মধ্যে থেকেই এসব হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে ঠিক হয়েছে, ভুল হয়েছে, ভালো করেছি, মন্দ করেছি; তবুও এসবই আমার। এসবই আমার জীবন ইতিহাস। প্রতি বছর এগুলো বলতে বলতে আমি ক্লান্ত। এভাবে নিজের কথা আমি আর কেন বলব। আমি আমার জীবনী লিখতে চাইনি, তবুও লিখেছি। কারণ, কবিতার সঙ্গে আমার জীবন কীভাবে কাটালাম সেটা বলবার জন্য। ৭৬ বছর বয়সে এসে আর নিজের কথা বলতে ভালো লাগে না।'

প্রশ্ন করলাম, আপনার পাঠক যারা, তাদের ভালোবাসা তো কৃত্রিম না, তারা তো আপনাকে ভালোবাসে। স্বীকার করে বললেন- 'এটা সত্যি, আমার পাঠকরা আমাকে ভালোবাসে। আমার মতো ভালোবাসা কেউ পায়নি। তখন আজমপুর থাকি এক রুমের বাসায়। চালের দোকানদার আমাকে বাকি দিত আমার কবিতা ভালোবেসে। তাদের কাছে আমি 'কবি সাহেব'। ছেলের দুধ কিনতে পারি না, তারা বলত কবি সাহেব নিয়ে যান, পরে দিয়েন টাকা। অসুস্থ থাকাকালীন ডাক্তারের কাছে গিয়েছি, কোনো ডাক্তার আমার কাছ থেকে ফিস রাখেননি। অনেক বিপদের মুখেও আমি আমার কবিতার জন্যেই সেই বিপদ থেকে বেরিয়ে এসেছি। কিছু পদ্য লিখে পৃথিবীর কত দেশ ভ্রমণ করেছি, অটোগ্রাফের খাতা ভরে দিয়েছি দেশে-বিদেশে। কবিতা লিখে এত কিছু কেউ পেয়েছে কি-না, আমার জানা নেই। আমার বয়স তখন এগারো, সেই বাল্যবয়সে কবিতা লিখে বঙ্গবন্ধুর আশীর্বাদ পেয়েছি। আমাকে কোলে বসিয়ে কপালে চুমু খেয়ে তিনি বলেছিলেন- 'একদিন তুই বড় কবি হবি'। সেই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।

আশি ও নব্বই দশকে একই মেলায় আমার তিনটা-চারটা করে কবিতার বই বেরিয়েছে। এবং মেলাতেই দুইটা-তিনটা সংস্করণও হয়েছে। মেলা শেষে তখন বিক্রির শীর্ষে থাকা বইয়ের নাম ঘোষণা করা হতো, সেই তালিকায় অনেকবার আমার-ই কবিতার বইয়ের নাম এসেছে। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ তার ভালোবাসার সাম্পানে লিখেছেন- 'উপন্যাসের মতোই মহাদেবের কবিতার বইয়ের সংস্করণ হয় বই মেলায়, এটা অভূতপূর্ব।' মানুষের এসব ভালোবাসার সত্যিই তুলনা নেই। তাহলে কী বলবে আমি জীবনে অনেক পেয়েছি, না, আমি পাওয়ার জন্য ভিখারি নই, কিছুই প্রয়োজন নেই আমার। কোনো পুরস্কারের টাকা আমি নিইনি, দিয়ে দিয়েছি। এসব নিয়ে আমার কোনো দুঃখ নেই। আমি যে লিখেছি, এতগুলো বইয়ের নাম আবিস্কার করতে পেরেছি, এসব নিয়েই আমার আনন্দ। আমার কবিতার মধ্যে যারা দুঃখ আবিস্কারের চেষ্টা করে, তারা তাদের দুঃখ ঢাকার জন্য এসব বলে। আমি দুঃখ করব কেন, আমার চেয়ে সবল মানুষ আর কে আছে।'

খুব ছোটবেলায় যার উপলব্ধি হয়েছিল, 'আমি জন্মেছি কবিতা লিখতে, কবিতা লিখতে লিখতেই মরে যাব।' তার কাছে কবিতা আর পাঠকের ভালোবাসা ছাড়া জাগতিক চাওয়া-পাওয়ার কী কোনো মূল্য আছে, নাকি থাকতে পারে। জন্মদিনের প্রাক্কালে কবির প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা। শুভ জন্মদিন কবি। 


মন্তব্য