ঈদের আনন্দ

বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ান

প্রকাশ : ১০ আগষ্ট ২০১৯

আমরা জানি, এবারের ঈদুল আজহা উপস্থিত হয়েছে এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। একদিকে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জনপদে বন্যা, অন্যদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ মানুষের ঈদ আনন্দে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। বিশেষত ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় এখনও অনেক জনপদ বন্যার পানিতে ডুবে আছে। আবার কোনো কোনো এলাকায় পানি নেমে গেলেও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ছন্দে মানুষ ফিরতে পারেনি। বাড়ি ফেরা মানুষরা যদি আক্রান্তদের পাশে সহৃদয়তার তাগিদে যার যেটুকু সামর্থ্য আছে সেই অনুযায়ী উপকরণাদি নিয়ে দাঁড়ান, তাহলে তা হতে পারে অনন্য দৃষ্টান্ত। অনেকেই চুলা জ্বালানোর মতো পরিস্থিতিতে নেই। অনেকেরই ঈদপণ্য কেনাও দুঃসাধ্য। এমতাবস্থায় তাদের জন্য ঈদ উদযাপনে বড় শক্তি জোগাতে সবার সহযোগিতা। কোরবানির পশুর মাংস বিতরণের পাশাপাশি আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানো যেতে পারে রান্না করা মাংস, অন্যান্য খাবার উপকরণ এবং শিশুদের জন্য উপভোগ্যকর কিছু নিয়ে। অর্থাৎ নানাভাবেই বিপন্ন-বিপর্যস্তদের মুখে হাসি ফোটানোর প্রচেষ্টা চালানো যেতে পারে। সমকালও বিপন্নদের পাশে সবসময়ই থাকে। এবারও ঈদে সমকালের পাঠক সংগঠন সুহৃদ সমাবেশ ও আল-খায়ের ফাউন্ডেশন যৌথভাবে বিভিন্ন আকার কোরবানির জন্য ৫৪টি গরু দিয়েছে। বাঙালি সমাজে সহমর্মিতা-সহযোগিতা-সহানুভূতির নানারকম নিদর্শন রয়েছে। তা আরও পুষ্ট করা যেতে পারে বিদ্যমান বাস্তবতার নিরিখে উদ্যোগ-আয়োজনের মাধ্যমে। শুধু এই উদ্যোগ-আয়োজন সামাজিকভাবেই নয়, প্রশাসনিকভাবেও নেওয়া যেতে পারে। আমরা মনে করি, প্রশাসনের ও সমাজের সচ্ছলদের এ রকম কর্মপরিকল্পনায় আক্রান্তদের মানসিক কষ্ট প্রশমন করতে পারে এবং মানবিক সমাজ গঠনে আমাদের যে প্রচেষ্টা, তা আরও আলোকিত করতে পারে। দুর্যোগের মধ্যেও সবার চেষ্টা অকৃত্রিম ও আন্তরিক হলে তা সর্বসাধারণের উপলব্ধিতেও নবপ্রত্যয়ে জাগরণ ঘটাতে পারে। উৎসবের দুশ্চিন্তামুক্ত উদযাপন সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এত প্রতিকূলতার মধ্যেও হয়ে উঠতে পারে আনন্দমুখর। ঈদ আনন্দ হোক সবার জন্য।


মন্তব্য