এখনও সীমার বেশি এডিআর ১৯ ব্যাংকে

  সমকাল প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার পরও ঋণ-আমানত অনুপাত বা এডিআর নির্ধারিত সীমায় নামাতে পারেনি অনেক ব্যাংক। চলতি বছরের মার্চ শেষে সীমার ওপরে রয়েছে ১৯ ব্যাংকের এডিআর। গত ডিসেম্বরে সীমার ওপরে ছিল এমন চারটি ব্যাংকের উন্নতি হলেও নতুন করে সীমা অতিক্রম করেছে তিনটি ব্যাংক।

একশ' টাকা আমানতের বিপরীতে ব্যাংকগুলো কী পরিমাণ ঋণ বিতরণ করতে পারবে তা ঠিক করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৭ সালের শেষ দিকে হঠাৎ করে ঋণ প্রবৃদ্ধি ব্যাপক বাড়তে থাকায় ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) কমিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত বছরের ৩০ জানুয়ারি এক নির্দেশনার মাধ্যমে প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর এডিআর ৮৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮৩ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়। ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য ৯০ শতাংশ থেকে নামিয়ে আনা হয় ৮৯ শতাংশ। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, যেসব ব্যাংকের এডিআর সীমার ওপরে রয়েছে ধীরে ধীরে নামিয়ে আনতে হবে। শুরুতে ১৪টি ব্যাংকের এডিআর ছিল নির্ধারিত সীমার ওপরে। কমিয়ে আনার জন্য প্রথমে সময় দেওয়া হয় গত বছরের ৩০ জুন। তবে পরবর্তী সময়ে চার দফা সময় বাড়িয়ে সর্বশেষ চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্যাংকাররা জানান, বেশি সুদ দিয়েও আশানুরূপভাবে আমানত পাচ্ছে না অধিকাংশ ব্যাংক। এ কারণে এডিআর বেড়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো ব্যাংকের এডিআর আগে থেকেই নির্ধারিত সীমার ওপরে থাকলেও আমানতের তুলনায় ঋণ বাড়ানো অব্যাহত আছে। মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংক এডিআর সমন্বয়ের সময় বারবার বাড়ানোর ফলে ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে, পরিস্থিতি খারাপ হলে আবার সময় বাড়ানো হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৯টি ব্যাংকের এডিআর এখনও সীমার ওপরে থাকলেও সীমার নিচে নামাতে সক্ষম হয়েছে আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী, শাহ্‌জালাল ইসলামী, মধুমতি ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক। এর আগে প্রিমিয়ার, মেঘনা, সিটি ও ট্রাস্ট ব্যাংক সীমার নিচে নামাতে সক্ষম হয়েছিল। তবে মার্চে এসে ট্রাস্ট এবং সিটি ব্যাংক আবার সীমা অতিক্রম করেছে।

ঋণ আমানত অনুপাতে বর্তমানে সবার ওপরে রয়েছে ফারমার্স থেকে পদ্মায় রূপান্তরিত ব্যাংক। ব্যাংকটির এডিআর গত ডিসেম্বরের ১১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ১১৮ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশে উঠেছে। পর্যায়ক্রমে বেসিক ব্যাংকের এডিআর রয়েছে ১১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ, রাকাব ১০৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ, ন্যাশনাল ব্যাংক ৯৫ দশমিক ৮১ শতাংশ ও এবি ব্যাংকের ৯৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। সীমার ওপরে আরও রয়েছে এনআরবি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, মিডল্যান্ড, এনআরবি গ্লোবাল, আইএফআইসি, ট্রাস্ট, এনআরবি কমার্শিয়াল ও সিটি ব্যাংক। ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর মধ্যে এসআইবিএল, এক্সিম, ইউনিয়ন, ফার্স্ট সিকিউরিটি এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের এডিআর রয়েছে সীমার বেশি।


মন্তব্য