জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীর আলোছায়ায়

ছবি ::রাজিব পাল

  দীপা মাহবুবা ইয়াসমিন

কিউরেটরবিহীন 'জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী'র বিড়ম্বনা এবং মাধ্যম ও বিভাগের স্থিতিমাপে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টায় কিছু অস্বতঃস্ফূর্ত শিল্পকর্ম

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে চলছে 'জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী'র ২৩তম আসর। শুধু বছরের হিসাব কষলে প্রাপ্তবয়স্ক দাবি করার জন্য যথেষ্ট এ আসর। তবে আয়োজনের মানের বিচারে সাবালকত্বের পরিচয় ক্ষীণই রয়েছে প্রদর্শনীতে।

চিত্রশালায় প্রবেশ করেই সর্বপ্রথম যে খটকা লাগে তা হলো, চিত্রশালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ১ ও ৩ নম্বর গ্যালারিতে জাতীয় পর্যায়ের এ প্রদর্শনীর কাজকে স্থান দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রের উন্নয়নবিষয়ক 'মাননীয় ব্যক্তিত্বের' ওপর একটি প্রদর্শনী অপেক্ষারত সেখানে উদ্বোধনের জন্য। জানা যায়, একটা লম্বা সময় ধরেই এটা অপেক্ষমাণ রয়েছে। আর এ বিচ্যুতির ফলে প্রদর্শনীটি নিশ্চিতভাবেই মান-সংকটে পড়েছে।
'প্রজ্ঞা গায়ক', শিল্পী ফারিয়া তাসনিম এবং 'জুডিশিয়ারি ইমব্যালান্স', শিল্পী জান্নাতুল ফেরদৌস

'জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী'র এ আয়োজনে অংশ নেওয়ার জন্য ৮৫০ জন শিল্পী আবেদন করেছিলেন। বাছাইয়ের পর ৩১০ জন শিল্পীর মোট ৩২২টি শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে স্থান পায়। এর মধ্যে ১৫৯টি চিত্রকলা, ৪৫টি ভাস্কর্য, ৫০টি ছাপচিত্র, ১৭টি কারুশিল্প, ৮টি মৃৎশিল্প, ৩৭টি স্থাপনা ও ভিডিও আর্ট, ৭টি কৃৎকলা (পারফরম্যান্স আর্ট)। ক্যাটাগরিগত এ বিন্যাস দেখেই উপলব্ধি করা গেল, বহুদিন ধরে বাংলাদেশের যে বুদ্ধিজীবী শিল্পী ও শিল্প সমালোচকরা জাতীয় প্রদর্শনীতে কনসেপচুয়াল, পারফরম্যান্স কিংবা ভিডিও বা স্থাপনাশিল্পের বিশেষ ক্যাটাগরির জন্য বাহাস করেছেন, তাঁরা সফল হয়েছেন। তবে বোদ্ধারা এটা কেন করেছিলেন সেটা ভাববার বিষয়। মাধ্যমভিত্তিক শিল্পীদের স্বার্থ ও সুযোগ বৃদ্ধিই কি ছিল এর প্রধান লক্ষ্য? কেননা শিল্পী তার ভাবনাকে প্রকাশের জন্য প্রতিনিয়ত নতুন কোনো নিজস্ব ভাষা, মাধ্যম বা প্রকাশভঙ্গির জন্ম দিতে পারেন। সেই পথ হবে উন্মুক্ত ও প্রসারিত, এটাই কাম্য। প্রকাশভঙ্গির জন্ম কৃত্রিমতাপূর্ণ হোক এটা কারোরই আকাঙ্ক্ষা নয়, তবে কেন শিল্পীর কাজকে মাধ্যমভিত্তিক ক্যাটাগরিতে বন্দি করার চেষ্টা? শিল্পের মান নির্ণয় কিংবা বিচার আদৌ মিডিয়াম বা ক্যাটাগরিভিত্তিক হওয়া উচিত নাকি মিডিয়াম বা ক্যাটাগরিবিহীন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত প্রথা হওয়া উচিত- বর্তমান সময়ে সেই বাহাস প্রয়োজন। কেননা শিল্পচর্চায় যখন মাধ্যম বা টেকনিক্যালিটি হয়ে যায় মুখ্য, তখন ভাবনার গভীরতা গৌণ হয়ে পড়ে। পুরনো আলোচনাই তখন নতুনভাবে পুনরাবৃত হয়। যেমন, ভিডিও আর্ট আদৌ ভিডিও আর্ট থাকল কি-না, নাকি ওটা ফিল্ম ক্যাটাগরিতে চলে গেল! পারফরম্যান্স আর্ট আর থিয়েটার যেন না হয়ে যায়! মনোনয়নের প্রত্যাশাপ্রার্থী শিল্পীরা তাঁদের ভাবনার স্বাধীনতা নিয়ে যতটুকু না ভাবছেন, তার চেয়ে ঢের ভাবছেন ক্যাটাগরির প্যারামিটারে খাপ খাওয়ানো যাচ্ছে কি যাচ্ছে না, সে নিয়ে। শুধু ন্যাশনাল নয়, বাংলাদেশের বর্তমান প্রায় সব প্রদর্শনীর শিল্পকর্মই এই একই দোষে দুষ্ট।
'তৈল সমাচার' শিরোনামে শিল্পী সুজন মাহবুবের পারফরম্যান্স শিল্প

এককালে শিল্পের মান নির্ণয় করত চার্চ, ডিউক বা ক্ষমতাশালী রাজন্যবর্গ, আধুনিককালে আমাদের দেশে এ ভার রয়েছে রাজধানীর ক্ষমতাসম্পন্ন শিক্ষক ও সরকারি কর্মকর্তাদের পছন্দ-অপছন্দের ওপর। ফলে শিল্পের মান নির্ণয়ে শ্রেণিকক্ষের নীতি অনুসারেই আকারের বিশালতা আর মাধ্যম ও তার ব্যবহারের রীতিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন শিক্ষকরা। এছাড়া যে কোনো প্রদর্শনীতে শিল্প নির্বাচন, বিচার ও বিন্যাস (display) তিনটি প্রক্রিয়া একসূত্রে গাঁথা না হলে শিল্পের গুণগত নৈপুণ্য প্রতিফলিত হওয়া সম্ভব নয়, চলতি এ প্রদর্শনী এর নমুনা হিসেবে যথার্থ। এই গোটা আয়োজনের পেছনে ছিল আন্তঃযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন তিনটি পরিষদ। মূলত কিউরেটরহীনতাই এই বিচ্ছিন্নতার কারণ। আরও একটি সংকট হলো, শিল্পীরা তাদের কাজের প্রচারের জন্য গণমাধ্যমের ন্যূনতম শিল্পজ্ঞানহীন ব্যক্তিবর্গের কাছে শোচনীয়ভাবে নির্ভরশীল। এছাড়া রাজধানীকেন্দ্রিক প্রায় সব শিক্ষক ও শিল্পীরা ব্রাত্য শিল্পীদের সম্পর্কে অবগত নন। ব্যক্তিগত পরিচয়ের অভাবে অনেক শিল্পীর কাজই থেকে যায় দৃষ্টিসীমার বাইরে। এ গোলযোগ থেকে পরিত্রাণের জন্য একজন সুযোগ্য কিউরেটরের উপস্থিতি সমন্বয় ঘটাতে পারত প্রয়োজনীয় গবেষণার ও বিচ্ছিন্ন সংযোগের।

এরপরও প্রশ্ন থেকে যায়, স্থানিকভাবে কতটা জাতীয় পর্যায়ে উত্তীর্ণ হতে পেরেছে রাজধানীকেন্দ্রিক 'জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী'? যদি রাজধানীতে শুরু হওয়া প্রদর্শনীটি পর্যায়ক্রমে সম্ভব হলে সব জেলা পর্যায়ে, না হয় অন্তত বিভাগীয় পর্যায়ে বৃত্তাকারে প্রদর্শনের দায়িত্ব নেওয়া হতো, তবেই পরিসর ও ব্যাপ্তিতে 'জাতীয়' শব্দটির সার্থকতা নির্মাণ সম্ভব হতো।

কিউরেটরবিহীন এ প্রদর্শনীর সমালোচনার পাশাপাশি স্বীকার করতে হয়, এর সুফল হিসেবে অন্তত ডিসপ্লের ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয়েছে শিল্পীদের 'সেলফ কিউরেশন' চর্চার চেষ্টা। এর বিশুদ্ধ উদাহরণ সোমা সুরভী জান্নাতের 'অদ্ভুত যোগশৃঙ্খল' শিল্পকর্মটি। যেখানে শিল্পী তার জন্য নির্ধারিত স্থানের সর্বোচ্চ ব্যবহার ও নতুন স্থান নির্মাণের চেষ্টা করেছেন। প্রতিটি শিল্পী নিজ শিল্পকর্ম বিন্যাসের সময় যে পাশের শিল্পীর সুবিধা ও অসুবিধা বিবেচনা করেছেন, সেজন্যও তাঁরা অভিবাদনের দাবিদার।

এবারের আয়োজনে যে প্রশংসনীয় একটি পরিবর্তন চোখে পড়েছে তা হলো আলোর বিন্যাস। চিত্রশালার নিজস্ব আলোক গতিপথের বাইরেও দেয়াল, ছাদ কিংবা মেঝে থেকে বেশ কিছু আলোকবিন্যাস চোখে পড়ে, যা কোনো কোনো সাধারণ কাজকেও করে তুলেছে দৃষ্টিনন্দন। 'রুদ্ধশ্বাস' শিরোনামে তাজরিয়ান তাবাস্‌সুমের শিল্পকর্মের নাট্যমঞ্চের ন্যায় আলোর ব্যবহার এর যথার্থ উদাহরণ। এছাড়া শিল্পরূপ ও প্রকাশকে যথার্থভাবে তুলে ধরেছেন 'প্রান্তে পুরুষ-৩' শিরোনামে শিল্পী ইমাম হোসেন সুমন, জিহান করিমের 'কসমস', 'ছদ্ম-আবরণ' শিরোনামে আনিসুজ্জামান সোহেল। ভিন্নধর্মী বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা সংবলিত প্রয়াস দেখা যায় তানভির মাহমুদের প্রণিধান-২।

'জাতীয় শিল্পকলা প্রদর্শনী' প্রাথমিকভাবে হতে পারে দেশকালচিহ্নিত এবং দেশকালসাপেক্ষ। সে ক্ষেত্রে বিষয়বস্তুর দিক থেকে জাতীয় দ্বন্দ্ব-সংকট-সম্ভাবনায় হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিপাত। সেই বিবেচনায় সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, ইতিহাস, অস্তিত্বের মধ্যে নিয়ত শিল্পীর অবস্থানের প্রকাশ কতটুকু ঘটেছে এই প্রদর্শনীতে, সেটা ভাববার প্রয়োজন রয়েছে।

বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতির প্রতিরূপ পাওয়া যায় এমন নজির সঞ্জয় চক্রবর্তীর 'ভয়ের শহর', 'তৈল সমাচার' শিরোনামে শিল্পী সুজন মাহবুবের পারফরম্যান্স শিল্প। শূন্যে থাকা একটি উঁচু চেয়ারকে স্পর্শ করার জন্য একখানা মইয়ের প্রতি ধাপে তার জিভের সাহায্যে 'তেল'/'ঘি'/'মাখন' প্রভৃতি মাখাতে মাখাতে ওপরে উঠতে থাকেন। ব্যক্তিজীবনে সরকারি চাকুরে সুজনের এ ব্যঙ্গাত্মক পারফরম্যান্সটি তাঁর পেশাজীবনের সংকট এবং একই সঙ্গে প্রশাসনের চরিত্রকে স্পষ্ট করে তোলে। মিশ্র মাধ্যমে শিল্পী শারদ দাশের 'উই আর গোইং ফাস্ট!' শিল্পকর্মটিও তাঁর ব্যঙ্গাত্মক চরিত্রের জন্য নজর কাড়ে। তবে এই কাজটির জন্য স্থান নির্বাচনে ডিসপ্লে পরিষদের অমনোযোগিতা ও অসতর্কতা এর আশপাশের বাকি কাজগুলো দেখায় দর্শকের বিরক্তি তৈরি করে। কেননা এই কাজের তলে থাকা লাল আলোর বর্ণমালাগুলো ও ভিডিওটি আশপাশের সব পেইন্টিংয়ের ওপর প্রতিফলিত হতে থাকে সর্বক্ষণ। ডিসপ্লে পরিষদর নাবালকত্বের আরও কিছু উদাহরণের মধ্যে সব কাজের জন্য একই মাপের নামের ট্যাগ এবং তা কোনো চিন্তাভাবনা ছাড়াই তা কাজ বরাবর ঠিক পাশেই ঠেসে দেওয়া। এর ফলে যেমন তাহমিনা হাফিজ লিসার 'মেটামরফসিস' শিরোনামের ক্ষুদ্রকায় ছাপচিত্রের তুলনায় পাশের বড় নাম নির্দেশিকা কাজ দেখতে দর্শকের চোখে বাধা তৈরি করে।

আবার শিল্পী আদিল মাহামুদ হাসনাতের 'নাগরিক জীবনের যাত্রা-৩' এবং শিল্পী তারিন আলমের 'মাদার অ্যান্ড নেচার' কাজের মাপ ও বৃত্তাকার ফ্রেমের সাদৃশ্যের ফলে প্রয়োজনীয় শূন্যস্থান না রেখে এমনভাবেই বিন্যাস করা হয়েছে যেন একই শিল্পের অংশ। আবার মো. ইমতিয়াজ ইসলামের 'রূপান্তরের যাত্রা' এবং রাসেল রানার 'লিঙ্গ পাখি' বিষয়বস্তুগত সাদৃশ্যের কারণে একটি নির্দিষ্ট বলয়ে (zone) বিন্যাস করা হলে দুটো কাজের প্রতিপাদ্য প্রান্তিকতা ও রূপের সামঞ্জস্য দর্শকের মানসচৈতন্যে সার্থকভাবে সাড়া জাগাতে সমর্থ হতো তখন। কিন্তু এ দুটো কাজকে রাখা হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন তলায়, বিবিধ কাজের ভিড়ে।
শিল্পী ইমতিয়াজ ইসলামের 'রূপান্তরের যাত্রা' এবং রাসেল রানার 'লিঙ্গ পাখি'

চারুকলা প্রদর্শনীর জাতীয় মাত্রা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ শিল্পীর অনুপস্থিতি কাম্য নয়। ১ ও ৩ নম্বর গ্যালারি বন্ধ রাখার প্রতিবাদে শিল্পী কাম্‌রুজ্জামান স্বাধীন তার স্থাপনা শিল্পটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত।

গ্যালারি সংকট ছাড়াও প্রদর্শনীতে দৃষ্টিদূষণ সৃষ্টি করছিল চিত্রশালার অপরিচ্ছন্ন দেয়াল। হতাশা তৈরি করে অনুশীলনধর্মী শিল্পকর্মের আধিক্য। মান নির্ধারণে জ্ঞানগত কাঠামোর অভাবে চিত্রকর্ম নির্বাচনে ক্যানভাসের মাপের বিশালতাই কাজের বক্তব্যের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে ধারণা করা যায়। স্থাপনাশিল্পের উপস্থাপনায় বাহুল্যের নমুনা হিসেবে প্রিয়াংকা পণ্ডিতের 'সময়ের বিয়োগব্যথা', রাজীব কুমার রায়ের 'বিপন্ন গৌরি' বা শর্মিলা রায়ের সিলভার ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড মাইন্ড-২ কিংবা নারগীস পলির 'কোল্ড ব্লাডেড ড্রিংক'-কে বলা যায়।

এছাড়াও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের তালিকার অন্যতম কাজের শিরোনাম 'প্রজ্ঞা গায়ক', শিল্পী ফারিয়া তাসনিম। যে চিত্রকর্মে মাইক্রোফোনের সামনে দেখা যায় গলায় হেডফোন ঝোলানো একটি ছাগল। অর্থাৎ একজন চিত্রশিল্পী হাস্যরসাত্মকভাবে দেখতে চাইছেন, তথাকথিত কোনো 'বেসুরো সঙ্গীতশিল্পী'কে। একজন শিল্পীর অন্য একজন শিল্পীর প্রতি এমন অসম্মানজনক চিত্রকর্ম যখন 'জাতীয় পর্যায়ে' নির্বাচিত হয়, তখন সেই প্রদর্শনীর জুরি বোর্ডের নীতিতত্ত্ব নিয়ে প্রশ্ন না করে পারা যায় না। এমন উদাহরণ আরও রয়েছে, শিরোনাম জুডিশিয়ারি ইমব্যালান্স, শিল্পী জান্নাতুল ফেরদৌস। চোখ বেঁধে রাখা নারীর হাতে বিচার বিভাগের প্রতীক 'দাঁড়িপাল্লা'। যার ভারে নুয়ে পড়া পাল্লায় তোলা আছে তিনখানা কালো দাঁড়কাক, আর কমভারী বা উঁচুতে থাকা পাল্লায় দু'খানা শ্বেতশুভ্র কবুতর। ভালোমন্দের উপস্থাপনায় যেখানে শিল্পীর 'সিলেকশন অব মেটাফোর' তাঁর বর্ণবাদী মনস্তত্ত্বকে স্পষ্ট তুলে ধরছে, সে কাজকেও জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে!

সোমা সুরভী জান্নাতের 'অদ্ভুত যোগশৃঙ্খল' শিল্পকর্ম

প্রদর্শনীর সংকটের কারণ ও পরিত্রাণের পথ অনুসন্ধানে কর্তৃপক্ষের সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন। সমকালীন শিল্পীদের সঙ্গে অনেক চিত্র-বিচারকের ব্যক্তিগত যোগাযোগ রয়েছে। ফলে, অনেক সময় বিচার-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তা অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় শিল্পীর সঙ্গে যোগসূত্র ও বন্ধুত্ব বাছাই-সমালোচনা ও স্থান বণ্টনে পক্ষপাতমূলক হয়ে ওঠে। কিন্তু শিল্পীকে বুঝতে হলে চিত্র-বিচারককে নির্ভর করতে হবে শিল্পীর সৃষ্ট শিল্পকর্ম ও শিল্প প্রক্রিয়ার ওপর। এমন বিচার প্রক্রিয়া প্রয়োজন, যেখানে প্রদর্শনী হবে শিল্পকর্ম ও শিল্প-প্রক্রিয়া ও রচানাশৈলী সম্পর্কে সমঝদার একজন বোদ্ধার জ্ঞানগর্ভ বিচার। এছাড়া বিচার প্রক্রিয়ায় এটাও মনে রাখা প্রয়োজন, বিশেষ কোনো মাধ্যম বা রীতির প্রতি যদি পক্ষপাতিত্ব বা গোঁড়ামি অব্যাহত থাকে তবে শিল্প দর্শক কিংবা শিল্পী, কেউই লাভবান হবেন না।

পরিশেষে বলব, অন্যের সমালোচনা পড়ে প্রদর্শনী বিবেচনা না করে নিজে দেখুন ও পর্যালোচনা করুন। প্রদর্শনী চলবে ২১ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা ও শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ আয়োজন সবার জন্য উন্মুক্ত।


মন্তব্য