রাজনীতিতে কৌশল - অপকৌশল

সমকালীন প্রসঙ্গ

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৯

রাজনীতিতে কৌশল - অপকৌশল

  এমাজউদ্দীন আহমদ

দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্নেষণ করতে গেলে প্রশ্ন দাঁড়ায়- এখানে মানুষের অধিকারের ভূমি কতটা সমতল। এক কথায় বলা যায়, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংজ্ঞাসূত্র মোতাবেক দেশের রাজনীতি চলছে না। ভিন্নমতাবলম্বী, বিরোধী পক্ষের মতামত কিংবা তাদের রাজনৈতিক অধিকারের পথক্রম সংকুচিত হচ্ছে। অর্থাৎ পরিস্থিতিটা দাঁড়িয়েছে, রাজনীতি এখন অনুমতিনির্ভর। আর যাই হোক, অনুমতির রাজনীতি কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক রাজনীতি নয়, হতে পারে না। এই প্রেক্ষাপটে বলা যায়, দেশে এখন রাজনীতি নেই। রাজনীতির নামে যেটুকু আছে কিংবা চলছে তা হলো, একতরফা কিংবা কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা। সন্দেহ-অবিশ্বাস-শঙ্কা-হতাশা ইত্যাদি নানারকম নেতিবাচকতা রাজনীতি ঘিরে ক্রম পুষ্ট হচ্ছে। যতই উন্নয়ন-অগ্রগতির কথা বলা হোক না কেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতির যদি বিকাশ না ঘটে, এর পথ যদি ক্রম রুদ্ধ থাকে, তাহলে কোনো কিছুই টেকসই হবে না, হবে না অর্থবহও। রাজনীতির বর্তমান যে চিত্র রক্তস্নাত স্বাধীন বাংলাদেশে পরিলক্ষিত হচ্ছে, চূড়ান্ত অর্থে তা মঙ্গলজনক নয়।

রাজনীতিতে কৌশল থাকবেই। কিন্তু অপকৌশল কোনোভাবেই কাম্য নয়, হতে পারে না। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের পথ যদি সংকুচিত হয় কিংবা হতে থাকে, তাহলে সমূহ বিপদাশঙ্কাও প্রকট হতে বাধ্য। বিরোধী দল ও মত দমনের চেষ্টা গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য অকল্যাণই ডেকে আনে। কারারুদ্ধ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অনেক দিন ধরেই অসুস্থ। তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে আসছে বিএনপি। কিন্তু সরকারের দায়িত্বশীল মহল থেকে সম্প্রতি বারবারই তার প্যারোলে মুক্তির প্রসঙ্গ নানাভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে। তারা বলছেন, বিএনপি চাইলে এমনটি খতিয়ে দেখা হবে কিংবা এ ব্যাপারে পরবর্তী ভাবনাচিন্তা করা হবে। কিন্তু বিএনপির নেতারা স্পষ্ট করেই বলে আসছেন, তারা সরকারের অনুকম্পা চান না, আইনি প্রক্রিয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি চান। এ লক্ষ্যে ৭ এপ্রিল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির নেতারা গণঅনশন কর্মসূচি পালন করেন। এই অনশনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন দুই জোট- জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের শীর্ষ নেতারাও অংশ নেন। বিএনপি নেতারা যেহেতু খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি দাবি কখনও করেননি, সেহেতু এ প্রসঙ্গ সরকারের দায়িত্বশীল কেউ কেউ ঘুরেফিরে কেন আনছেন, তা বোধগম্য নয়। নাকি তাও এক ধরনের অপকৌশল? কেন এই বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, তাও প্রশ্নবোধক।

ফিরে তাকাই ইতিহাসের দিকে। আইয়ুবের শাসনামলে ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কারাবন্দি বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার কিংবা এই পন্থায় মুক্তি দাবির বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছিল শাসক মহলের পক্ষ থেকে। কিন্তু দলের নেতারা অটল ছিলেন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নিঃশর্তে প্রত্যাহারের বিষয়ে। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর তখনকার ভূমিকা স্মরণযোগ্য। এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর মুক্তি দাবি নিয়ে আন্দোলনকারীদের অবস্থান আরও সুসংহত হলে আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করা হয়। সেই রকম আন্দোলন এখানকার সময়ে গড়ে তোলার মতো অনেক কিছুরই ঘাটতি রয়েছে। আইয়ুবের পর এলেন ইয়াহিয়া খান। এর পরবর্তী ইতিহাস-সচেতন মানুষ মাত্রই জানা। আগেই বলেছি, রাজনীতিতে কৌশল অবলম্বন করা যেতেই পারে; কিন্তু কূটকৌশল অবলম্বন করা সামগ্রিকভাবে বৈরিতার পথটাই প্রশস্ত করে।

আমাদের দেশের রাজনীতিতে নীতি-নৈতিকতার পাঠ ক্রমে চুকে যাচ্ছে। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খানের শপথ নেওয়ার বিষয়টি যদি পর্যালোচনা করা হয়, তাহলে তা আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। দু'জনই গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ছায়াতলে। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ধানের শীষ নিয়ে এবং মোকাব্বির খান দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। তারা দু'জনই জোটভুক্ত রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে প্রচার কার্য চালানোর সময় যেসব কথা বলেছিলেন, নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার ক'দিন পর থেকেই তারা এর বিপরীতে অবস্থান নিতে থাকেন। যে বৈরী পরিবেশে তারা নির্বাচনে জয়ী হন, এর পুরুল্লেখ নিষ্প্রয়োজন। তাদেরকে ভোটাররা নির্বাচিত করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে। কিন্তু তারা কি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অঙ্গীকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছেন? যদি বিএনপির সমর্থন না থাকত, তাহলে কি এই দু'জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারতেন কি-না এ নিয়ে বিতর্ক চলতেই পারে। তারা এখন তাদের নির্বাচকমণ্ডলীর চাপের কথা বলছেন। কিন্তু যদি কেউ বলেন, নির্বাচকমণ্ডলীর চাপের চেয়েও সংসদ সদস্য হিসেবে সুযোগ-সুবিধার প্রভাবের আকর্ষণ তাদেরকে সংসদে যাওয়ার পথে টেনেছে, তাহলে কি অত্যুক্তি হবে? এ নিয়ে দুর্মুখরা নানা রকম কথাই বলছেন। তাদের এসব কথা অমূলক কি-না এর উত্তর মিলবে ভবিষ্যতে। আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে ১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারির কথা স্মরণ করি তাহলে দেখব, সেদিন রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে তখনকার সময়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা অঙ্গীকার করেছিলেন বাংলার অধিকারের প্রশ্নে আপস না করার। দলীয় এমন দৃঢ় অঙ্গীকার এবং সবার দলের প্রতি আনুগত্যের কারণেই কিন্তু ইতিহাসে সৃষ্টি হয়েছিল নতুন অধ্যায়। এমন নজির আছে স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনীতির অঙ্গনেও।

রাজনীতি যদি নীতিরই রাজা হয়, তাহলে তৎসংশ্নিষ্ট অনেক কিছুই আমলে রাখা কিংবা নেওয়া অবশ্যই প্রয়োজন। রাজনীতিতে দলীয় কিংবা জোটের সিদ্ধান্তে অনড় থাকা, অঙ্গীকারের দৃঢ় থাকার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। নীতি জলাঞ্জলি দিয়ে, অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতি ভুলে গিয়ে আর যাই হোক রাজনীতির অঙ্গনে খুব বেশিদিন বিচরণ করা যায় না। এমন নজিরও আমাদের সামনে আছে। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে জোটবদ্ধ আন্দোলনের ইতিহাসও নতুন নয়। শুধু আমাদের দেশেই নয়, অন্য দেশেও এমন নজির আছে। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খানের শপথ নেওয়ার পর রাজনীতিতে নীতি-নৈতিকতার বিষয়টি পুনর্বার আলোচনায় এসেছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হোক- এই দাবিটা দেশ-বিদেশের নানা মহল থেকেই জোরালোভাবে উঠেছিল। নানারকম অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ওই নির্বাচন শেষ পর্যন্ত অংশগ্রহণমূলক হলেও নির্বাচনের পূর্ব ও নির্বাচনকালীন কর্মকাণ্ড নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নের মুখে ফেলে। ওই নির্বাচন নিয়ে গর্ব করার কিছু নেই। সম্প্রতি চার ধাপে সম্পন্ন হলো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। বাকি রয়েছে আরও এক ধাপ, যা ঈদুল ফিতরের পর হবে। এই নির্বাচন নিয়েও নতুন করে বলার কিছু নেই। এ ক্ষেত্রে অপর কোনো পক্ষ নেই। নিজেরাই নিজেদের প্রতিপক্ষ। নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত-কলহ-বিপদের জের ধরে রক্তপাত হয়েছে, ঘটেছে প্রাণহানিও। রাজনীতি ও নির্বাচন সবই যেন খেলায় পরিণত হয়ে গেল। একই সঙ্গে বলা যায়, অর্থহীনও হয়ে গেল। এসব গণতন্ত্রের জন্য কোনো শুভবার্তা বহন করে না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মেনে নিলেও তাদের স্টেট ডিপার্টমেন্ট বিশ্ব মানবাধিকার প্রতিবেদনে বাংলাদেশ পরিস্থিতি মূল্যায়নে বিরূপ মন্তব্য না করে পারেনি। মন্তব্যটা এ রকমের- 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ গত ডিসেম্বর মাসে অকল্পনীয় একপেশে সংসদীয় নির্বাচনের মাধ্যমে পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য টানা তৃতীয়বার নির্বাচিত হয়েছে। ওই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু বিবেচিত হয়নি। বিরোধী পোলিং এজেন্ট ও ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, জাল ভোট প্রদানসহ অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্বাচনের আগে প্রচারের সময় হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার ও সহিংসতার কারণে বিরোধী অনেক প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মিছিল-সমাবেশ এবং স্বাধীনভাবে প্রচার কঠিন হয়ে পড়ার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে।' এসব পর্যবেক্ষণ মার্কিন সরকারের। তবে দেশের ভেতর থেকে যারা নির্বাচনের গোটা প্রক্রিয়াটা দেখেছেন এবং অনুভব করেছেন, তাদের অভিজ্ঞতা ছিল অনেক বেশি প্রত্যক্ষ এবং হতাশাব্যঞ্জক। আরও বলা হয়েছে, 'ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের ২২টি এনজিওর মধ্যে মাত্র সাতটিকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।' তাদের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে যেসব মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়, তারও একটা তালিকা দেওয়া হয়েছে। তালিকায় উল্লেখ রয়েছে, 'বেআইনি বা বিনা বিচারে হত্যা, গুম, নির্যাতন, সরকার বা তার পক্ষে বেআইনি বা পরোয়ানা ছাড়া আটক, কঠোর ও জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ কারাগার পরিস্থিতি, রাজনৈতিক বন্দি, ব্যক্তিগত বিষয়ে বেআইনি হস্তক্ষেপ, সেন্সরশিপ, সাইট ব্লক ও আপত্তিকর বিবৃতি এবং এনজিও কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ, শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়া ও সংগঠন করার অধিকারের ওপর উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বিধিনিষেধ, স্বাধীনভাবে চলাফেরার ওপর উল্লেখযোগ্য বিধিনিষেধ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার ওপর বিধিনিষেধ, অবাধ ও সুষ্ঠু এবং প্রকৃত নির্বাচন না হওয়া, দুর্নীতি ও মানব পাচার।' এই যে চিত্র বিদেশি পর্যবেক্ষণে ফুটে উঠেছে, তা আমাদের জন্য গৌরবের নয়। দেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র এবং সমাজের নানাবিধ ক্ষতচিত্র ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগজনক।

গত ৭ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত 'সুশাসন ও গণতন্ত্র, বাংলাদেশের করণীয়' শীর্ষক এক সেমিনারে সফররত যুক্তরাজ্যের এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড বলেছেন, 'নির্বাচন ও গণতন্ত্র মানে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে এবং নির্বাচনে ভোটাররা স্বাধীনভাবে প্রতিনিধি পছন্দ করবেন। বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে এটা বলতে আনন্দ পাই না যে, গত ডিসেম্বরের নির্বাচন সেই মান অর্জন করতে পারেনি।' তিনি আরও বলেন, 'যে কোনো সুসংহত গণতন্ত্রে পছন্দমতো মত প্রকাশ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জবাবদিহিকে শক্তিশালী করতে হলে গণমাধ্যমকে তার কাজ করতে দেওয়া উচিত।' এই যে পর্যবেক্ষণগুলো উঠে আসছে, প্রকাশ পাচ্ছে, তা কতটা আমলে নেওয়া হচ্ছে? দেশের নির্বাচন, নির্বাচনী ব্যবস্থা, রাজনীতি ক্রমাগত প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ ঔজ্জ্বল্য হারাচ্ছে। নির্বাচন গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম শর্ত। কিন্তু এ শর্ত যদি এভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতেই থাকে, তাহলে রাজনীতিও সঙ্গত কারণেই বিপথে যাবে। নির্বাচন, গণতন্ত্র, বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইত্যাদি নিয়ে যুক্তিযুক্ত যে আলোচনা হচ্ছে, তা আমলে নেওয়ার প্রয়োজনই মনে করছেন না সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীলরা। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে, জাতীয় সংসদে শক্তিশালী বিরোধীপক্ষ থাকাটা রাজনীতি, গণতান্ত্রিক, সর্বোপরি দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য খুবই জরুরি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এখানে বিরোধীপক্ষকে দাঁড়াতেই দেওয়া হচ্ছে না, তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের পথ কণ্টকাকীর্ণ। এই বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্ক হতে পারে; কিন্তু তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়ার অবকাশ ক্ষীণ। পরমতসহিষুষ্ণতা, সহনশীলতা, গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলেও বর্তমান বাংলাদেশে এর অনুপস্থিতি রয়েছে।

১৯৯০ সালের শেষ লগ্নে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানের রূপ লাভ করে। এর পটভূমি যদিও ছিল ভিন্ন, কিন্তু অসহায় ছিল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ভারসাম্যমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা। কিন্তু এই লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কতটা সফল হয়েছে, আজকের প্রেক্ষাপটে এ নিয়েও চলতে পারে বিতর্ক। তত্তকথা বলতে চাই না। তারপরও বলব, গণতন্ত্র এক ধরনের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থা। গণতন্ত্র এমন এক পদ্ধতি, যা সবার আশা-আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে। এই ব্যবস্থায় সংখ্যাগুরু যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যালঘুও। একই সঙ্গে এও বলা প্রয়োজন, এই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তি স্বীকৃত হয় স্বতন্ত্র, অনন্য ও এককরূপে। এখানে সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু একত্রে কাজ করে। কিন্তু আমাদের বাস্তবতা কী সাক্ষ্য বহন করে? বাংলাদেশে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের জন্য তাই প্রয়োজন বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


মন্তব্য যোগ করুণ

সম্পাদকীয় ও মন্তব্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ