সিমন দ্য বেভর

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০১৯

সিমন দ্য বেভর

সিমন দ্য বেভর ছিলেন একজন ফরাসি লেখিকা, বুদ্ধিজীবী এবং অস্তিত্ববাদী দার্শনিক। তিনি নিজে তাকে দার্শনিক মনে না করলেও নারীবাদী অস্তিত্ববাদ ও তত্ত্বে তার গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ছিল বলে মনে করা হয়। প্রবন্ধ-নিবন্ধ, উপন্যাস, জীবনী-আত্মজীবনীসহ অসংখ্য রচনায় সিমনের রাজনীতি ও সামাজচিন্তার প্রকাশ পাওয়া যায়।

১৯৪৫ সালে প্রকাশিত 'দ্য সেকেন্ড সেক্স' গ্রন্থটির জন্য ফ্রান্সসহ তৎকালীন বিশ্বে সিমন দ্য বেভর বহুলভাবে আলোচিত হয়ে ওঠেন। পৃথিবীব্যাপী সমাজে সমাজে নারী নিপীড়ন ও তাদের অমানবিক জীবনযাত্রার চিত্রকে যুক্তি ও বাস্তবতায় তিনি তুলে ধরেছেন এই বইটিতে। বিখ্যাত এ বইটির মতো পরবর্তীকালে 'শি কেইম টু স্টে', 'দ্য ম্যান্ডারিয়ানস' ইত্যাদি উপন্যাসের জন্যও ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা পান সিমন দ্য বেভর। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাষায় এসব বই অনূদিত হয়েছে। তবে লেখালেখি ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াশীলতা ছাড়াও প্রখ্যাত ফরাসি দার্শনিক জাঁ পল সার্ত্রের সঙ্গে তার প্রণয়ঘন সম্পর্কের কারণেও বেশি পরিচিত ছিলেন এই লেখিকা।

১৯০৮ সালের ৯ জানুয়ারি প্যারিসে জন্ম নেওয়া এই নারীবাদী চিন্তাবিদ পারিবারিক পরিবেশের কারণেই শৈশবে বয়সের তুলনায় অনেক বেশি পরিপকস্ফ হয়ে উঠেছিলেন। তার বাবার ভাষায়, 'সিমন অনেকটা ছেলেদের মতোই চিন্তাভাবনা করত'।

সিমনের সঙ্গে দার্শনিক জাঁ পল সার্ত্রের প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও তিনি কখনও বৈবাহিক জীবনে আবদ্ধ হননি। এবং সার্ত্রের সঙ্গে যৌথভাবে বিবাহিত জীবনযাপন করেননি। তিনি ছিলেন নারীমুক্তিকামী প্রগতিশীল চিন্তার জীবনব্যাপী অঙ্গীকারাবদ্ধ একজন মানুষ। সিমন দ্য বেভরের উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে 'দ্য সেকেন্ড সেক্স' ছাড়াও রয়েছে, 'দ্য ব্লাড অব আদার', 'দ্য এথিকস অব এম্বিগুইটি', 'দ্য প্রাইম অব লাইফ' ইত্যাদি।

নারীদের পুনর্জাগরণে এবং লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে আজীবন যুদ্ধ করে যাওয়া এই চিন্তাবিদ শেষ জীবনে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্যারিসে ১৯৮৬ সালের ১৪ এপ্রিল শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর পর প্যারিসের মন্টপারনাসে সমাধিক্ষেত্রে, সার্ত্রের সমাধির পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়।


মন্তব্য