সমকাল প্রতিবেদক

সব ধরনের ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিট বা এক অঙ্কে আনতে সময় লাগবে। সুদ কমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা খেলাপি ঋণ।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী 'বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন ২০১৮'-এর এক অধিবেশনে বক্তারা এমন মত দেন।

সপ্তমবারের মতো আয়োজিত সম্মেলনের শেষ দিনে মোট ১৩টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। শেষ অধিবেশনে আর্থিক

অন্তর্ভুক্তি ও আর্থিক স্থিতিশীলতাবিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মো. আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক নানাবিধ কার্যক্রমের প্রভাবে গ্রামীণ এলাকায় একদিকে যেমন ক্ষুদ্র সঞ্চয় বাড়ছে, তেমনি এর প্রভাবে নারীর ক্ষমতায়ন হচ্ছে। উপস্থাপিত গবেষণাপত্রে দেখা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত কৃষকসহ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের এক কোটি ৭৯ লাখ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।

সম্মেলনে উপস্থাপিত 'এক অঙ্ক সুদহার; প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ' শীর্ষক গবেষণাপত্রের ওপর আলোচনায় বক্তারা বলেন, ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা খেলাপি ঋণ। গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর তহবিল ব্যয় বেশি হওয়ায় ঋণের সুদহার কমিয়ে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। খেলাপি ঋণের বোঝা ভারী হওয়ায় বাড়তি প্রভিশনিং তহবিল ব্যয় বাড়িয়ে তুলছে। হুট করেই ব্যাংকের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসা সম্ভব নয়। এটা বাস্তবায়ন করতে সময় লাগবে।

বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, শুধু ঘোষণা দিয়েই সিঙ্গেল ডিজিট সুদ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সিঙ্গেল ডিজিট সুদ বাস্তবায়নের সঙ্গে খেলাপি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এটি বড় চ্যালেঞ্জও। ব্যাংকগুলোর মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়ন না হওয়ার অন্য আরেকটি কারণ।

'বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ব্যাংক খাতের ভূমিকা' শীর্ষক প্রবন্ধে বিআইবিএমের অধ্যাপক বরকত-ই-খোদা বলেন, অর্থায়নের পাশাপাশি নানা সেবা দিয়ে ব্যাংক অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে। রফতানি আয়, রেমিট্যান্স, কৃষি ও এসএমই খাতে ব্যাংকের অনেক ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু এ খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে বেশি দূর এগোনো যাবে না।

বিআইবিএমের অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে ঋণ-আমানতে সুদহারের ব্যবধান বা স্প্রেড ২ থেকে ৩ শতাংশ। সেখানে বাংলাদেশে স্প্রেড ৪ বা তার বেশি। এর প্রধান কারণ খেলাপি ঋণ। খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে না এলে স্প্রেড কখনও নিম্নমুখী হবে না।

বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াসিন আলি বলেন, কিছু ব্যাংক পুঁজিবাজারে ব্যাপক

বিনিয়োগ করছে। সে কারণে ব্যাংক খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে খেলাপি ঋণ কমানো যাবে না।


মন্তব্য যোগ করুণ