বিদেশি সহায়তার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে

  বিশেষ প্রতিনিধি

২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে আরও অনেক দিন বিদেশি সহায়তা নিতে হবে। সহায়তার অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে আরও জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে রাজস্ব আহরণে বেশি নজর দেওয়ার বিকল্প নেই। কেননা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নের পরিমাণ কমে আসছে।

রাজধানীর গুলশানে খাজানা রেস্তোরাঁয় গতকাল বৃহস্পতিবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির এক সংলাপে অর্থনীতিবিদ এবং সরকারের বর্তমান ও সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিদেশি সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনাকালে এমন মন্তব্য করেন। তারা আরও বলেন, শুধু রাজস্ব প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করলে আয় বাড়বে না। সামগ্রিকভাবে দেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। তারা বলেন, দেশে যে পরিমাণ বিনিয়োগযোগ্য সম্পদ আছে, সে অনুযায়ী কর আহরণ হচ্ছে না। এর অর্থ, করে পার্থক্য অনেক বা ফাঁকির পরিমাণ অত্যধিক। ফাঁকি রোধে ন্যায়সঙ্গত করকাঠামো প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সংলাপে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন 'বাংলাদেশ কি বিদেশি সহায়তা ছাড়া চলতে পারবে' শীর্ষক এবং সংস্থার সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান 'বাংলাদেশে ব্যক্তিশ্রেণি আয়করের সম্ভাবনা' শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, গত এক দশকে বেসরকারি বিনিয়োগ তেমন বাড়েনি। আর সরকারি বিনিয়োগ এখন পর্যন্ত বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তবে বিদেশি সহায়তা পেতে দরকষাকষি ও ব্যবহারে সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশে অর্থনীতির আকার যতটা বাড়ছে, সে অনুযায়ী রাজস্ব আদায় বাড়ছে না। এখানে অনেক ফাঁক রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চেষ্টা করা হচ্ছে কর ব্যবস্থাপনা আরও কীভাবে সহজ করা যায়। বর্তমানে আয়কর নিবন্ধনের সংখ্যা ৩৫ লাখ হলেও অনেকেই রিটার্ন জমা দেন না। রাজধানীতে ফ্ল্যাট ও বাড়ি জরিপ করা হবে- এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা সবাই ঠিকমতো কর দিচ্ছেন কি-না তা যাচাই করা হবে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ মানব সম্পদে উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লেও এর সুফল জনগণ পাচ্ছে না; বরং বৈষম্য বাড়ছে। এর কারণ সম্পদ আহরণ ঠিকমতো হচ্ছে না। অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়াতে কর প্রশাসনের সঙ্গে দেশে সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এনবিআরের সাবেক সদস্য আলী আহমেদ বলেন, ব্যবসায়ীরা এত বেশি প্রভাবশালী যে, তারা অনেক ক্ষেত্রে নীতি প্রণয়নকে প্রভাবিত করেন। রাজস্ব বাড়াতে পূর্ণ অটোমেশনের কথা বলেন তিনি।

মেট্রোচেম্বারের সভাপতি নিহাদ কবির বলেন, করের আওতা বাড়ছে। তবে আদায় এখনও সীমিত করদাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ফরিদা নাসরিন বলেন, বর্তমানে যে ঋণ আসছে তার ৮০ শতাংশ নমনীয়। আগমীতে কম সুদে কীভাবে আরও বেশি ঋণ নেওয়া যায়, সে প্রচেষ্টা চলছে।


মন্তব্য যোগ করুণ