বাজারে অনিয়মই যেন নিয়ম

পণ্যমূল্য

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০১৯

বাজারে অনিয়মই যেন নিয়ম

  এম হাফিজ উদ্দিন খান

সামনে রমজান। রমজান মাসে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের নানা রকম অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতি থাকে। কিন্তু বরাবরই দেখা গেছে, কোনো বিশেষ উপলক্ষে বাজারের নাটাই থাকে অশুভ চক্রের হাতে। এ ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতি তো বটেই, অসাধু ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে কঠোর হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও তারা তা আমলে নেয় না। ৩ এপ্রিল একটি দৈনিকের শীর্ষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রমজানের আগেই বাজার অস্থির হয়ে উঠছে। আরও বলা হয়েছে, রমজানে কারসাজির শঙ্কা রয়েছে পেঁয়াজ নিয়ে। সরবরাহ পরিস্থিতি ও মজুদ ভালো থাকায় রমজানে প্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর মূল্য বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সরকারের সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীলরা। চাহিদা ও মজুদ পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করেই এ কথা বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদন থেকেই জানা গেল- ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, পেঁয়াজ, ডালসহ কয়েকটি ভোগ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে গত ছয় মাসে তেমন কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযোগ নেই এমন কয়েকটি পণ্যের মূল্য এরই মধ্যে বেড়ে গেছে স্থানীয় বাজারে। প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের অনুরোধ জানিয়েছেন রমজানে নিত্যপণ্যের মূল্য না বাড়াতে।

একই দিন আরেকটি দৈনিক পত্রিকায় 'বাজার বেজায় গরম' শিরোনামে সম্পাদকীয় লেখা হয়েছে। তারা বলেছে, 'দেশে যখন উপজেলা নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতি একেবারে নিরুত্তাপ, তখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য উত্তাপ ছড়িয়েছে প্রতিটি হেঁশেলে। বাজারের এই উত্তাপ নিম্নবিত্ত তো বটেই, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় ঝাঁকুনি দিয়েছে।' বিদ্যমান বাস্তবতায় ওই সম্পাদকীয় স্তম্ভে প্রশ্ন রাখা হয়েছে- 'নিয়ন্ত্রক সংস্থা টিসিবি কী করছে'? বাজারে এখন আলু ও পেঁয়াজ ছাড়া সব নিত্যপণ্যের দামই তুলনামূলক বেশি। মানুষের জীবনধারণের জন্য আলু-পেঁয়াজ ছাড়াও অন্য নিত্যপণ্যও প্রয়োজন। অধিকাংশ পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে সীমিত আয়ের মানুষ বিপাকে। বাজার মনিটরিংয়ের বিষয়টি ঘুরেফিরে আলোচনায় এলেও এ ব্যাপারে লাগাতার কোনো কর্মপরিকল্পনার প্রতিফলন দেখা যায় না। টিসিবির সক্ষমতাও বাড়ানো হয়নি। অসাধু ব্যবসায়ীরা যে কারসাজি করে ভোক্তা-ক্রেতাদের ভোগান্তি-বিড়ম্বনা বাড়ায়- এ বিষয়টিও নতুন কিছু নয়।

রোজা উপলক্ষে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়। এই অনিয়মই যেন বাজারের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতির যৌক্তিক নিয়ম হচ্ছে, সাধারণত চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ব্যবধান থাকলে পণ্যের দাম বাড়ে। গণমাধ্যম মারফত জানা গেছে, এবার রমজান সামনে রেখে চাহিদার অতিরিক্ত নিত্যপণ্য মজুদ আছে। আন্তর্জাতিক পণ্যবাজার স্থিতিশীল থাকার পরও আমাদের বাজারে আকস্মিক মূল্য বৃদ্ধির হেতুটা কী, অবশ্যই তা প্রশ্নের বিষয়। যেহেতু পাইকারি বাজারে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিরাজমান, সেহেতু খুচরা পর্যায়ের বাজারে এর বিরূপ প্রভাব পড়বেই। আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত বেশিরভাগ ব্যবসায়ী বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিয়ে অনৈতিক মুনাফা অর্জনের অশুভ প্রতিযোগিতা শুরু করে। আমাদের দেশে বাজারের ক্ষেত্রে 'সিন্ডিকেট' শব্দটি বহুল প্রচলিত। এর বিপরীতে সরকার কিংবা বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর দায়িত্বশীলরা এ ব্যাপারে তাদের কঠোর অবস্থানের কথা বললেও কার্যত তাদের ভূমিকা কিংবা কার্যক্রম নিয়ে ভোক্তার মনে প্রশ্ন আছে। অতীতের মতো এবারও হয়তো রমজানের আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীলরা বৈঠক করবেন। বৈঠকে ব্যবসায়ীরাও হয়তো যথারীতি বলবেন- এবার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে না। দায়িত্বশীলরাও হয়তো বলবেন, কেউ এ ক্ষেত্রে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালালে বরদাশত করা হবে না। রমজান মাসকে কেন্দ্র করে এমন প্রতিশ্রুতি-অঙ্গীকার নতুন কিছু নয়। যেখানে অসাধু ব্যবসায়ীদের দাপট এত বেশি এবং তাদের অনৈতিক ইচ্ছা এত প্রকট, সেখানে এসবই যে কথার কথা মাত্র- এর নজির তো আমাদের সামনেই রয়েছে। দুর্মুখেরা বলেন, সরকার চাইলেই এমন তুঘলকি কাণ্ড বন্ধ করতে পারে,

কিন্তু সরকারের সদিচ্ছা এ ব্যাপারে কতটা রয়েছে? এই প্রশ্নের জবাব সরকারের দায়িত্বশীলরাই ভালো দিতে পারবেন।

রমজানের ক'দিন আগে থেকেই বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের অশুভ তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। প্রতি বছর রমজান উপলক্ষে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে সরকারি সংস্থা টিসিবি খোলাবাজারে কিছু পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেয়। কিন্তু টিসিবির এই 'ট্রাকসেল' সিন্ধুর মাঝে বিন্দুর মতো। সঙ্গত কারণেই ধারণা করা যায়, এবারও অতীতের মতো বাজার নিয়ন্ত্রণে তারা তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে না। টিসিবির এই উদ্যোগ কার্যকর করতে যা প্রয়োজন তা হলো পরিসর ও পণ্যের বিক্রি বাড়ানো। রমজান সামনে রেখে টিসিবির এই কার্যক্রম বৃহৎ পরিসরে আগে থেকেই শুরু করা প্রয়োজন। নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের কথা ইতিমধ্যে নানা মহল থেকে বহুবার বলা হয়েছে এবং এ জন্য পরিকল্পিত ও দূরদর্শী উদ্যোগের রূপরেখাও তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এসবই থেকে গেছে কথার কথা হয়ে। এমতাবস্থায় এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক কিছু আশা করা দুরাশারই নামান্তর কি-না, প্রশ্ন থাকতে পারে এ নিয়েও।

আমাদের অভিজ্ঞতায় এও আছে, রমজান যত শেষের দিকে এগোবে তখন ঈদ সামনে রেখে বাজারে অস্থিরতা আরও এক দফা বাড়বে। আমরা হয়তো এও শুনব, দায়িত্বশীলরা এ ব্যাপারে সজাগ। কিন্তু মানুষ যদি সুফল পায় তাহলেই শুধু তাদের পরিকল্পনার সার্থকতার কথা বলা যাবে। মাত্রাতিরিক্ত মুনাফার লোভে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার অপক্রিয়া বন্ধে কি কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যায় না? চাল আমাদের বিদ্যমান বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি পণ্য। এর প্রয়োজন সর্বাগ্রে। চালের বাজার অশুভ চক্রের মুঠোবন্দি থাকে। এ ক্ষেত্রে আড়তদার, মজুদদার, পাইকার মিলে যে চক্র গড়ে উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে যত কথাই বলা হোক না কেন, এর সুফল মেলা ভার। গত বছর পেঁয়াজ নিয়ে কী রকম তুঘলকি কাণ্ড ঘটে গিয়েছিল, তা অনেকেরই মনে থাকার কথা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের অপকৌশল বন্ধ করতে দৃশ্যত সরকারের উদ্যোগ-আয়োজনের অনেক কথা শোনা গেলেও প্রকৃতপক্ষে কাজের কাজ কতটা হচ্ছে বা হবে- এ প্রশ্নের উত্তর তো নিহিত রয়েছে বিদ্যমান পরিস্থিতির মধ্যেই।

আগেই লিখেছি, অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে বাজারে যাচ্ছেতাই কাণ্ডকীর্তি চালাতে না পারে এ জন্য টিসিবিকে শক্তিশালী করার তাগিদ ইতিমধ্যে বহুবার নানা মহল থেকে এসেছে। কিন্তু এ ব্যাপারে আশানুরূপ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শুধু যে পণ্যদ্রব্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাই নয়, গ্যাসের দাম বাড়ানোর কথাও শোনা যাচ্ছে। এমনটি হলে জনজীবন ও শিল্প খাতে আরও বিরূপ প্রভাব পড়তে বাধ্য। অর্থনীতির সূত্রমতে, উৎপাদন ব্যয় ছাড়াও জিনিসপত্রের দাম বাজারের চাহিদা-জোগানের ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করে। জীবনযাত্রার অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে বহুবিধ কারণ রয়েছে। বাজার বিশ্নেষকদের অভিমত, প্রয়োজনীয় খাতে ভর্তুকি হ্রাসের বিরূপ প্রভাবও রয়েছে। একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫৮ লাখ ২৩ হাজার টন খাদ্যশস্য (চাল ও গম) আমদানি করা হয়েছিল, যা ছিল ওই সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ আমদানি। ওই প্রতিবেদনেই বলা হয়েছিল, এর পরের অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে খাদ্যশস্য আমদানির পরিমাণ ওই পরিমাণও ছাড়িয়ে যায়।

সরকার রমজানে পণ্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার কথা বললেও বাস্তব চিত্র অনেক প্রশ্নই দাঁড় করায়। কারণ ছাড়া বাজারের এই অস্থিতিশীলতা মেনে নেওয়া যায় না। সরকারকে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ ও বাজার নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য সবকিছু নিশ্চিত করতে নির্মোহ অবস্থান নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়নসহ বাজারের ওপর সরকারের নজরদারি বৃদ্ধি করা ও অসাধু ব্যবসায়ীদের মূলোৎপাটন ভিন্ন গত্যন্তর নেই। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা কিংবা সাধারণ মানুষের আয়ত্তে রাখতে হলে শুধু কমিটমেন্টই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

এটা সত্য যে, দেশের মানুষের আয় বাড়ছে। কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে আয়ের তুলনায় কয়েক গুণ- তাও তো অসত্য নয়। মানুষের সঞ্চিত অর্থে হাত পড়ছে এবং আয় বাড়া সত্ত্বেও সমাজে এ জন্য ইতিবাচক প্রভাব যেভাবে পরিলক্ষিত হওয়ার কথা সেভাবে হচ্ছে না। মূল্য বৃদ্ধির কারণে ১৬ কোটির মধ্যে ১২ কোটি মানুষকেই অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ৭৫ শতাংশকেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়- এ কথা জানা গিয়েছিল গত বছর বাংলাদেশ কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশনের (ক্যাব) প্রতিবেদনে। খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের চড়া মূল্য তাদের বাড়তি আয় খেয়ে ফেলছে। সর্বাধিক বিরূপ প্রভাব পড়ছে অতি দরিদ্র দুই কোটি মানুষের ওপর।

রমজানে বাজারে যে বৈরী পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, এর পশ্চাৎ কারণ যেহেতু অজানা নয়, সেহেতু বিষয়টির প্রতিকার নিশ্চিত করাও কঠিন হওয়ার কথা নয়। বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি কঠোর আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন অতি মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের। একই সঙ্গে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে মজুদ বৃদ্ধি ও সিন্ডিকেটের কারসাজির দিকেও কড়া নজর রাখতে হবে। দৃষ্টি দিতে হবে একেবারে উৎসে। বাজারে চালাতে হবে নিয়মিত অভিযান। একই সঙ্গে বিকল্প শক্তিশালী সরবরাহ ও বিক্রির ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। বাজারে যারা তুঘলকি কাণ্ড চালায় তাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন নয়, যদি সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীলরা এ ব্যাপারে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠ থাকেন। তবে সাধারণ মানুষ এত কিছু জানতে কিংবা বুঝতে চাইবে না। তারা চায় স্থিতিশীল বাজার অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহনীয় মূল্যের মধ্যে থাকুক।

বাজারে পর্যাপ্ত পণ্যের মজুদ আছে, তারপরও কেন মূল্য বাড়ছে- এর কারণগুলো অনুসন্ধান করা জরুরি। আমরা প্রত্যাশা করি, এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের যথাযথ সহযোগিতা মিলবে। আরও একটি বিষয় আমলে নিতে হবে। ব্যবসায়ীরা একাধিকবার বলেছেন, রমজান উপলক্ষে চাঁদাবাজি বেড়ে যায় এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ভোগ্যপণ্যের মূল্যের ওপর। তাদের এ অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। চাঁদাবাজদের শিকড় উৎপাটনেও বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। তাদের দমন করা না গেলে বাজারকে এর বিরূপ প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা যাবে না। রমজান মাসে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজির যে পাঁয়তারার কথা পত্রিকায় প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এর প্রতিকার নিশ্চিত করতে আগেভাগেই নেওয়া হোক যথাযথ ও কার্যকর পদক্ষেপ। অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করার অপচেষ্টা থামাতেই হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সভাপতি, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন


মন্তব্য

সম্পাদকীয় ও মন্তব্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ