প্রবীণদের মর্যাদা দিন

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৯

প্রবীণদের মর্যাদা দিন

  হাসান আলী

পৃথিবীতে কমবেশি প্রবীণরা নির্যাতনের শিকার। বাংলাদেশেও প্রবীণরা নির্যাতনের মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছেন। বেশিরভাগ প্রবীণ নির্যাতনের কথা প্রকাশ্যে বলতে অস্বস্তিবোধ করেন। কেউ কেউ সামাজিক মানসম্মানের কথা ভেবে নির্যাতনের বিষয়টি চেপে যান। প্রবীণের মৌলিক চাহিদাগুলোকে গুরুত্ব না দেওয়াও এক ধরনের নির্যাতন। যেমন অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড়, খাদ্য-পানীয় না দেওয়া; থাকার ঘরটি নোংরা, স্যাঁতসেঁতে, আলো-বাতাসহীন, প্রচণ্ড উষ্ণ কিংবা শীতল রাখা; অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনতে গড়িমসি করা কিংবা চিকিৎসা না করা; চলমান চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়া; প্রেসক্রিপশন মোতাবেক ওষুধ গ্রহণে বাধা বা কমবেশি দেওয়া; বিছানা ও টয়লেট ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া; বাড়ি থেকে তাড়ানো কিংবা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া ইত্যাদি। ওপরের সব আচরণ প্রবীণদের প্রতি প্রত্যক্ষ নির্যাতন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জ্ঞান কিংবা সামর্থ্য না থাকার কারণে কোনো কোনো সময় প্রবীণরা অনিচ্ছাকৃত নির্যাতনের শিকার হন। তারা আর্থিকভাবেও নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। যেমন জমি, প্লট, ফ্ল্যাট হস্তান্তর করতে বাধ্য করা; ব্যাংকের টাকা উত্তোলনে চাপ সৃষ্টি; সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকৃত টাকার মুনাফা আত্মসাৎ; সম্মতি ছাড়া সম্পদ বিক্রি করা; জোরপূর্বক উইল কিংবা দলিলপত্র পরিবর্তনে বাধ্য করা; প্রতারণা করে চেকে সই নেওয়া; অনুমতি ছাড়া ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার; টাকা-পয়সা চুরি; অন্যের গৃহীত ঋণ পরিশোধে বাধ্য করা কিংবা চাপ দেওয়া; আর্থিক প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে টাকা তোলা কিংবা সম্পদ বিক্রি করতে বাধাদান।

প্রবীণরা শারীরিকভাবেও নির্যাতিত হন। এর ধরন হলো- চড় মারা, ধাক্কা দেওয়া, চুল ধরে টান দেওয়া, ছ্যাঁকা ও গায়ে গরম পানি ঢেলে দেওয়া, টয়লেট কিংবা কক্ষে আটক, পাতলা পায়খানা হওয়ার জন্য কিছু খাইয়ে দেওয়া ইত্যাদি। প্রবীণরা যৌন নির্যাতনেরও শিকার হন। প্রবীণের লজ্জা নিবারণের মতো কাপড়-চোপড় না থাকা যৌন নির্যাতন বলে বিবেচিত হওয়া উচিত। প্রবীণরা মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। এর ধরন হলো- হুমকি ও ভয় দেখানো, নাস্তানাবুদ, হয়রানি, গালাগালি, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ ও ফোন করতে বাধাদান, পছন্দের কাজ করতে বারণ করা ইত্যাদি।

আমাদের প্রবীণরা সামাজিকভাবে নির্যাতনের শিকার হন। যেমন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্ট, ডিজে পার্টি, নাটক, যাত্রাপালা ইত্যাদিতে অংশ নিলে সমাজ কটাক্ষ করে এবং প্রবীণ ব্যক্তিকে এড়িয়ে চলে। তাদেরকে বিরক্তিকর হিসেবেও চিত্রিত করা হয়। গ্রামের হাটবাজার, হোটেল-রেস্টুরেন্টে গরিব প্রবীণদের বসতে নিষেধ করা হয়। সমাজপতিদের কাছে বিচারপ্রার্থী হলে তা আমলে নেয় না। প্রবীণদের অনেক সময় জনসমক্ষে বিব্রতকর প্রশ্ন করে নাজেহাল করা হয়। গণপরিবহনে উঠতে গেলে অসহযোগিতা করা। অতিব্যস্ত রাস্তা অতিক্রমে সহযোগিতা পাওয়া কঠিন। সমাজপতিরা অনেক সময় প্রবীণের অবস্থান নির্দিষ্ট করে দেন, যা তার জন্য কষ্টকর। দেশের প্রবীণরা নানা ধরনের নির্যাতনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আমাদের বর্তমান গড়ে দিয়েছেন আজকের প্রবীণরা। তাদের স্বস্তিদায়ক, মর্যাদাপূর্ণ প্রবীণ জীবন নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ আবশ্যক।


মন্তব্য

সম্পাদকীয় ও মন্তব্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ