সভ্যতা সংকেত ও জীবনের অর্থ

বইয়ের ভুবন

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০১৯

সভ্যতা সংকেত ও জীবনের অর্থ

সভ্যতার পতন ও পুনরুদ্ধার, মূল-আলবার্ট সোয়াইটসার, অনুবাদ-আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া, প্রকাশক-পাঠক সমাবেশ, প্রচ্ছদ-সেলিম আহ্‌মেদ, মূল্য-২৫০ টাকা

  গোলাম কিবরিয়া

অনুবাদে মৌলিক ভাষার অনুভূতি অনেকটাই কমে যায়। তারপরও চাইনিজ, জাপানি, রাশিয়ান, জার্মান, স্প্যানিশ, ফরাসি, আরবি, ফারসিসহ বিশ্বের অগণিত ভাষা ও উপভাষার সঙ্গে আমাদের পরিচয় ঘটে অনুবাদ-সাহিত্যের মাধ্যমে। আলবার্ট সোয়াই্‌টসার-এর লেখা সভ্যতার পতন ও পুনরুদ্ধার অনুবাদ করে লেখক আমিনুল ইসলাম ভুইয়া সভ্যতার নানা দিক জানার সুযোগ করে দিয়েছেন পাঠককে। আমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া (জন্ম ১ অক্টোবর, ১৯৫৩) হলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, লেখক ও অনুবাদক। তিনি পেল্গটোর সমগ্র রচনা বাংলা ভাষায় অনুবাদের জন্য বিশেষভাবে খ্যাতিমান। বাংলা ভাষায় অনুবাদে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য ২০১৮ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

আলবার্ট সোয়াই্‌টসার (জানুয়ারি ১৮৭৫-সেপ্টেম্বর ১৯৬৫) ছিলেন একজন খ্রিষ্টান মিশনারি। আফ্রিকার গেবন-এ চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী ডাক্তার, সেখানে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠাকারী, ধর্মতাত্ত্বিক, লেখক, মিউজিশিয়ান, মানবতাবাদী দার্শনিক এবং সর্বোপরি সাম্রাজ্যবাদের তীব্র সমালোচক। ১৯৫২ সালে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন। তার সারাজীবন কেটেছিল আর্তমানবতার সেবায়। সেইসঙ্গে তিনি যে বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা করেছিলেন তা ছিল ধর্ম, নৈতিকতা ও সভ্যতাকে কেন্দ্র করে। তিনি নৈতিকতাকে সভ্যতার ভিত্তি হিসেবে আবিস্কার করেছিলেন এবং তৎকালে (বিংশ শতাব্দীর গোড়ায়) সভ্যতা যে অবক্ষয়িত হয়ে পড়েছিল তার কারণ হিসেবে উন্নত বিশ্ববীক্ষার অভাবকে, নৈতিকতার অধঃপতনকে চিহ্নিত করেছিলেন। উপনিবেশবাদী শাসন-শোষণ, অত্যাচারও সেই অধঃপতনের বহিঃপ্রকাশ। তিনি কেবল পতনকে চিহ্নিত করেই ক্ষান্ত হননি, তার প্রতিবিধান দিয়েছিলেন।

এই বইয়ে তিনি লিখেছেন, আমাদেরকে একসাথে জীবনের অর্থ নিয়ে ভাবতে হবে। আমাদেরকে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের একটি তত্ত্ব লেখার জন্য চেষ্টা চালাতে হবে- সেই তত্ত্ব হবে বিশ্ব ও জীবন নিয়ে ইতিবাচক; আমরা যে অভিজ্ঞতা লাভ করি, তা যাতে ক্রিয়ার প্রণোদনা, প্রয়োজনীয় ও মূল্যবান উপাদান হিসেবে আমাদের সত্তার যৌক্তিকতা, সম্যক জ্ঞান, স্পষ্টতা ও গভীরতা খুঁজে পেতে পারে, নৈতিক শক্তিতে নতুন করে প্রবেশাধিকার লাভ করতে পারে এবং নতুনভাবে বিন্যস্ত করা যেতে পারে। সেই সঙ্গে জীবনদৃষ্টি প্রণয়নে সক্ষম হয়ে উঠতে পারে এবং তার ওপরে ক্রিয়া করার ক্ষেত্রে সভ্যতার সুনির্দিষ্ট আদর্শে, সত্যিকার মানবতার স্পিরিটে উদ্দীপিত হয়ে উঠতে পারে, তার উদ্যোগ নিতে হবে। সভ্যতার ধ্বংসের জন্য দর্শন কীভাবে দায়ী, আমাদের অর্থনীতি ও আধ্যাত্মিক জীবনে সভ্যতার ক্ষেত্রে বাধাবিপত্তি, সভ্যতা চরিত্রগতভাবে নৈতিক বিষয়, সভ্যতার পুনরুদ্ধারের পথ এবং সভ্যতা ও বিশ্ববীক্ষা শিরোনামে বইটিকে পাঁচটি ভাগ করে এক একটি অংশে বিভিন্ন তথ্য ও আলোচনা তুলে ধরেছেন আলবার্ট সোয়াই্‌টসার।

সভ্যতার পতন ও পুনরুদ্ধার- সভ্যতার দর্শন নিয়ে এক ধরনের ভূমিকাধর্মী লেখা। এতে সভ্যতার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সভ্যতার সত্যিকার ও অপরিহার্য প্রকৃতি কী, তা বলতে গিয়ে লেখক বলেছেন, এটি শেষ বিচারে নৈতিকতা।

তিনি মনে করেন, আমাদের সভ্যতার ধ্বংসের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- চিন্তার সিংহাসন ত্যাগ।


মন্তব্য