চিঠিপত্র

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মাদককে না বলুন

মাদকাসক্তি সব ধরনের অপরাধের মূল। আর সিগারেট হলো মাদকাসক্তির প্রাথমিক উপকরণ। এ থেকে আস্তে আস্তে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এর বেশিরভাগ শুরু হয় বন্ধুদের সাহচর্যে। সন্তানটি কোথায় যাচ্ছে, কী করছে, সেদিকে নজর দেওয়া কিন্তু একজন সচেতন অভিভাবকের দায়িত্ব। যে কোনো পরিবার ও সমাজের জন্য মাদকাসক্ত ব্যক্তি হুমকিস্বরূপ। তারা সমাজের অনেক ক্ষতি করে। মাদকাসক্ত ব্যক্তি টাকা না পেলে ছিনতাই, ধর্ষণ, খুনসহ নানাবিধ অপরাধে

জড়িয়ে পড়ে। সে শুধু পরিবারই নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বোঝাস্বরূপ। তাই মাদকের অভিশাপ থেকে দূরে থাকতে সবার সক্রিয়তা ও সচেতনতা আবশ্যক।

মাহফুজুর রহমান খান

মেলান্দহ, জামালপুর

সড়কের ওপর হাটবাজার নয়

দুর্ঘটনায় মৃত্যু হতেই পারে। নিজের না হোক। অন্যের কারণে প্রাণ চলে যেতে পারে; কিন্তু যখন নিজ থেকেই দুর্ঘটনা ডেকে আনা হয়, তখন তো আর অন্যকে দোষ দেওয়া যায় না। ছোটকাল থেকে দেখে আসছি, ট্রেনে কাটা পড়ে প্রচুর মানুষ মারা যায়। গাড়িচাপা পড়ে মানুষের করুণ মৃত্যু হয়। এর মধ্যে কিছু হয়তো আত্মহত্যা রয়েছে। বাকি সব মৃত্যু মানবসৃষ্ট। কারণ ট্রেন লাইনের ওপর বাজার বসে। বাসাবাড়ি এমনভাবে গড়ে উঠেছে, যেন ট্রেন চলে গেলে তার বাতাস গায়ে লাগে। কী ভয়ঙ্কর ব্যাপার, ভাবা যায়! এরাই ট্রেনে বেশি কাটা পড়ে। অসতর্ক হয়ে ট্রেন লাইরের ওপর বসে গল্প করে। কখন ট্রেন চলে আসে টেরই পায় না। বাসের মতো ট্রেন হঠাৎ থামতে পারে না। চেইন টানলেও থামতে সময় লাগে। ছোট ছোট বাচ্চা ছেলেমেয়ে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ছে। একই অবস্থা মহাসড়কগুলোর। প্রচুর হাটবাজার দেখা যায় মহাসড়কের ওপর। এতে যেমন যানজট সৃষ্টি হয়,

তেমনি দুর্ঘটনাও ঘটে। ঈদের সময় তো হযবরল অবস্থার সৃষ্টি হয়। রাতবিরেতে দ্রুতগামী যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ে। হুট করে মানুষ রাস্তা পার হয়। বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে। নতুবা মানুষ চাপা দিয়ে চলে যায়। কিন্তু হাইওয়ে সড়কের ওপর বাজার বসাতে হবে কেন? রেললাইন ছাড়া কি অন্য কোথাও বাজার বসানোর জায়গা নেই! রেললাইন, মহাসড়কের ওপর হাটবাজারগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়া দরকার। অন্যত্র বাজার বসানোর জায়গা দেওয়া হোক। এভাবে আয়োজন করে মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের মৃত্যু দেখতে চাই না। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।



মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

বানারীপাড়া, বরিশাল









মাহফুজুর রহমান খান

মেলান্দহ, জামালপুর

শিশুদের স্মার্টফোন থেকে দূরে রাখুন

অভিভাবকরা বাচ্চাকে শান্ত রাখার জন্য তার হাতে স্মার্টফোন বা ট্যাব ধরিয়ে দেন। গান, কার্টুন বা মজার ভিডিও চালিয়ে দিয়ে তাকে শান্ত রাখা হয়। আপনার-আমার সবার বাসাতেই এই চিত্র এখন নিত্যদিনের। স্মার্টফোনের কল্যাণে শিশুদের শান্ত রাখা, খাওয়ানো, এমনকি বর্ণমালা ও ছড়া শেখানোর কাজটিও বাবা-মায়ের জন্য অনেক সহজ ও স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠেছে। বিপরীতে স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে শিশুদের। আর এই নির্ভরশীলতাই আমাদের অজান্তে শিশুদের জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে। বড়দের উদাসীনতা বা নেকামির কারণে ছোট বাচ্চারা মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়ছে; যার প্রভাব ও কুফল খুবই ভয়ঙ্কর। শিশুরা ফোন চাইলেই দিতে হবে, এটা নিশ্চয়ই স্মার্টনেস নয়। আমরা বড়রা যেভাবে ফোনে আসক্ত হয়ে পড়ছি, আগামীতে শিশুরাও আরও বেশি আসক্ত হয়ে পড়বে। বাবা-মা কর্ম ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে সময় না দেওয়ার কারণে অথবা শখ করে ফোন কিনে দেওয়ায় বা তাদের বায়না পূরণ করতে মোবাইল উপহার দেওয়া ইত্যাদি কারণে আদরের শিশুদের হাতে হাতে ফোন। বাচ্চারা ইচ্ছামতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা গেইম খেলছে, ভিডিও দেখছে, ফোন নিয়ে যাচ্ছেতাই করছে। যা হোক অতি স্মার্ট বানাতে গিয়ে আদরের সোনামণিদের জীবন ও ভবিষ্যৎ ধ্বংসের দিকে ধাবিত করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিভিন্ন মেডিসিনের কভারে যেমন লেখা থাকে- 'শিশুদের নাগালের বাহিরে রাখুন'। ঠিক একইভাবে অভিভাবকদের মনে লিখে রাখতে হবে- 'শিশুদের ফোন থেকে দূরে রাখুন।' কীভাবে মোবাইল ফোন থেকে বাচ্চাদের দূরে রাখা যাবে, সেই পথ নিশ্চয়ই সবার জানা আছে। মনে রাখতে হবে, স্মার্টফোন থাকলেই স্মার্ট হয় না, প্রযুক্তির অভিশাপ থেকে নিজে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখাই হলো প্রকৃত স্মার্ট।



নিগার সুলতানা সুপ্তি

রোকেয়া হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়



ফুটপাত দখলমুক্তি চাই

সেদিন ঢাকার পলল্গবী এলাকায় গিয়ে দেখি, লাইন ধরে পুরো ফুটপাত দখল; শুধু তাই নয়, রাস্তাও দখল নিয়েছে নানা রকম ফল ব্যবসায়ীরা। ফুটপাত ও রাস্তা দখলকারী এক ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞেস করলাম, ফুটপাত পুরোটা দখল করলেন কেন? ফুটপাত তৈরি হয়েছে জনগণ বা নাগরিকদের হেঁটে চলাচল করার জন্য। এর উত্তরে ফুটপাত ও রাস্তা দখলকারী হকার বলল, দখল নিয়েছি টাকা দিয়ে আর মাসে মাসে তো ভাড়া দিচ্ছি। তাহলে দখল নিয়েছি- এ আপত্তিকর কথা বলছেন কেন? আমি বললাম, ফুটপাত ও রাস্তা কার কাছ থেকে বুঝে দখল নিয়েছেন, সে ব্যক্তিটির নাম বলুন? এর উত্তরে মাথায় টুপি দেওয়া সেই ফুটপাত দখলকারী জানাল, কার কাছ থেকে পজিশন নিয়েছি, অত কিছু জানতে চাইয়েন না-আপনারে একবার দেখিয়ে দিলে সে আপনার হাত-পা ভেঙে দেবে। দখলকারী হকারের কথাগুলো শুনে মনে হলো, সেও একজন সন্ত্রাসী অর্থাৎ সন্ত্রাসী হকার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, এবার ফুটপাত ও রাস্তা দখলকারী সন্ত্রাসী হকার ও এদের মদদদাতাদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করুন। নাগরিকদের ফুটপাত ও রাস্তার দুই পাশ জনগণের হেঁটে চলাচলের অধিকার ফিরিয়ে দিন। মাদকের বিরুদ্ধে যে রকম অভিযান চলছে, সে রকম অভিযান চাই রাস্তা ও ফুটপাত দখলকারী হকারদের বিরুদ্ধে।

লিয়াকত হোসেন খোকন

ঢাকা












মন্তব্য