ঢাকা লিট ফেস্ট

সাহিত্যের রাজধানী এখন ঢাকা

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮

  মোজাফ্‌ফর হোসেন

গতকাল শুরু হলো ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৮। গত কয়েক বছরে এই আন্তর্জাতিক সাহিত্যায়োজন এতটা উচ্চতায় পৌঁছে গেছে যে, প্রতি বছর এ সময়টার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হয়। যাঁদের বই পড়ি, সিনেমা দেখি, যাঁদের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেখি, বক্তৃতা শুনি ইউটিউবে; তাঁদের সশরীরে দেখতে পাব, সামনে বসে তাঁদের জীবন ও শিল্পচর্চার নানা প্রেক্ষিত ও প্রেক্ষাপটের কথা শোনা হবে- এর চেয়ে আকাঙ্ক্ষিত আর কিছু হতে পারে না।

গত বছর যেমন সম্প্রতি প্রয়াত নোবেলজয়ী লেখক ভি এস নাইপলের লেখক হয়ে ওঠার কথা শুনেছি। যতটা জানি, মৃত্যুর আগে বাংলাদেশই ছিল তাঁর শেষ সাহিত্য সফর। আমার আগ্রহের লেখকদের মধ্যে আরও ছিলেন 'ফাদার অব মডার্ন অ্যারাবিক পোয়েট্রি'খ্যাত সিরীয় কবি আদোনিস এবং কমনওয়েলথ ও বুকারজয়ী নাইজেরীয় উত্তরাধুনিক ধারার লেখক বেন ওকরি। বেন ওকরি দেশে ফিরে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে লিখবেন বলে জানান। দুপুরে লাঞ্চের সময় তাঁকে বললাম- আপনি বাংলাদেশি খাবার খাবেন, না ওয়েস্টার্ন? তিনি সহাস্যে বললেন, 'তোমাদের খাবারের প্রশংসা শুনেছি! খেয়ে দেখি।' গত আসরে শ্রীলংকার খ্যাতিমান লেখক অশোক ফেরে, লেখক-সাংবাদিক বি রোলাট, নাট্যকার-নির্মাতা ডেভিড হেয়ার, সিগমন্ড ফ্রয়েডের পৌত্রী ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক এসগার ফ্রয়েড, নারীবাদী লেখক-প্রকাশক ঋতু মেনন, চিত্রশিল্পী সান্ড্রো কপ, অক্সফোর্ডের ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ভ্যালেন্টাইন কানিংহাম, ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ড্যালরিম্পলসহ অনেকের সেশন ভীষণভাবে উপভোগ করেছি। এমন কয়েকজন লেখকের কথা শোনা হয়েছে, যাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিখ্যাত কিন্তু আমার জানা ছিল না। ফলে ঢাকা লিট ফেস্টের কারণে অনেক লেখককে নতুন করে জানাও হয়েছে।

পত্রপত্রিকায় পড়েছি, বাংলাদেশি ডায়াসপোরা লেখক গালিব ইসলামের প্রথম উপন্যাস 'ফায়ার ইন দ্য আননেমঅ্যাবল কান্ট্রি' পড়ে আমার প্রিয় লেখক কানাডীয় কবি ও কথাশিল্পী মার্গারেট অ্যাটউড ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সেই গালিব ইসলামকে পেয়ে গেলাম লিট ফেস্টে। আরেক বাংলাদেশি লেখক জিয়া হায়দার রহমান তাঁর প্রথম উপন্যাস 'ইন দ্য লাইট অব হোয়াইট উই নো' দিয়ে ইউরোপ-আমেরিকায় আলোচিত হয়েছেন; তাঁকেও পেয়ে যাই লিট ফেস্টের অন্য এক আসরে। এ বছর এসেছেন কানাডা-প্রবাসী বাংলাদেশি লেখক আরিফ আনোয়ার। সম্প্রতি খ্যাতনামা প্রকাশনা সংস্থা হার্পারকলিন্স থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর প্রথম উপন্যাস 'দ্য স্টর্ম'। আমি তাঁর উপন্যাসটি পড়ে ইন্টারভিউ নিয়েছি অনলাইনে। আজ (শুক্রবার) সকালেই তাঁর সেশন শুনব। হয়তো কথাও হবে।

লিট ফেস্টের চলতি আসরে অংশ নিতে ঢাকায় অবস্থান করছেন পুলিৎজার ও অন্দাজ্জে, বুকারের মতো সাহিত্য পুরস্কারজয়ী লেখকরা। আমি নিজে মুখিয়ে আছি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক মোহাম্মদ হানিফ, পুলিৎজারজয়ী মার্কিন সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ অ্যাডাম জনসন, ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক ফিলিপ হেনশের, বুকারজয়ী ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক জেমস মিক, ভারতীয় জনপ্রিয় লেখক জয়শ্রী মিশরা, লন্ডন ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব রাইটিংয়ের পরিচালক ও কথাসাহিত্যিক রিচার্ড বিয়ার্ড, ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল এশিয়ার প্রধান হুগো রেস্টল, মার্কিন সাংবাদিক প্যাট্রিক উইন, লেখক ও সাংবাদিক নিশিদ হাজারি ও শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সেশনগুলোর জন্য। 'বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস :সংকট ও উত্তরণ', 'বাংলা সাহিত্য :নারী ও পুরুষ', 'যে গল্পের পাঠক নেই', 'সন্ত্রাসবাদের যুগে সাংবাদিকতা', ', Dirty LaundryÕ, ÔRights in the Age of Fake NewsÕ, ÔHer Stories : I Am ChangeÕ, ÔTechnology and the FutureÕ, ÔAppropriate CultureÕ, ÔThe Great BetrayalÕ, ÔTales of An Art Lover ' প্রভৃতি সেশন আমার নিজের পছন্দের তালিকায় আছে।

উপমহাদেশের প্রখ্যাত লেখক সাদাত মান্টোকে নিয়ে ভারতে নির্মিত ছবি 'মান্টো'র প্রথম প্রিমিয়ার হবে এ উৎসবে। উপস্থিত থাকবেন ছবির পরিচালক নন্দিত অভিনেত্রী নন্দিতা দাশ নিজেই। আজ দুপুরে (৯ নভেম্বর) তাঁর সঙ্গে ক্যান্সারজয়ী ভারতের খ্যাতনামা অভিনেত্রী মনীষা কৈরালার একটা সেশন আছে 'ব্রেকিং ব্যাড' শিরোনামে। তাঁরা কথা বলবেন আত্মজীবনী, নারী অধিকার, অভিনয়-জীবন ও বহুল আলোচিত '#মিটু' আন্দোলন নিয়ে। ওটা কোনোভাবেই মিস করতে চাই না। লিট ফেস্টে নারীর অধিকার ও অগ্রযাত্রার বিষয়টি বরাবরই গুরুত্ব পায়। এবারও নানা সেশনে সেই প্রাধান্য বজায় আছে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যা ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিক।

লিট ফেস্টের মহত্ত্ব এখানেই যে, জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব শাখা একই মঞ্চে উঠে আসছে। শুরুতে তা ছিল না। আসর যত এগিয়ে যাচ্ছে, তত সম্প্রসারিত হচ্ছে বিষয়-বৈচিত্র্যে। এতে লিট ফেস্টের নামকরণে 'লিট' অর্থাৎ 'সাহিত্য' থাকার কারণে অনেকে বিভ্রান্ত হতে পারেন। কিন্তু প্রাসঙ্গিক এই অর্থে যে, সাহিত্য মানবজীবনের কোনো বিষয় থেকেই বিচ্ছিন্ন নয়। সাহিত্য এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি যৌগিক শিল্পক্ষেত্র।

একটু পেছন ফিরে তাকালে আমরা দেখব, ২০১১ সালে হে ফেস্টিভ্যাল নামে এই আয়োজনের যাত্রা শুরু হয়। ২০১৫ সালে এটির নতুন নাম হয় ঢাকা লিট ফেস্ট। এ বছর বসেছে লিট ফেস্টের অষ্টম আসর। গত আট বছর বেশি সময় না হলেও এই আয়োজন থেকে প্রাপ্তি আমাদের একেবারে কম নয়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিকভাবে যে অগ্রযাত্রা, সেটি বিশ্ববাসীর নজরে না আসার কারণ নেই। উন্নয়নের নানা সমীক্ষায় আমরা এশিয়ার অনেক দেশকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছি। এখন প্রয়োজন সাংস্কৃতিকভাবে বাংলাদেশকে বিশ্বে তুলে ধরার। সেটি নানাভাবে করতে হবে। ঢাকায় বেঙ্গল ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক ফেস্টিভ্যাল এবং ফোকফেস্ট হচ্ছে। মাসব্যাপী এশীয় দ্বিবার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনীর আয়োজন করছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। প্রয়োজন ছিল একটা আন্তর্জাতিক মানের সাহিত্যানুষ্ঠানের। 'ঢাকা লিট ফেস্ট' শীর্ষক ব্যানারে সেটিও দারুণভাবে সম্পন্ন হচ্ছে প্রতি বছর। এর প্রাপ্তি সবকিছু খোলা চোখে ধরা পড়বে না। বিশ্বের খ্যাতনামা লেখকদের পাশাপাশি মেধাবী তরুণ লেখকদের সঙ্গে আমাদের দেশের লেখকদের সাক্ষাৎ-মতবিনিময় ঘটছে। পরস্পর শিল্পধারা, প্রবণতা ও উপস্থাপন শৈলী সম্পর্কে অবগত হচ্ছেন। আমার মতো শত শত তরুণ লেখক বিশ্বের অন্য-প্রান্তের হালনাগাদ ভাবনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে পারছেন। এগুলো অদৃশ্য অর্জন। দৃশ্যত প্রাপ্তির মধ্যে আমরা দেখছি ক্যামব্রিজ শর্ট স্টোরি প্রাইজ কর্তৃপক্ষ লিট ফেস্টের মঞ্চকে তাদের পুরস্কার লঞ্চ করার জন্য বেছে নিয়েছে। এখানেই প্রথমবারের মতো এই পুরস্কারের ঘোষণা দেবে তারা। আন্তর্জাতিক সাহিত্য পত্রিকা গ্রান্টা ম্যাগাজিন একমাত্র বাংলাদেশের এই আয়োজনের সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো পার্টনার হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। তাদের চারজন প্রতিনিধি বিশ্বসাহিত্য নিয়ে আলোচনা করার জন্য এবারের আসরে এসেছেন বলে জানতে পেরেছি। বাংলা সাহিত্যের লেখকদের বই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে 'সি গার্ল' নামে একটি ভারতীয় প্রকাশনীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঢাকা লিট ফেস্ট কর্তৃপক্ষ। লিট ফেস্টের বদৌলতে অস্কারজয়ী ব্রিটিশ অভিনেত্রী টিলডা সুইন্টন বাংলাদেশের বয়স্ক শিক্ষাকে তাঁর একটি চলচ্চিত্রে যুক্ত করছেন। তিনি ছবিটির শুটিং করবেন বাংলাদেশে। 'সাহিত্যের রাজধানী ঢাকা' শিরোনামে গত বছর ৩ নভেম্বর ফ্রান্সের এক শীর্ষস্থানীয় দৈনিক লা মন্ড-এ প্রকাশিত হয়েছে ঢাকা লিট ফেস্ট-২০১৭-এর সংবাদ। এ রকম আরও অনেক অর্জনের গল্প আছে, যার সবটা হয়তো আমি নিজেও জানি না।

অনেকে লিট ফেস্টে না এসেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ তোলেন দেশের মূলধারার সাহিত্য বা লেখক উপেক্ষিত হচ্ছেন বলে। এবারও এ উৎসবে তিন দিনে ৯০টির বেশি সেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রায় দেড়শ' লেখক, অনুবাদক, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ এ আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন। এঁদের অনেকেই আমাদের প্রতিনিধিত্বশীল লেখক। আনন্দের বিষয়, বাংলাদেশের তরুণ লেখকদের নিজেকে তুলে ধরার প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও লিট ফেস্টের মঞ্চ বিবেচিত হচ্ছে। এর পরও যাঁরা ইংরেজি ভাষী লেখকদের গুরুত্ব দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাঁদের কাছে আমার উল্টো জানতে চাওয়া :সারাবছর তো রাজধানীসহ দেশের নানা প্রান্তে বাংলা ভাষায় বাংলাদেশি লেখকদের নিয়ে সাহিত্য সম্মেলন হয়; বছরের তিনটা দিন আমরা ভিনদেশি লেখক-শিল্পীদের কথা শুনলে ক্ষতি কী? বিদেশি সাহিত্য আমরা পড়ি না বা তা থেকে কিছু গ্রহণ করি না- এমন তো নয়। শেক্‌সপিয়র-তলস্তয়-দস্তয়েভস্কি-রবীন্দ্রনাথের মতো লেখকদের কি নির্দিষ্ট জাতি-পরিচয়ে বেঁধে রাখা গেছে? একজন প্রকৃত লেখক কখনও ভিনদেশি হন না। তাঁরা সব জাতির, সব কালের।

ঢাকা লিট ফেস্টকে 'এলিট ফেস্ট' বলে এড়িয়ে চলারও কোনো কারণ দেখি না। বাংলাদেশের মূলধারার সাহিত্যও এক প্রকার জনবিচ্ছিন্ন। দেশের জেলায় জেলায়, থানায় থানায় খ্যাতিমান সব লেখকের বই পৌঁছায় না। প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে একটা ভালো বই বিক্রি হয় ৫শ' থেকে এক হাজার কপি। খুব বেশি হলে পাঁচ হাজার কপি। তাও কয়েক বছরে। ৫ হাজার কপির বেশি মুদ্রিত হয় এমন সাহিত্য পত্রিকা দেশে নেই। এটা পত্রিকার সামর্থ্য বা সাহিত্যমানের প্রশ্ন নয়। প্রশ্ন হলো, দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শিল্প-সাহিত্যের ভোক্তা কি-না! যদি না-ই হয় তাহলে 'এলিট ফেস্ট' আর 'মধ্যবিত্ত/ সাধারণ জনগণের ফেস্ট', এসব বলে আলাদা করি কেমন করে! তথ্য বলছে, লিট ফেস্টে তিন দিনে ২৫ হাজারের মতো মানুষ আসেন দর্শক হিসেবে। বাংলাদেশে অন্যান্য সাহিত্যানুষ্ঠানে দর্শক সারিতে কত মানুষ অংশ নেন, তার হিসাব আমাদের অজানা নয়।

যাঁরা নিজেরা সব সময় কথা বলতে চান, অন্যকে শুনতে চান না; মঞ্চের অতিথি হিসেবে দাওয়াত না পেলে তাঁদের জন্য একটু অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। কিন্তু যাঁদের শোনার ও অন্যের কাছ থেকে শেখার অভ্যাস ও আগ্রহ আছে, তাঁদের জন্য এটি নিশ্চয় উপভোগ্য হয়ে উঠবে। আমি নিশ্চিত, তাঁরাও আমার মতো অপেক্ষা করেন বছরের এই তিনটি দিনের জন্য। তবে হ্যাঁ, ঢাকা লিট ফেস্টে দেশ থেকে যে শতাধিক লেখক-শিল্পী অংশ নেন, সেখানে ঘষামাজা করার সুযোগ আছে। রাজধানীর বাইরেও অনেক ভালো লেখক আছেন। তাঁদেরকে এই আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। আয়োজকরাও যে বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন এবং কিছু কিছু কাজও করছেন, তার ফল আমরা গত দু-এক বছরে দেখেছি। প্রত্যাশা করি, তাঁরা আরও বেশি নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে আমাদের দেশীয় বক্তাদের নির্বাচন করবেন। কিন্তু সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত আয়োজন আমি আশা করি না। কারণ আমার সেই আশার ভেতরেই যে ত্রুটি নেই- সেটা নিশ্চিত হয়ে বলি কেমন করে! এই আয়োজন যত দীর্ঘ-জীবন পাবে, নিজ থেকেই তত বেশি শুদ্ধ হয়ে উঠবে। তাই আপাতত কামনা করি- ঢাকা লিট ফেস্ট সফলভাবে এগিয়ে যাক; বাংলা সাহিত্য সম্মানের সঙ্গে বিশ্বসাহিত্যের অংশ হয়ে উঠুক। সেটি করতে হলে ইংরেজি ভাষাকে অস্বীকার করে নয়; সঙ্গে নিয়েই করতে হবে। া


মন্তব্য যোগ করুণ