পদাবলি

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০১৯

বৃষ্টিফলগাছ

আহমেদ বাসার



আকাশ- অসীম এক বৃষ্টিফলগাছ

বাতাস নাড়া দিলেই পাকা মেঘ ঝরে

কখনো নিঃশব্দে কখনোবা সপ্তস্বরে

নেমে আসে ধরাতলে, বেপরোয়া বাস



যেভাবে ছোটে মাতাল হেসে এই দেশে

বৃষ্টিও বিজলিসহ আসে সাথে বজ্র

'কখনো বাঁকা বাঁশের বাঁশরি কখনো রণতূর্য'

বৃষ্টি ঝরে দানবের মতো, কখনো ঋষির বেশে



অবিরাম বর্ষণের ঘায়ে মাথাফাটা ঘাস

প্রার্থনায় নত হয় মৃত্তিকার গায়

মৃত পাতাদের ঘিরে কারা যেন মিহিস্বরে গায়

জীবন নন্দনগীতি, অনিন্দ্য বৃষ্টিকোরাস...





কয়েকটি বাতাসি গাছ এবং অহর্নিশ মেঘ

মাসুদ মুস্তাফিজ



নাইওর যাবে বলে বায়না ধরেছে নদী, বাতাসে ভাঙে দিন

আমি তোমার নিদানের আদম রে বন্ধু

আমি তোমার সাঁই-বালিশ, জল ভূতলে ও গাছতলে

ডাকিও না-ডেঁই পিঁপড়েমাত্র-ছেঁউড়িয়ায়...

বাতাসের হল্লায় গ্যালো ভাই দুপুরে ঘুমবিবাহ

সমুদ্রে সুখ ফ্যালি যেতে নেই সখি দূর কোলাহলে

কোথায় রেখেছো স্তনশীর্ষের প্রথম প্রেমগাছ পাখির সতীরব



সন্দেহের জল বিছিয়ে ঘরের মানুষ স্বপ্ন লোপাট করে রে ভাই

ঘুঘু ডাকে প্রয়োজনে-

আবার কে যেনো ডাকে

প্রণাম করিবো সন্ধ্যাধ্বনির চোরাকাঁটাপ্রাণ

ওই বাতাসি গাছে মেঘ কাঁদে অম্বয় রাগে!





স্পর্শের বাইরে

প্রণব মজুমদার



বড্ড দেরি করে সেই তো এলে

যে প্রান্তর ছেড়ে গেছি

জলতৃষ্ণার আশায়

তা এখন স্পর্শের বাইরে।



ঘ্রাণ ছিলো প্রসূনের

জোনাকির আলো ছিলো

অন্তরে অনন্ত নীলিমা



ফুটবে না আর ফুল

যতই হও না ব্যাকুল

ঘ্রাণও হয়েছে মলিন



পড়ে আছে সোনালি অনুভব

স্পর্শের বাইরে থেকে গেছে সব

নেই কলরব, প্রাপ্তির মাতম

রৌদ্রস্নাত আলো, মায়াবী জোছনা

আর মন আকাঙ্ক্ষা



হারানো দিন হতে পারতো রঙিন

সহস্র চেষ্টায় ফিরবে না সেই দিন!











মৈত্রী

নিজাম বিশ্বাস



বিগত বর্ষার ক্ষত নিয়ে পড়ে আছে রাস্তাটা

মহিষের নির্দয় পায়ের ছাপ জলশূন্য হ্রদ

সারিবদ্ধ গাছগুলো হলুদ পাতায় নিচ্ছে দম-

হাত ধরে হাঁটো, উঁচু নিচু পথে মচকাবে পা

এমন রাস্তায় বিভেদের কথা ভুলে গড়ো মৈত্রী

ওগো মিত্র, চুলে গাঁথো ঢোলকলমির ফুল



আমরা শ্মশানে মড়া পুড়িয়ে এসেছি সদ্য

তবু হাসো, এই তো সান্ত্বনা বেঁচে আছি-

এই কাটা রাস্তা চলে গেছে বহুদূর সীমান্তে-

একটা সাইকেলের চাকার আঁচড় পড়ে আছে

সে যদি আবার ফেরে, তুমি যেও তার সাথে


মন্তব্য