এক বছরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আমানত বেড়ে তিনগুণ

   সমকাল প্রতিবেদক

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে শাখা ও গ্রাহকের সঙ্গে আমানতও দ্রুত বাড়ছে। গত এক বছরে প্রায় তিনগুণ বেড়ে গেল সেপ্টেম্বর শেষে আমানতের পরিমাণ ২ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানত ছিল ৯২২ কোটি টাকা। আমানত সংগ্রহে সবচেয়ে এগিয়ে আছে বেসরকারি খাতের আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডাচ্‌-বাংলা এবং তৃতীয় অবস্থানে ব্যাংক এশিয়া। যদিও সবচেয়ে বেশি এজেন্ট আউটলেট রয়েছে ব্যাংক এশিয়ার।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানত বৃদ্ধির হার সামগ্রিক ব্যাংক খাতের তুলনায় অনেক বেশি। বর্তমানে ব্যাংক খাতের মোট আমানত প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা। আগের বছরের তুলনায় যা প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। নতুন-নতুন ব্যাংক যুক্ত হওয়ায় এবং নতুন এলাকায় আউটলেট খোলায় এজেন্ট ব্যাংকিয়ের দ্রুত প্রসার হচ্ছে বলে জানান সংশ্নিষ্টরা। এজেন্ট ব্যাংকিং থেকে সেবা নিতে বাড়তি চার্জও লাগে না।

ব্যাংকিং সেবা বঞ্চিতদের সেবা দিতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পর এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা জারির পরের বছর ব্যাংক এশিয়া প্রথমে এ সেবা চালু করে। এজেন্ট পয়েন্ট থেকে আমানত সংগ্রহ, ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ, সুবিধাভোগীর কাছে রেমিট্যান্সের অর্থ পৌঁছে দেওয়া, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় ভাতাপ্রাপ্তদের অর্থ প্রদান, অ্যাকাউন্ট ব্যালান্স জানা, অ্যাকাউন্ট ফরম সংগ্রহ, ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের আবেদন ফরম এবং চেক বই সংগ্রহ করতে পারেন গ্রাহকরা।

ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী সমকালকে বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে এজেন্ট ব্যাংকিং। এর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। সুবিধা বঞ্চিতদের জন্য এটা একটা সুন্দর মডেল। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ পর্যন্ত ২০টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের অনুমতি নিয়েছে। কার্যক্রম শুরু করেছে ১৮টি। সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা আমানতের ৯৪ শতাংশের বেশি রয়েছে পাঁচটি ব্যাংকে। আর তিনটি ব্যাংকে রয়েছে মোট আমানতের প্রায় ৮৫ শতাংশ। এককভাবে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে রয়েছে ৯৬২ কোটি টাকার আমানত। ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকে আমানত রয়েছে ৭১২ কোটি টাকা। ব্যাংক এশিয়ায় ৫০৪ কোটি টাকা, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ১৬৬ কোটি টাকা এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে রয়েছে ৮৬ কোটি টাকা।

আমানত সংগ্রহে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও এজেন্ট ও আউটলেট বিবেচনায় এগিয়ে আছে ব্যাংক এশিয়া। ব্যাংকগুলোর সারাদেশে মোট তিন হাজার ৯০২ জন এজেন্টের বিপরীতে আউটলেট রয়েছে ৫ হাজার ৭৯১টি। এসব আউটলেটের মধ্যে গ্রামে রয়েছে ৫ হাজার ৩১৩টি। বাকি ৪৭৮টি রয়েছে শহরে। ব্যাংক এশিয়ার আউটলেট রয়েছে ২ হাজার ৩৭০টি। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের রয়েছে এক হাজার ৬৮৬টি। এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে রয়েছে ৫৬৩টি। মধুমতি ব্যাংকের ২৭৯টি এবং অগ্রণী ব্যাংকের ২০০টি আউটলেট। আউটলেটের সংখ্যা বিবেচনায় ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের রয়েছে ১৬৮টি। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে খোলা অ্যাকাউন্টের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ২৯ হাজার। এসব অ্যাকাউন্টের মধ্যে ১৭ লাখ ৬২ হাজার খোলা হয়েছে গ্রামে। শহরে রয়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার। অ্যাকাউন্টধারীদের মধ্যে পুরুষ রয়েছেন ১৩ লাখ ১৪ হাজার। নারীদের ৬ লাখ ৯৭ হাজার এবং হিজড়াদের ১৭ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এককভাবে সবচেয়ে বেশি অ্যাকাউন্ট রয়েছে ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকে। ব্যাংকটির অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১০ লাখ ৫০ হাজার, যা মোট অ্যাকাউন্টের অর্ধেক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৮৫ হাজার অ্যাকাউন্ট রয়েছে ব্যাংক এশিয়ায়। পর্যায়ক্রমে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে রয়েছে এক লাখ ১৭ হাজার, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ৫৮ হাজার এবং অগ্রণী ব্যাংকে রয়েছে ৪৯ হাজার অ্যাকাউন্ট।


মন্তব্য যোগ করুণ