বিশেষ প্রতিনিধি

বিদেশের সঙ্গে লেনদেনে বাংলাদেশের ঘাটতি ধীরে ধীরে কমছে। তবে এখনও বড় অঙ্কের ঘাটতি রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) চলতি হিসাবে ঘাটতির পরিমাণ ৫০৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৭৭৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। চলতি হিসাবের পাশাপাশি পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি কমেছে। ব্যালেন্স অব পেমেন্ট বা সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যেও ঘাটতি কমেছে।

লেনদেনের ভারসাম্যের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, ৮ মাসে সামগ্রিক লেনদেনে বাংলাদেশের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫৯ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে ঘাটতি ছিল ১০৪ কোটি ৪ লাখ ডলার।

গত অর্থবছরে লেনদেনে বড় অঙ্কের ঘাটতি থাকার প্রভাবে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের বিপরীতে টাকার দর কমে যায় প্রায় ৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরেও টাকা দর হারাচ্ছে। বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে প্রচুর ডলার বিক্রি করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৫২৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আলোচ্য সময়ে আমদানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আর রফতানি বেড়েছে ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ। আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত রয়েছে ৪৭৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে উদ্বৃত্ত ছিল ৬৯৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার। বিদেশি ঋণ পরিশোধ বৃদ্ধি, শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়াসহ কয়েকটি কারণে আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত কমেছে। এ সময়ে মোট এফডিআই এসেছে ৩১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ২৭ শতাংশ বেশি। শেয়ারবাজারে আলোচ্য সময়ে নিট বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ১৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার।


মন্তব্য