স্বর্ণের বাজার অস্থিতিশীল

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

স্বর্ণের বাজার অস্থিতিশীল

  সমকাল প্রতিবেদক

দেশে স্বর্ণের বাজার এই উঠছে, এই কমছে। অবশ্য দর বাড়ানোর পাল্লাই ভারী। অস্থিতিশীলতার প্রভাব পড়েছে কেনাবেচায়। এ পরিস্থিতিতে বিয়ের মৌসুমকে লক্ষ্য করে ক্রেতাদের আগাম বাজারমুখী করতে সর্বশেষ দফায় দর কমিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

নতুন করে গত মঙ্গলবার আশুরার ছুটির দিন স্বর্ণের দর কমানোর ঘোষণা দিয়েছে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর থেকে এ নিয়ে সাত দফা দর পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে বেড়েছে ছয়বার। প্রতিবারই দর বাড়ানোর ঘোষণার সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে দর বাড়াকে কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

দর কমানোর ঘোষণার যুক্তি শক্তিশালী করতে এবার দেশের বুলিয়ান বাজারেও দর কমে আসার কথা বলা হয়েছে। মাস দুয়েক ধরে স্বর্ণের দরের এমন অস্থিতিশীলতায় সমস্যায় রয়েছেন সাধারণ ব্যবহারকারীরা। কেননা, ভরিপ্রতি ৫০ হাজার টাকার বেশি দরের মূল্যবান এ পণ্য কিনতে অনেক পরিকল্পনা করতে হয় সাধারণ ভোক্তাদের। এর মধ্যে হঠাৎ দাম বৃদ্ধির কারণে অনেকে বিয়ের অনুষ্ঠান পিছিয়ে দিয়েছেন বলে খবরও রয়েছে।

দেশে স্বর্ণের দরের এমন ওঠানামার কারণ জানতে চাইলে বাজুসের সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের স্বত্বাধিকারী দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়ী করেন। তিনি বুধবার সমকালকে বলেন, লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়াগত কাজ শেষ করতে দেরি হওয়ার প্রভাব পড়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে দেরি করায় স্বর্ণের বাজার স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, স্বর্ণ নীতিমালায় লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীদের বৈধভাবে স্বর্ণ আমদানির সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। লাইসেন্স দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। সে অনুযায়ী প্রায় সব ব্যবসায়ী লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।

বাজুসের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ চেষ্টার পর গভর্নরের সঙ্গে দেখা করেছেন ব্যবসায়ীরা। তারা সমস্যার কথা তাকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, লাইসেন্স পেলে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে প্রতিদিন দর সমন্বয় করতে পারতেন তারা। সে রকম হলে দর নিয়ে অস্পষ্টতা এড়ানো যেত। এখন সেটা না হওয়ায় বুলিয়ান বাজারের পোদ্দারদের হাতে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের জিম্মি থাকতে হয় বলে দাবি তার।

গত বছরের মার্চে স্বর্ণ নীতিমালা অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। ওই বছরের ২৯ অক্টোবর নীতিমালা জারির পর কীভাবে স্বর্ণ আমদানি করতে পারবে, কারা আমদানি করবে- এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংককে। নীতিমালায় বলা হয়, স্বর্ণালঙ্কারের চাহিদা পূরণে অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে স্বর্ণবার ও স্বর্ণালঙ্কার আমদানি করা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লাইসেন্সের জন্য আবেদন নেবে। এরপর যাচাই-বাছাই করে লাইসেন্স দেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বার্তা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক মাস ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর কমছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব পড়ছে স্বর্ণের বাজারে। রয়টার্সের গতকালের প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল সকালে স্বর্ণের দর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। নিউইয়র্কে আউন্সপ্রতি এক হাজার ৪৯০ দশমিক ৫০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। তবে এখনও তা চার সপ্তাহ আগের তুলনায় কম।

গত মঙ্গলবার বাজুস প্রতি ভরি স্বর্ণের দর এক হাজার ১৬৬ টাকা কমিয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণ, অর্থাৎ ২২ ক্যারেট মানের স্বর্ণের ভরিপ্রতি দর কমে দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ৮৬২ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম করা হয়েছে ৫৪ হাজার ৫২৯ টাকা। ১৮ ক্যারেটের দর ৪৯ হাজার ৫১৪ টাকা এবং সনাতনী স্বর্ণের দর নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ হাজার ১৬০ টাকা। গতকাল বুধবার থেকে বাজারে নতুন দর কার্যকর হয়েছে। তবে রুপার দর ৯৩৩ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ২২ ও ২১ ক্যারেট মানের স্বর্ণের ব্যবহার এবং বেচাকেনা বেশি। অবশ্য হীরার অলঙ্কারে ১৮ ক্যারেট মানের স্বর্ণ ব্যবহার করতে হয়। কিছুটা নিম্নমানের স্বর্ণ ছাড়া অলঙ্কারে হীরা বসানো যায় না।

এবারের বাজেটে স্বর্ণ আমদানিতে শুল্ক্ক কমানো হয়েছে। যাত্রী ও ব্যাগেজ বিধিমালার আওতায় বাণিজ্যিকভাবে স্বর্ণ আমদানিতে ভরিপ্রতি বিদ্যমান তিন হাজার থেকে কমিয়ে দুই হাজার টাকা করা হয়েছে। দেশে স্বর্ণের চাহিদা বছরে ৪০ লাখ টন। এর ৩৬ টনই বিভিন্নভাবে দেশে আসে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে আসা যাত্রী ও ব্যাগেজ বিধিমালার আওতায় আনা স্বর্ণই দেশে বৈধ উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ছাড়া স্থানীয় বাজারে ব্যবহারকারীদের বিক্রি করা অলঙ্কার থেকেও স্বর্ণ পাওয়া যায়।


মন্তব্য