টাইগারদের সামনে যে সমীকরণ

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯

  সঞ্জয় সাহা পিয়াল টনটন থেকে

বিশ্বকাপের লোগোর ওপর ছাতা বসানো ভাইরাল ছবিটি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর পর দলের একজনের মন্তব্য, 'দেখেছি ছবিটি। কী প্রতিভা! আমি ভাবছি এটার আবিস্কারক কে?' ফেসবুকের অজানা শিল্পীর পরিচয় না জানা গেলেও ইংলিশ সাংবাদিকদের মুখ থেকে এটা আবিস্কার করা গেছে, রিজার্ভ ডে না রাখার পেছনে আগস্টের অ্যাশেজ সিরিজই অন্যতম কারণ। ইসিবির কোষাগার এখনও ফুল-ফেঁপে ওঠে ওই সিরিজটি দিয়েই। আর্থিক মূল্যে বিশ্বকাপ সে তুলনায় তাদের কাছে কিছুই না। সে কারণেই জুন-জুলাইয়ে বৃষ্টি কান্না করতে পারে জেনেও এ সময়েই সূচি করা হয়েছে। এবং তিনটি ম্যাচ জলে যাওয়ার পর এখন কথাও শুনতে হচ্ছে আইসিসিকে। যদিও সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এ ছাড়া কোনো পথ খোলা ছিল না তাদের কাছে। তবে তার এই বাণী শুনে বসে থাকার তো আর সময় নেই।

তাই হাতে থাকা পাঁচ ম্যাচ নিয়েই এখন হিসাব-নিকাশ করতে হচ্ছে টাইগারদের। সেমিফাইনালে যেতে হলে অন্তত ১০ পয়েন্ট আগে হাতে রাখতে হবে। চার ম্যাচ পর হাতে মাত্র ৩। বাকি পয়েন্টগুলোর মধ্যে পরের ম্যাচগুলোতে বড়জোর একটিতে হার চলবে, বাকিগুলো জিততেই হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তান ছাড়া বাকি ম্যাচগুলো র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে- অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও পাকিস্তান। 'আমরা যখন বড় লক্ষ্য নিয়ে এখানে এসেছি, তখন প্রতিপক্ষ হিসেবে ছোট-বড় কেউ নেই। সব দলকে হারানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে হবে। তবে এ মুহূর্তে আমাদের সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ রয়েছে। আপাতত তাদের নিয়েই ভাবতে হচ্ছে।' সাফ কথা মাশরাফির। সেমির যাত্রায় যে আসবে সামনে, তাকেই হারাতে হবে। তবে নিউজিল্যান্ড ম্যাচের আফসোস আর ইংল্যান্ড ম্যাচের ধাক্কা খাওয়ার পর ভুল করার যে খুব বেশি সুযোগ নেই, সেটা পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন কোচ স্টিভ রোডস। 'ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে আমরা মাত্রই আয়ারল্যান্ডে জিতেছি। তা ছাড়া গত বছর ঘরের মাঠেও ছেলেরা হারিয়েছিল ক্যারিবীয়দের। ওদের সম্পর্কে আমাদের পরিস্কার একটা ধারণা আছে। তাই টনটনের ম্যাচে একটা আত্মবিশ্বাস নিয়েই নামবে ছেলেরা।' ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর আফগানিস্তানের সঙ্গে ম্যাচ টাইগারদের। এ দুটি থেকেই যদি চারটি পয়েন্ট চলে আসে, তাহলে পরের ম্যাচগুলোতে সেই মোমেন্টাম ধরে রাখা যাবে বলে মনে করেন দলের সঙ্গে থাকা নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন, 'শ্রীলংকার সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি হওয়ায় খারাপ লাগতে পারে, তবে এ নিয়ে খুব বেশি হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কেননা, আমরা যখন সেমিফাইনাল খেলতে চাই, তখন ভারত-অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে হারানোর মানসিকতা থাকতে হবে। এবং আমরা সেটিই করে যাচ্ছি।'

এ মুহূর্তে পয়েন্ট তালিকায় সাত নম্বরে টাইগাররা। তবে শ্রীলংকা, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা আর আফগানিস্তানের চেয়ে রানরেটে এগিয়ে। সূক্ষ্ণভাবে এই রেটিং পয়েন্টও মার্কস করে রাখতে হচ্ছে কোচকে, 'বিশ্বকাপের মতো লম্বা টুর্নামেন্ট আর যে ধরনের ফরম্যাট হাতে, রানরেটের ব্যাপারটিও মাথায় রাখতে হয়। হয়তো শেষ দিকে গিয়ে এই রানরেটের ব্যাপারটিও মুখ্য হতে পারে।' ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ দিকে হার নিশ্চিত জেনেও তাই উইকেট হাতে রাখার কৌশল নিয়েছিল বাংলাদেশ। যদিও তা রাখা যায়নি শেষ পর্যন্ত।

টনটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও কিছু টেবিলওয়ার্ক সেরে রাখতে হচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। কেননা, বিশ্বকাপের সব মাঠের মধ্যে এটিই আকারে সবচেয়ে ছোট। বাউন্ডারি সীমানা সর্বোচ্চ ৬৮ মিটার, যেখানে কোনো কোনো মাঠে তা ৭৬ পর্যন্ত হয়ে থাকে। তাই ক্যারিবীয় হার্ডহিটারদের সামনে এই মাঠে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হচ্ছে টাইগারদের। মাঠের অনুশীলন না থাকলেও কোচিং স্টাফদের এসব টেবিলওয়ার্ক সেরে রাখতে বলেছেন মাশরাফি। কেননা হিসাবটা তার জানা- হাতে থাকা পাঁচ ম্যাচের অন্তত চারটিতে জিততেই হবে।


মন্তব্য