বগুড়ার ভুট্টা যাচ্ছে নেপালে

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বগুড়ার ভুট্টা যাচ্ছে নেপালে

   মোহন আখন্দ,বগুড়া

বগুড়া থেকে এবার ভুট্টা রফতানি শুরু হয়েছে। গত এক মাসে এক হাজার টন ভুট্টা নেপালে রফতানি করে দুই লাখ ৪২ লাখ ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে। স্থানীয় দুই প্রতিষ্ঠান কিবরিয়া ট্রেডার্স ও তামিম এগ্রো প্রথমবারের মতো এ জেলা থেকে ভুট্টা বিদেশে পাঠিয়েছে।

রফতানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত ভারতের বাজারে দাম বেশি হওয়ায় নেপালের পোলট্রি ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ থেকে ভুট্টা কেনায় আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এ কারণে গত মাসের তুলনায় চলতি মাস সেপ্টেম্বরে রফতানির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বগুড়া থেকে সাধারণত রাইস ব্রান ক্রুড অয়েল, পাটের বস্তা ও সুতলি, সেচপাম্প এবং স্বল্প আকারে তৈরি পোশাক রফতানি হয়ে থাকে। ২০১৮ সালে তিন কোটি ৩০ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত রফতানি হয়েছে ৪ কোটি ৮ লাখ ডলারের সমপরিমাণ ৩৫০ কোটি টাকার পণ্য। এ তালিকায় ভুট্টা যোগ হওয়ায় চেম্বার নেতারা আশা করছেন বছর শেষে রফতানি আয় ৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, রফতানির খবরে বগুড়ার ভুট্টা চাষিরা বেশ আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। তারা মনে করেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভালো দাম মিলবে, ফলে আবাদও বাড়বে। এতে ধানের লোকসান ভুট্টা আবাদ করে কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন কৃষক।

জেলার ধুনট ও শেরপুর উপজেলায় ভুট্টা চাষ শুরু হয় গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে। পরে সারিয়াকান্দির যমুনা নদীর চরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। পোলট্রি শিল্পের ব্যাপক প্রসারের কারণে মুরগির খাবারের চাহিদা মেটাতে ভুট্টার আবাদও বাড়তে থাকে।

বগুড়ায় কিবরিয়া ট্রেডার্সের হাত ধরেই শুরু হয় ভুট্টা রফতানি। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম কিবরিয়া বাহার জানান, ৩১ জুলাই থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত তিন চালানে ৮৬০ টন নেপালে পাঠিয়েছেন তিনি। রফতানি শুরু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেপালের চাহিদার কথা জানতে পেরে তারা ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আলোচনা সফল হলে ৩১ জুলাই প্রথম চালান পাঠান তিনি।

বাহার জানান, নেপালের পোলট্রি ব্যবসায়ীরা সাধারণত ভারত থেকে ভুট্টা আমদানি করেন। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে দাম বেড়ে যাওয়ায় বিকল্প বাজার খুঁজছিলেন। তখন ভিন্ন মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়। তিনি বলেন, নেপালের চাহিদার কথা জানার পর জুলাইয়ে বগুড়া ও দিনাজপুর থেকে ভুট্টা সংগ্রহ করেন তিনি। প্রতি টন ভুট্টা ২৫০ ডলারে রফতানি করছেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চলতি মাসে আরও রফতানি হবে এবং তা অব্যাহত থাকবে।

বগুড়া চেম্বারের সভাপতি মাসুদুর রহমান মিলন বলেন, আগে ভুট্টার উৎপাদন কম থাকায় দেশের চাহিদার বেশিরভাগ বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো। এখন পরিমাণে অল্প হলেও রফতানি শুরু হয়েছে। বগুড়াসহ রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে যে পরিমাণ ভুট্টা উৎপাদিত হয়, সেটির বড় অংশ রফতানি করা সম্ভব।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় গত এক দশকে ভুট্টার আবাদ ২৬০ শতাংশ বেড়ে ২০১৮ সালে প্রায় ৮ হাজার হেক্টরে পৌঁছেছে। এ সময়ে ফলনও প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। গত বছর উৎপাদন হয়েছে ৬২ হাজার ৩০৪ টন। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধানের আবাদে খুব একটা লাভ হচ্ছে না। ধান চাষে যে পরিমাণ পানি প্রয়োজন, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ পানিতেই ভুট্টা আবাদ সম্ভব। যে কারণে উৎপাদন খরচও কম। এ ছাড়া ফলন বেশি হওয়ায় লাভ বেশি বলে কৃষক ভুট্টা আবাদে ঝুঁকছেন।


মন্তব্য