সরকারি ৭ ব্যাংকে মূলধন ঘাটতি

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সরকারি ৭ ব্যাংকে মূলধন ঘাটতি

   সমকাল প্রতিবেদক

সরকারি মালিকানার ৮ ব্যাংকের মধ্যে ৭টিই মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে। গত জুন শেষে এসব ব্যাংকের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। এর বাইরে বেসরকারি ও বিদেশি চার ব্যাংকে মূলধন ঘাটতি রয়েছে ২ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে একমাত্র বিডিবিএলে প্রয়োজনের তুলনায় ৬৬৫ কোটি টাকা বেশি রয়েছে। জনগণের করের টাকায় বছরের পর বছর মূলধন জোগান নিয়ে নানা সমালোচনা রয়েছে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ঘোষণা দিয়েছেন, সরকারি ব্যাংকগুলোকে আর মূলধন জোগান দেবে না সরকার।

আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং রীতির আলোকে ব্যাংকগুলোকে মূলধন সংরক্ষণ করতে হয়। মূলধন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হয়। যে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ যত বেশি ওই ব্যাংকে তত বেশি মূলধন রাখতে হয়। ফলে খেলাপি ঋণ বাড়লে স্বাভাবিকভাবে মূলধন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বাড়ে। বর্তমান নিয়মে একটি ব্যাংকের মোট ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশ অথবা ৪০০ কোটি টাকার মধ্যে যা বেশি, কমপক্ষে সেই পরিমাণ মূলধন রাখতে হয়। এর বাইরে আপদকালীন সুরক্ষা সঞ্চয় হিসেবে ব্যাংকগুলোকে ২০১৬ সাল থেকে অতিরিক্ত মূলধন রাখতে হচ্ছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকের মূলধন রাখতে হবে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ১০ শতাংশ বিবেচনায় ব্যাংকগুলোর মোট এক লাখ তিন হাজার ৭১ কোটি টাকা মূলধন রাখার প্রয়োজন ছিল। গত জুনে ব্যাংকগুলো সংরক্ষণ করেছে এক লাখ ১৮ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। এতে করে সামগ্রিক প্রয়োজনের তুলনায় ব্যাংকগুলোতে বেশি মূলধন রয়েছে ১৫ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। সার্বিকভাবে বেশি থাকলেও ১১ ব্যাংক ঘাটতিতে রয়েছে। তিন মাস আগে গত মার্চ শেষে ১০ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল ১৮ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ছাড়ে সোনালী, জনতা, বেসিকসহ কয়েকটি ব্যাংক ঘাটতি কম দেখানোর সুযোগ পেয়েছে। এসব ব্যাংক ধাপে ধাপে কয়েক বছরে মূলধন সংরক্ষণ করবে।

বরাবরের মতো গত জুনেও সবচেয়ে বেশি মূলধন ঘাটতি রয়েছে সরকারি মালিকানার কৃষি ব্যাংকে। ব্যাংকটির ঘাটতি বেড়ে ৯ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা হয়েছে। তিন মাস আগে ছিল ৮ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা। আর জনতা ব্যাংক গত মার্চে চার হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা ঘাটতি দেখায়। জুনে এসে ঘাটতি হয়েছে এক হাজার ২০১ কোটি টাকা। সোনালী ব্যাংকে জুনে ৮৭৪ কোটি টাকা ঘাটতি দেখানো হয়েছে। মার্চে ব্যাংকটি ১৪ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত দেখিয়েছিল। গত ডিসেম্বরে অবশ্য ব্যাংকটির ঘাটতি ছিল ৫ হাজার ৩২১ কোটি টাকা। সরকারি আরেক ব্যাংক বেসিক জুনে ঘাটতি দেখিয়েছে ৬০০ কোটি টাকা। মার্চে ঘাটতি ছিল ২৩৪ কোটি টাকা। আর গত ডিসেম্বর শেষে ঘাটতি ছিল তিন হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা।

রূপালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ১৫৫ কোটি থেকে বেড়ে ২৯৪ কোটি টাকায় ঠেকেছে। অগ্রণীর ঘাটতি এক হাজার ৫৪ কোটি টাকা থেকে কমে ৪৫৬ কোটি টাকায় নেমেছে। রাকাবের ঘাটতি ৭৩৫ কোটি থেকে কমে ৬৮২ কোটি টাকায় নেমেছে। জুন শেষে বেসরকারি খাতের আইসিবি ইসলামী ব্যাংকে ঘাটতি দেখা দিয়েছে এক হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা। এবি ব্যাংকে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪২৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে ২৭২ কোটি টাকা। এছাড়া বিদেশি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানে ঘাটতি রয়েছে ৩৮ কোটি টাকা।

চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ১৮ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা বেড়ে গত জুন শেষে এক লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকায় ঠেকেছে। ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের যা ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। খেলাপি ঋণ বাড়লেও কয়েকটি ব্যাংক বিশেষ ছাড় পাওয়ায় সামগ্রিক মূলধন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি দেখা যাচ্ছে।


মন্তব্য