প্রতিকারের উপায় কী

সমাজ ও রাজনীতি

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০১৯

প্রতিকারের উপায় কী

  সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

এ কথা অনস্বীকার্য যে, নির্বাচন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখার জন্য অত্যাবশ্যকীয়। নির্বাচন যদি সুষ্ঠু না হয়, তাহলে তা সে ত্রুটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সরাসরি আঘাত করে, আঘাত করে তাকে দুর্বল করে দেয়। সরকারের জবাবদিহির দায় সংকুচিত হয়ে আসে। সবচেয়ে বড় কথা, জনজীবনে হতাশা ও পরাজিতের মনোভাব দেখা দেয়। যুদ্ধ করে বাংলাদেশের যে মানুষরা সর্বপ্রকার মারণাস্ত্রে সজ্জিত ও সর্বাধিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রায় এক লাখ হানাদারের এক বাহিনীকে হাঁকিয়ে দিল, যুদ্ধ শেষে নিজের দেশে তারা যদি নিজেদের শাসকদের কাছে হেরে গেছে বলে ধরে নেয়, তবে তাদের পক্ষে দারিদ্র্য, পরিবেশ ও বিশ্বব্যবস্থার বৈরিতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সম্ভব হবে, এমন ভরসা থাকে কি? একটির পর আরেকটি জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের পরাজয়ের ঘটনা ঘটে চলেছে। আর নদীর পানিতে যদি দূষণ দেখা দেয়, তবে তার শাখা-প্রশাখাতে ছড়িয়ে না পড়ে পারে না; জাতীয় নির্বাচনের প্রভাব অন্য সব নির্বাচনেও গিয়ে পড়েছে বৈকি।

২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচন ভিন্ন রকমের হবে বলে ক্ষীণ একটা আশার শিখা জেগেছিল মানুষের মনে। সেটা খুব বড় রকমের একটা ঝাপটা খেয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের ধারাপ্রবাহের বাইরে এই নির্বাচন যেতে পারেনি। সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের প্রায় সর্বজন সমর্থিত দাবির জন্য আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার ব্যাপারে সহানুভূতি ও সমর্থন সংগ্রহ করে নির্যাতিত বলে পরিচিত যে ছাত্রটি ভিপি হয়েছে, তারও কোণঠাসা দশা। ডাকসু নির্বাচনে শিক্ষকরাই তত্ত্বাবধানে ছিলেন। তারা সব শিক্ষার্থীরই অভিভাবক; কিন্তু এই তত্ত্বাবধায়করা অভিভাবকত্বের দায়িত্ব পালন করেননি। বর্তমান সরকারের সমর্থক ও সরকার কর্তৃক সমর্থিত ছাত্রলীগের বাইরে সব শিক্ষার্থীরই দাবি ছিল ছাত্রলীগ কর্তৃক পরিপূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রিত আবাসিক হলের পরিবর্তে একাডেমিক ভবনে ভোটের ব্যবস্থা করার। ভোটদানের সময় ছয় ঘণ্টার মধ্যে সীমিত না রেখে প্রসারিত করার, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের বন্দোবস্তের মতো যুক্তিসঙ্গত কোনো দাবিই মানা হয়নি। ফল দাঁড়িয়েছে এই, বহু ছাত্রছাত্রী ভোট দিতে পারেনি। ওদিকে আবার জাতীয় নির্বাচনের ধারাতেই কারচুপির চেষ্টাও বিলক্ষণ ঘটেছিল। শিক্ষকদেরই কেউ কেউ ব্যবস্থা করেছিলেন। তারা ব্যর্থ হয়েছেন, বিশেষভাবে ছাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে। মেয়েদের এই যে সাহসী ও অগ্রগামী ভূমিকা, এতে অল্প কিছু হলেও ভরসার কারণ রয়েছে। এই মেয়েরা আমাদের ওই বৃষ্টি ও দোলারই সমবয়স্ক ও সহযাত্রী। তারা নিষেধ মানেনি, ছাত্রলীগ ও প্রশাসনের ভ্রূকুটি অমান্য করেছে। যদিও তারা অগ্নিদগ্ধ হয়নি ঠিকই; কিন্তু তাদের ওপর যথারীতি হামলা হয়েছে, মামলা দেওয়াও বাদ থাকেনি। তারা বিপদের ঝুঁকিতে ছিল, হয়তো এখনও আছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলীয় প্রতিষ্ঠান নয়, জাতীয় প্রতিষ্ঠান বটে। এর গৌরব মলিন হলে সারাদেশ ব্যথিত হয়, লজ্জা পায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শতবর্ষপূর্তির দিকে এগোচ্ছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এখান থেকে বের হয়ে গেছেন। তাদের সবার কাছেই এই বিশ্ববিদ্যালয় গৌরবের বস্তু। এর ঐতিহ্যকে মলিন করার ব্যাপারে দেশবাসীর সঙ্গে এদেরও নীরব অনুরোধ আছে। সরকারি আনুকূল্যে সাময়িকভাবে যারা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন, তারা যদি সে অনুরোধ উপেক্ষা করেন, তবে সেটি অত্যন্ত বড় হতাশার কারণ হবে বৈকি। হতাশাজনক চিত্র তো দেখা যচ্ছে নানা দিকে।

আওয়ামী লীগের শাসন দশ বছর পার হলো। আরও পাঁচ বছর নির্বিঘ্নে চলবে বলেই তাদের ধারণা। তারপর আরও পাঁচ বছর চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলবে। কুড়িগ্রামের হিরো সাহেবের মতো নির্বাচনের পর তারা যে বিজয় উৎসব করেনি, তাতে সুবিবেচনার পরিচয় পাওয়া গেছে। উৎসব করলে বহু অঘটন ঘটত; পদদলন যে মারাত্মক আকার নিত, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে ক্ষমতার দলীয় দম্ভ যে প্রবহমান থাকবে, সেটা নিশ্চিত।

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এখন যে ছত্রভঙ্গ দশা, সেটা আওয়ামী লীগের দম্ভের একটা কারণ হবে নিশ্চয়ই। লক্ষ্য করেছি যে, দলটির শুভানুধ্যায়ীদের কেউ কেউ পত্রিকায় কলাম লিখে বলার চেষ্টা করেছেন যে, বিএনপি আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী অবশ্যই; কিন্তু শত্রু নয়, শত্রু হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। তা জামায়াতও এখন কাহিল অবস্থায় রয়েছে। ভবিষ্যতে হয়তো ভিন্ন নামে আত্মপ্রকাশ করবে; তবে দেশের অগ্রগতির জন্য আগামীতে শত্রুপক্ষ হিসেবে যে মৌলবাদী শক্তি দেখা দেবে বলে আশঙ্কা, তারা জামায়াতের তুলনায় কম নৃশংস হবে- এমনটা মনে হয় না। নবোত্থিত এই মৌলবাদীদের মধ্যে হন্তারক উগ্রপন্থিরা তো থাকবেই, অতি বিপুল সংখ্যায় থাকবে হেফাজতিরা। হেফাজতিরা যে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তার প্রমাণ তারা দৃশ্যমান করে দিয়েছে ২০১৩ সালে শাহবাগে গণজাগরণের সময় ধ্বংসযজ্ঞে। হেফাজতিদের দাবির মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ যেটি সেটি হলো, ব্লাসফেমি আইন চালু করা।

পাকিস্তানের মৌলবাদীরা ওই আইন কায়েম করে ছেড়েছে এবং তার প্রতিফল কী দাঁড়িয়েছে, টের পাচ্ছে সে রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকরা। তালেবান পরিচয়ে এই মৌলবাদীরাই আফগানিস্তানের সব প্রগতিশীলতাকে পর্যুদস্ত করেছে তো বটেই; গোটা দেশটাকে ছারখার করে দিয়েছে। বর্তমান সরকার কর্তৃত্ব পেয়ে এবং সে কর্তৃত্বকে দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছে এর মধ্যে একটি হলো, হেফাজতিদের নানা রকমের ছাড় দেওয়া। কতগুলো ছাড় তো অবিশ্বাস্য, প্রায় অকল্পনীয়। আগামীতে বিপদটা কিন্তু আসবে ওই মৌলবাদীদের দিক থেকে। সে বিপদ এলে আওয়ামী লীগ কীভাবে এর সামাল দেবে, সেটা তাদের ব্যাপার; কিন্তু দেশবাসী যে ভীষণ এক সংকটের আবর্তের মধ্যে নিক্ষিপ্ত হবে, তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। বিশেষ রকমের বিপদ ঘটবে মেয়েদের; বৃষ্টি ও দোলাদের। হেফাজতিরা নারীমুক্তি পরের কথা, নারী শিক্ষাতেই বিশ্বাস করে না। সমাজে তারা যে আগুনটা জ্বালাতে চাইবে, সেটা চুড়িহাট্টার অগ্নিদুর্ঘটনার মতো ভয়াবহ তো হবেই, তদুপরি সেটা স্থানীয় ও স্বল্পস্থায়ী হবে না। বনানীতে আমরা কী দেখলাম? বনানীর ধোঁয়া শেষ হতে না হতেই গুলশানের সিটি করপোরেশন মার্কেটে আবার আগুন। ওখানে কয়েক বছর আগেও আগুনে মানুষ নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিল। সমাজে নানা রকম আগুনের ছড়াছড়ি। ওই আগুন কেবল যে প্রগতিপন্থি মানুষকে পুড়িয়ে মেরেই ক্ষান্ত হবে তা নয়, সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে, সব মানুষকেই দগ্ধ করবে এবং কোনো দমকলেরই সাধ্য থাকবে না তাকে নির্বাপিত করার। এই অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রটা কিন্তু নানাভাবে প্রস্তুত হচ্ছে। ক্ষেত্রগুলোর সবচেয়ে বড়টি হচ্ছে মানুষের ক্ষোভ। দেশের প্রায় সব মানুষই এখন বিক্ষুব্ধ; কিন্তু তাদের ক্ষোভ প্রকাশের কোনো গণতান্ত্রিক পথ খোলা নেই। নির্বাচন ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত। রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা সর্বক্ষণ ভয় দেখাচ্ছে। সময় পার হয়ে যাচ্ছে; কিন্তু আমাদের জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের সেই পঙ্‌ক্তি, 'তোমরা ভয় দেখিয়ে করছো শাসন জয় দেখিয়ে নয়'- কিছুতেই মিথ্যা প্রমাণিত হচ্ছে না। লোকে সন্ত্রস্ত, মুখ খুলতে ভয় পায়। অথচ তাদের অনেক কথা আছে বলার। স্টিম জমে উঠছে ভেতরে ভেতরে। ওদিকে দুর্নীতি এখন সর্বত্রগামী। ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না। পুলিশ আসছে- শুনলে লোকে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা যায়। কৃষক তার সর্বশক্তি প্রয়োগ করে কৃষিপণ্য উৎপাদন করে; কিন্তু ন্যায্যমূল্য পায় না। গার্মেন্ট শ্রমিকরা বাঁচার মতো মজুরি চাইলে মালিকের পক্ষ নেওয়া পুলিশ ও মালিকের নিয়োজিত মাস্তানরা তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেই। এখন আবার শোনা যাচ্ছে, সরকারি হাসপাতালেই সরকারি চিকিৎসকরা প্রাইভেট প্র্যাকটিসের চেম্বার খুলবেন। রাস্তায় বের হলে গাড়িচাপা পড়ে মরতে হয়। আদালতের বিচারও পণ্যে পরিণত হয়েছে। মানুষ তাহলে যাবেটা কোথায়? কে দেবে আশ্রয়? বামপন্থিরা দাঁড়াতে পারছে না। অত্যন্ত হতাশ ও চরমভাবে অসহায় মানুষ আশ্রয় খুঁজবে ধর্মের কাছে। ভাববে, ইহকালে ন্যায়বিচার পাওয়া গেল না, পরকালে পাওয়া যাবে।

সবকিছু মিলে মানুষ নিজেদের অজান্তেই দক্ষিণপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়বে। সুবিধা হবে ধর্মকে নিজেদের নোংরা ইহজাগতিক স্বার্থে যারা ব্যবহার করে তাদের। উস্কানি আসছে বিদেশের ধনী দেশগুলো থেকেও। তারা কেবল যে উগ্র ইসলামভীতি প্রচার করছে তাই নয়, মুসলমানদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ও মাত্রার ক্রুসেড ঘোষণা করে বসে আছে। যুদ্ধ বাধিয়ে দিয়ে লাখ লাখ মানুষকে উদ্বাস্তু করছে আবার উদ্বাস্তুরা যখন শরণার্থী হয়ে ইউরোপ-আমেরিকায় আশ্রয় খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে, তখন তাদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করছে। যারা প্রবেশ করছে, তাদের হেনস্তা করছে। শান্তি ও শান্তিপ্রিয় বলে পরিচিত ছিল নিউজিল্যান্ড, সেখানেও মুসলিম-বিদ্বেষী এক ক্রুসেডার জুমার নামাজের সময় মসজিদে ঢুকে গুলি চালিয়ে ৫০ জনকে হত্যা করেছে। এই কয়েকদিন আগে। এসবের প্রতিক্রিয়া হবে, বিশ্বব্যাপী জিহাদি তৎপরতা বাড়বে। ভারতীয় সরকারের উগ্র হিন্দুত্ববাদী আচরণ যে বাংলাদেশের মৌলবাদীদের সাহায্য করছে না, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।

প্রতিকার কী? প্রতিকার হচ্ছে রুখে দাঁড়ানো। সেটা একাকী বা কয়েকজন মিলে করার কোনো উপায় নেই। প্রতিরোধটা হওয়া চাই সুবিস্তৃত, সংঘবদ্ধ, ধারাবাহিক এবং সুস্পষ্ট লক্ষ্যাভিসারী। লক্ষ্যটা কী? লক্ষ্যটা হলো গোটা ব্যবস্থাটাকে বদলানো। ব্যবস্থাটা যে কেবল আমাদের দেশে চালু রয়েছে তা তো নয়; এটা এখন পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত। বাইরের জবরদস্তকারীরা দেশের জবরদস্তকারীদের নানাভাবে সাহায্য করছে, সমর্থন জোগাচ্ছে। প্রতিরোধ প্রয়োজন- তা যেমন দেশে, তেমনি একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিকভাবে।

কিন্তু তার আগে তো আবশ্যক হবে ব্যবস্থাটাকে পরিস্কারভাবে চেনা, তার স্বভাব-চরিত্র, কর্মপদ্ধতি জানা। ব্যবস্থাটা হচ্ছে পুঁজিবাদী। সভ্যতার জন্য তো বটেই, মানুষের মনুষ্যত্বের জন্যও যে পুঁজিবাদ এখন নিকৃষ্টতম শত্রুতে পরিণত হয়েছে। তার দৌরাত্ম্যে মানুষ, প্রকৃতি এবং সব প্রাণী আজ বিপন্ন। লড়াইটা তার বিরুদ্ধেই। এ লড়াইয়ে মানুষকে জিততে হবে এবং মানুষ অবশ্যই জিতবে। ব্যবস্থাটা টিকবে না। তখন পরিবর্তিত সেই ব্যবস্থায় বৃষ্টি ও দোলারা নিজেদের পাড়ায়-মহল্লাতেই সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ পাবে। বড় অনুষ্ঠানেও যাবে তারা, নির্ভয়ে। তাদের জন্য অগ্নিদগ্ধ হওয়ার কোনো শঙ্কা থাকবে না। তথাকথিত সংস্কারে যে কাজ হবে না, এটা আজ খুবই স্পষ্ট এবং লড়াইটা হবে রাজনৈতিক ফ্রন্টে, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ফ্রন্টেও অবশ্যই।

তাতে চুড়িহাট্টায় আগুনে নিহত বৃষ্টি এবং দোলাও থাকবে। বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে আটকেপড়া মানুষ বাঁচার জন্য সংগ্রাম করে অনেকেই পরাস্ত হয়েছেন ব্যবস্থাগত ত্রুটির কারণে। সংগ্রামটা নতুন নয়, এটি চলছে। বিশ্বের সর্বত্রই এখন পুঁজিবাদের নৃশংসতা চরম ফ্যাসিবাদী রূপ নিয়েছে। সব দেশেই মানুষ এর বিরুদ্ধে লড়ছে। লড়াইটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অত্যাবশ্যক। স্থানীয়ভাবে, আন্তর্জাতিকভাবেও। গোটা ব্যবস্থাটাই এখন পড়ো পড়ো; কিন্তু সে এমনি এমনি ভেঙে পড়বে না, তাকে জোরে ধাক্কা দেওয়ার প্রয়োজন হবে। কাজটা করতে হবে তাদেরই, যারা ব্যক্তিমালিকানার পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বদলে সামাজিক মালিকানার সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আপনাআপনি ভেঙে পড়লে ফল দাঁড়াবে চরম নৈরাজ্য, যার লক্ষণ এখন সর্বত্র ব্যাপ্ত।

শিক্ষাবিদ ও সমাজ বিশ্নেষক


মন্তব্য যোগ করুণ

সম্পাদকীয় ও মন্তব্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ