মৌলানা আবুল কালাম আজাদ

নির্যাস

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০১৯

মৌলানা আবুল কালাম আজাদ

[১১ নভেম্বর ১৮৮৮-২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৮]

আবুল কালাম মহিউদ্দিন আহমেদ যিনি মৌলানা আবুল কালাম আজাদ নামেই অধিক পরিচিত। ছিলেন একজন বিশিষ্ট ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী। তার ছদ্মনাম ছিল আজাদ। মৌলানা আজাদ ইসলামী ধর্মশাস্ত্রে সুপি ত ছিলেন।

মৌলানা আবুল কালাম ১৮৮৮ সালের ১১ নভেম্বর সৌদি আরবের মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষেরা হেরাত, আফগানিস্তান থেকে ভারতবর্ষে এসেছিলেন। তরুণ বয়সে তিনি যুক্ত হন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে। তিনি ছিলেন ভারতের হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির প্রবক্তা। দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত বিভাগের বিরোধিতা করেছিলেন মৌলানা আজাদ। এমনকি তৎকালীন নবগঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রে সামরিক শাসন ও পাকিস্তান ভাগ সম্পর্কেও তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করে গিয়েছিলেন। মুসলমানদের জন্য পৃথক পাকিস্তান রাষ্ট্রের দাবির বিরোধিতা করেছিলেন যে সকল ভারতীয় মুসলমান, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব ছিলেন মৌলানা আজাদ। ১৯৯২ সালে তাঁকে ভারতের সর্বোচ্চ সম্মান 'ভারতরত্ন' উপাধিতে (মরণোত্তর) ভূষিত করা হয়। স্বাধীন ভারতে শিক্ষাবিস্তারে তাঁর উজ্জ্বল ভূমিকার কথা স্মরণে রেখে তাঁর জন্মদিনটি 'জাতীয় শিক্ষা দিবস' হিসেবে পালন করা হয়।

তরুণ বয়স থেকে মৌলানা আজাদ উর্দু ভাষায় কবিতা এবং ধর্ম ও দর্শন-সংক্রান্ত নিবন্ধ রচনা করতে শুরু করেন। তিনি সাংবাদিকতার পেশা গ্রহণ করে ব্রিটিশ শাসনের সমালোচনা করেন এবং ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে সমর্থন জানান। পরে আজাদ খিলাফত আন্দোলনের নেতৃত্ব দান করেন। সেই সময় তিনি মহাত্মা গান্ধীর সংস্পর্শে আসেন। আজাদ ১৯১৯ সালের রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধীর অহিংস অসহযোগের ধারণায় অনুপ্রাণিত হয়ে অসহযোগ আন্দোলন সংগঠনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ১৯২৩ সালে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনিই ছিলেন কংগ্রেসের সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি।

১৯৩১ সালে মৌলানা আজাদ ধারাসন সত্যাগ্রহ শুরু করেন। এই সময় তিনি হয়ে ওঠেন দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেতা। তিনি ভারতে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণা এবং হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির কথা প্রচার করেন। 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলনের সময় ১৯৪০ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর তিনি কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এই সময় তিন বছর তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন। তিনি ভারতের অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিত্বও করেছিলেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের অব্যবহিত আগে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় তিনি হিন্দু-মুসলমান সম্বপ্রীতির প্রচেষ্টা চালান। স্বাধীন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তিনি বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষার জন্য আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি চালু করেন। তিনিই ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন স্থাপন করেন।

১৯৫৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এই মানবতাবাদী রাজনীতিবিদ ও সমাজ সংস্কারক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।


মন্তব্য