ওয়ার্নার ঝড়ে জয়ে ফিরল অস্ট্রেলিয়া

সেঞ্চুরির পর ওয়ার্নার যেন উড়ছিলেন - সংগৃহীত

  স্পোর্টস ডেস্ক

দু'জনের ক্যারিয়ারেই আছে কলঙ্ক। স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে পাঁচ বছর নিষিদ্ধ হয়েছিলেন মোহাম্মদ আমির। আর বল টেম্পারিং করায় ডেভিড ওয়ার্নার ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন এক বছর। দুই 'ব্যাডবয়' জ্বলে উঠলেন একই দিনে। গতকাল টনটনে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে ওয়ার্নার করেছেন বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তাতে জবাব পেল সমালোচকরাও। অপর প্রান্তে আগুনে বোলিং করে ওয়ার্নারের সঙ্গে মঞ্চের আলোটা ভাগ করে নেন আমির। ক্যারিয়ারে প্রথম পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেয়েছেন। একসময় ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চের ব্যাটে বড় সংগ্রহের আশা জাগানো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ততদূর পর্যন্ত যেতে দেননি বাঁহাতি এই পেসার। ৪৯ ওভারে ৩০৭ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। লক্ষ্যটা নিজেদের নাগালের মধ্যে ছিল; কিন্তু পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা পারেননি নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে। পাকিস্তানকে ২৬৬ রানে গুটিয়ে দিয়ে অস্ট্রেলিয়া জিতেছে ৪১ রানে।

টনটনের ছোট মাঠে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণটা ভালোভাবে কাজে লাগান অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ফিঞ্চ ও ওয়ার্নার। ভারতের বিপক্ষে মন্থর ব্যাটিং করে সমালোচিত হওয়া ওয়ার্নার এদিন শুরু থেকে ছিলেন আক্রমণাত্মক। অন্য প্রান্তে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ফিঞ্চ একটু অস্বস্তিতে ছিলেন। ২৬ রানে স্লিপে ক্যাচ দিলেও তা ধরতে পারেননি আসিফ আলি। মোহাম্মদ হাফিজের বলে ৪৪ রানের সময় তার ক্যাচ ফেলে দেন উইকেটরক্ষক সরফরাজ। ৬৩ বলে ক্যারিয়ারের ২৩তম হাফসেঞ্চুরি করার পর হাত খুলে খেলতে থাকেন ফিঞ্চ। তাকে ফিরিয়ে বিপজ্জনক ওপেনিং জুটি ভাঙেন আমির। দু'বার জীবন পাওয়া অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক থামেন ৮২ রানে। আউট হওয়ার আগে ওপেনিংয়ে ওয়ার্নারের সঙ্গে যোগ করেন ১৪৬ রান, যা এবারের বিশ্বকাপে যে কোনো উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ।

ফিঞ্চ আউট হলেও ওয়ার্নার রানের চাকা সচল রাখেন। এদিন ৫১ বলে হাফ সেঞ্চুরির পর ১০২ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১৫তম সেঞ্চুরি। নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরার পর এটা তার প্রথম এবং বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। বিশ্বকাপে তার সর্বশেষ সেঞ্চুরি ২০১৫ সালের ৪ মার্চ পার্থে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। ১৭৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছিলেন। সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ উইকেটে টিকে থাকতে পারেননি ওয়ার্নার। একবার আসিফ আলির হাতে বল তুলে দিয়ে বেঁচে গেলেও শেষ পর্যন্ত ১০৭ রান করে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে আউট হন। তার ১১১ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ১১টি চার ও একটি ছয়ের সৌজন্যে।

প্রথম ২৫ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ১৬৫ রান। শেষ ২৪ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে অসিরা তোলে ১৪২ রান। মাত্র ১৯ রানে শেষ ৫ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। তাই বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের সর্বোচ্চ ৩১০ রান পর্যন্ত যেতে পারেনি অসিরা। তা করতে দেননি আমির। শেষ স্পেলে এসে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের নাগালের মধ্যে স্কোর রাখেন আমির। ৪৯তম ওভারে চার বলের মধ্যে অ্যালেক্স ক্যারি ও মিচেল স্টার্ককে ফিরিয়ে ওয়ানডেতে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট নেওয়ার আনন্দে মেতে ওঠেন বাঁহাতি এই পেসার। ১০ ওভারে ৩০ রানে নেন ৫ উইকেট।

লক্ষ্য তাড়া করতে নামা পাকিস্তান দলীয় ২ রানে হারায় ওপেনার ফখর জামানকে। ৫৬ রানে বাবর আজম ফিরে গেলে চাপে পড়ে তারা। তৃতীয় উইকেটে মোহাম্মদ হাফিজ ও ইমাম-উল হকের ৮০ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় '৯২-এর বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ইমাম-উল হককে ক্যারির ক্যাচ বানিয়ে জুটি ভাঙেন কামিন্স। ৫৩ রান আসে ইমামের ব্যাট থেকে। আরেক সেট ব্যাটসম্যান হাফিজকে (৪৬) ফিরিয়ে ম্যাচের লাগাম অস্ট্রেলিয়ার দিকে নিয়ে আসেন অধিনায়ক ফিঞ্চ। অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক ও আসিফ আলি অল্প সময়ের মধ্যে সাজঘরে ফিরে গেলে পাকিস্তানের জয়ের আশা ক্ষীণ হয়ে যায়। হাসান আলি ১৫ বলে ৩২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলার পরও জয়টা ঝুঁকে ছিল অস্ট্রেলিয়ার দিকেই। ততক্ষণে ২০০ রানে ৭ উইকেট হারায় পাকিস্তান। তবে অষ্টম উইকেটে অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের সঙ্গে ওয়াহাব রিয়াজের ৬৪ রানের জুটিতে জমে ওঠে লড়াই। মিচেল স্টার্কের করা ৪৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ওয়াহাবের ব্যাট ছুঁয়ে বল উইকেটরক্ষক ক্যারির কাছে জমা পড়লেও আম্পায়ার সাড়া দেননি। রিভিউ নিয়ে সফল হন অধিনায়ক ফিঞ্চ। তাতেই ঘুরে যায় ম্যাচের মোড়। ৩৯ বলে ৪৫ রান করেন ওয়াহাব। ওই ওভারেই আমিরকে বোল্ড করেন স্টার্ক। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে রান আউট হওয়া সরফরাজের ব্যাট থেকে আসে ৪০ রান। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে কামিন্স নেন ৩ উইকেট।








মন্তব্য