পশুপাখির প্রতি সদয় আচরণ করুন

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮

  মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। লাখো কোটি পশুপাখি মানবকল্যাণে নিয়োজিত। এমন কোনো সৃষ্টি নেই, যা কোনো না কোনোভাবে মানুষের কল্যাণে কর্মরত নেই। যদিও মানুষের বিবেচনায় তা আসে কমই। তাই বুঝে হোক, না বুঝে হোক; পশুপাখিকে আমরা কষ্ট দিই। তাদের হত্যা করতেও বিবেকে বাধে না। পাখির ডানার সামনের অংশ কেটে ফেলা হয়। কারণ এতে পাখি পোষ মানানো সহজ; উড়ে যেতে পারে না।

পশুপাখির অঙ্গহানি করা সম্পূর্ণ নিষেধ। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত- মহানবী (সা.) ওই ব্যক্তিকে অভিশাপ দিয়েছেন যে প্রাণীদের অঙ্গচ্ছেদ করে (বুখারি-৫১৯৫)। নবী করিম (সা.) বলেছেন- জীবিত অবস্থায় যে প্রাণীর কোনো অংশ কাটা হয়, সেটা মৃত তথা হারাম হয়ে যাবে (তিরমিযি-১৪৮০)।

বাকশক্তিহীন প্রাণীদের বিষয়ে সতর্ক থাকা কাম্য। কষ্ট দেওয়া, প্রহার করা, হত্যা করা যাবে না। মহানবী (সা.) বলেছেন- এসব বাকশক্তিহীন প্রাণীর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। সুস্থ অবস্থায় এগুলোতে আরোহণ করো। সুস্থ অবস্থায় আহার করো (আবু দাউদ-২৫৪৮)। পশুপাখিকে অযথা বিরক্ত করা যাবে না। তাদের ধরা, আঘাত করা নিন্দনীয়। শিকার করাও ভালো নয়। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন- কোনো প্রাণীকে লক্ষ্যবস্তু বানিও না (মুসলিম-১৯৫৭)। সাঈদ ইবনে যুবাইর (রা.) থেকে বর্ণিত- একবার হজরত ইবনে ওমর (রা.) কুরাইশ গোত্রের একদল বাচ্চাকে দেখতে পেলেন, তারা পাখি শিকার করছে। এটা দেখে ইবনে ওমর (রা.) তাদের পৃথক করে দেন এবং বলেন, মহানবী (সা.) ওই ব্যক্তিকে অভিশাপ দিয়েছেন, যে কোনো প্রাণবিশিষ্ট বস্তুকে অহেতুক লক্ষ্যবস্তু বানায় (মুসলিম-১৯৫৮)। পশুপাখির প্রতি দয়া প্রদর্শনে সওয়াব আছে। একদা লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসুল, জীবজন্তুর প্রতি দয়া প্রদর্শনেও কি আমাদের সওয়াব আছে? তিনি বললেন, প্রত্যেক সজীব প্রাণবিশিষ্ট জীবের (প্রতি দয়া প্রদর্শনে) সওয়াব বিদ্যমান (বুখারি-২৪৬৬, মুসলিম-২২৪৪)।

মহানবী (সা.) বলেছেন- একবার এক পিপাসাকাতর কুকুর কূপের পাশে ঘোরাঘুরি করছিল। পিপাসায় তার প্রাণ বের হওয়ার উপক্রম। হঠাৎ বনি ইসরাইলের এক ব্যভিচারী নারী তা দেখতে পায়। সে নিজের পায়ের মোজা খুলে কুকুরটিকে পানি পান করায়। এ কারণে তার অতীত পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয় (বুখারি-৩৪৬৭)। কোনোভাবেই পোষা বা বন্য যেটাই হোক, পশুপাখিকে কষ্ট দেওয়া যাবে না। পশুপাখিকে কষ্ট দেওয়ার পরিণাম ভয়াবহ। এ প্রসঙ্গ হাদিসে এসেছে- একজন নারী বিড়ালকে বেঁধে রেখেছিল। সে তাকে খাবার দিত না, আবার ভূখণ্ডে বিচরণ করে খাবার সংগ্রহের সুযোগও দিত না। এ কারণে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছে (বুখারি-৩৩১৮)।

ভালো-মন্দ বোঝার ক্ষমতা পশুপাখির নেই। কোনো কারণে সম্পদের; বিশেষ করে ফসলের ক্ষতি করতে পারে। এ জন্য এর মালিক যিনি বা সঙ্গে রাখাল যিনি থাকবেন, তাকে জরিমানা দিতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- চতুষ্পদ জন্তুর অনিষ্ট ক্ষমাযোগ্য (বুখারি-৬৯১২)।

ভুতুম পেঁচা দেখলে বিপদ হবে। কুপ পাখি যে বাড়ির ওপর বসে ডাকবে, সে বাড়ির কারও বিপদ হবে। এমন কুসংস্কার প্রচলিত আছে। পাখির ডাকের সঙ্গে বিপদের কোনোই সম্পর্ক নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই। এমনকি পেঁচা বা সফর মাসেও কোনো কুলক্ষণ নেই (বুখারি)।

ইসলামী গবেষক


মন্তব্য যোগ করুণ