বিপণন প্রক্রিয়ায় কুরিয়ার

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৯

  আসিফ

আমের বিপণন বা গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর ব্যাপারে একটি তৎপরতা কয়েক বছর ধরে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। সেটা কুরিয়ার সার্ভিস। বছরখানেক আগের কথা। হঠাৎ ফোন পেলাম ধানমণ্ডির এক কুরিয়ার সার্ভিস থেকে। রাজশাহী থেকে একটা কুরিয়ার এসেছে। খোঁজ নিয়ে জানলাম, আম এসেছে। কুরিয়ার সার্ভিসের অফিসে গিয়ে দেখলাম, আগের মতো শুধু কাগজপত্রের বান্ডিল নয়। বিভিন্নভাবে কাঠ ও কাগজ দিয়ে প্যাকিং করা আমের বাক্স। রীতিমতো আমের আড়ত। এগুলো এসেছে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে। পড়ে আছে গ্রাহকদের গ্রহণ করার অপেক্ষায়। গাছ থেকে পেড়েই গ্রাহকদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রদর্শনের জন্য দোকানে কোনো সময় ব্যয় হয়নি। রাসায়নিকভাবে বিষাক্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক কম।

সংবাদমাধ্যম সূত্র থেকে জানা গেছে, আম পরিবহনের ক্ষেত্রে কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যবহার বেশ বেড়েছে। ক্রেতারা বলছেন, রাজধানীর বাজারে ওঠা আমের ওপর ভরসা না থাকায় পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী অনেকে সরাসরি কুরিয়ারে আম আনিয়ে নিচ্ছেন। কেউ আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে, কেউবা বিভিন্নভাবে যোগাযোগের মাধ্যমে নাটোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, শিবগঞ্জ, রংপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আম সংগ্রহ করছেন। এর পেছনে অনেক বিষয় কাজ করছে। যেসব আম বাজারে আসে সেগুলো পেকে পচে যেতে পারে; সে কারণে কিছুটা কাঁচা থাকতেই আম পেড়ে তা বাজারজাত করার জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় প্যাকিং করে ঢাকা বা অন্যান্য শহরে পাঠানো হয়। সেগুলো যদি নির্দিষ্ট স্থানে দ্রুত পাঠানো সম্ভব হয়, ব্যবসায়ীরা দ্রুতই তা পাকাতে রাসায়নিক ব্যবহার করে। দীর্ঘদিন পণ্য ফেলে রাখার বাড়তি খরচ থেকে বাঁচার জন্যই তারা এ কাজটি করে। আবার যদি পণ্য পৌঁছতে দীর্ঘ সময় লাগে অথবা গাছ থেকে সঠিক সময়ে পাড়া হয়, সে ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছতে একটু এদিক-সেদিক হলে পচে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যও ব্যবসায়ীরা যেনতেনভাবে রাসায়নিক ব্যবহারে দ্বিধা করে না। আবার এটাও ঠিক, সেটা না করলেও পণ্যগুলোকে পচন বা নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যাপার থাকলেও এগুলোই মূলত প্রধান। বাজারের বেশিরভাগ আম মেডিসিন বা রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয়। তাই স্বাদটাও আর সে রকম থাকে না। কিন্তু গাছ থেকে আমটা পেড়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্যাকিং করে এখন কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানো যায়। সে ক্ষেত্রে পাকানো বা পচনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য রাসায়নিকের প্রয়োজন ওই মাত্রায় থাকে না।

এ ধরনের বিপণন প্রক্রিয়া আমরা অনেক রকম ফল ও শাকসবজির ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারি। এতে ভোক্তারা উৎপাদনকারীর কাছ থেকে সরাসরি পণ্য কিনে রাসায়নিকমুক্ত ফল, শাকসবজির আস্বাদন গ্রহণ করতে পারেন। পণ্য উৎপাদন কেন্দ্রে যদি পর্যাপ্ত কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যবস্থা গড়ে ওঠে এবং উৎপাদনকারীরা যদি এসবের সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে বিপণনের একটি মজবুত ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের চাপ থেকে উৎপাদনকারীরা একটু হলেও রেহাই পাবে। গ্রাহকরা টাটকা শাকসবজি তুলতে পারলে ভোক্তা ও উৎপাদক দুই শ্রেণিরই লাভ। কৃষি খাতে ব্যাপক উন্নতি সত্ত্বেও উৎপাদক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না বিপণন প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বিপণনের যদি বিস্তার ঘটে, তাহলে উৎপাদনকারী, গ্রাহকের সবদিক দিয়েই ভালো।


মন্তব্য